১ অক্টোবর থেকে ২২ অক্টোবর পর্যন্ত সারাদেশের মতো মুন্সীগঞ্জেও ইলিশ মাছ ধরা নিষিদ্ধ। তবে এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা অন্য জেলার মৎসজীবীরা এই তিন সপ্তাহের জন্য চাল পেলেও মুন্সীগঞ্জের জেলেদের জন্য তার বরাদ্দ নেই। গত বছরের চিত্রও ছিল একইরকম। আবার অন্য জেলাগুলোতে এই সময়ে জেলেদের জন্য বিকল্প কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হলেও স্থানীয় প্রশাসন বা মৎস অধিদফতর থেকে মুন্সীগঞ্জের জেলেদের জন্য সেই ব্যবস্থাও করা হয়নি। এ নিয়ে জেলেরা রয়েছেন হতাশার মধ্যে। জেলেদের বরাদ্দ না পাওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে নিয়েছে জেলা মৎস বিভাগও। তবে জেলার খামার কর্তৃপক্ষ বলছে, তারা জেলেদের জন্য বিকল্প কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করার চেষ্টা করছে।
জেলা মৎস বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, মুন্সীগঞ্জের ৯ হাজার ৮১৩ জন মৎসজীবীর মধ্যে প্রায় তিন হাজার জেলে ইলিশ মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করে থাকেন। জাটকা নিধন বন্ধ করার সময় এর মধ্যে ২ হাজার ৩৩৫ জন জেলে ভিজিএফের আওতায় ৪০ কেজি করে চাল পেয়ে থাকেন। তবে অক্টোবরের এই তিন সপ্তাহে তারা সেই সুবিধা থেকে বঞ্চিত হন।
জেলা খামার ব্যবস্থাপক শাহজাহান আনিসুর রহমান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘ভিজিএফের আওতায় যাদের চাল দেওয়া হয়, সেটা জাটকা নিধন বন্ধের সময়ের জন্য। মা ইলিশ রক্ষার জন্য অক্টোবরের ১ তারিখ থেকে ২২ তারিখ পর্যন্ত ইলিশ ধরা বন্ধ থাকাকালে এই সুবিধা দেওয়া হয় না। গত বছরও মন্ত্রণালয় থেকে এই জেলায় চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়নি। অন্য কোনও বিকল্প কর্মসংস্থানের ব্যবস্থাও আমরা করতে পারিনি। তবে আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।’
জেলা মৎস কর্মকর্তা ড অলিউর রহমান বলেন, ‘ইলিশ না ধরার বিপরীতে জেলেদের জন্য গত বছরের মতোই কোনও চালের বরাদ্ধ আসেনি। তবে আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।’ তিনি আরও বলেন, ‘সরকার এখন রোহিঙ্গাদের ত্রাণ দিচ্ছে। আমরা তাই আশঙ্কা করছি, জেলেদের জন্য সরকার হয়তো আর চালের বরাদ্দ বাড়াবে না।’
এদিকে, চালের বরাদ্দ এবং বিকল্প কোনও কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা না থাকরেও নদীতে ইলিশ মাছ ধরতে নামা জেলেদের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে নিয়মিত অভিযান চালাচ্ছে জেলা প্রশাসন ও জেলা মৎস অফিস। এর মধ্যে মঙ্গলবার (৩ অক্টোবর) আইন অমান্য করে ইলিশ মাছ ধরার অপরাধে নাসির (২৬) নামে এক জেলেকে পাঁচ দিনের কারাদণ্ড দেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। বুধবারও জেলার বিভিন্ন স্থানে পাঁচটি অভিযান পরিচালনা করা হয় বলে জানিয়েছেন জেলা খামার ব্যবস্থাপক শাহজাহান আনিসুর রহমান। তিনি বলেন, ‘পাঁচটি অভিযানে দুই জেলের বিরুদ্ধে দুইটি মামলা দায়েরসহ তাদের জরিমানা করা হয় ১০ হাজার টাকা। এসময় ২০৫ কেজি ইলিশ আটক করা হয়। এগুলো স্থানীয় এতিমখানায় বিতরণ করা হয়।’ এছাড়া, মোট এক লাখ মিটার জাল আটক করা হয় বলেও জানান তিনি।
এদিকে, জেলার টঙ্গিবাড়ী উপজেলার বালিগাও থেকে ১১০ কেজি ইলিশসহ এক ব্যবসায়ীকে আটক করেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. কাবেরুল ইসলামের নেতৃত্বে পরিচালিত আদালত ওই ব্যবসায়ীকে পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করেন।
আরও পড়ুন-
গাজীপুরে নিখোঁজের ২৫ দিন পর কিশোরের লাশ উদ্ধার
লাইসেন্স নেওয়ার নির্দেশ জানানো হয়নি, অভিযোগ হবিগঞ্জের চাল ব্যবসায়ীদের








