মাগুরায় চালের লাইসেন্স ও মজুতের হিসাব নিয়ে ব্যবসায়ীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া

মাগুরা প্রতিনিধি
০৭ অক্টোবর ২০১৭, ১৪:৪০আপডেট : ০৭ অক্টোবর ২০১৭, ১৪:৪০

মাগুরায় চালের লাইসেন্স ও মজুতের হিসাব নিয়ে ব্যবসায়ীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া

সম্প্রতি চালের বাজার অস্থির হয়ে ওঠায় বেশকিছু পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার। যার মধ্যে রয়েছে ওএমএস চালু, চাল আমদানিকরণ, চালের আমদানি শুল্ক হ্রাস, চাল মিল আড়ত ও গুদামে মজুদ বিরোধী অভিযান ইত্যাদি। সরকারের এ সব পদক্ষেপ বেশ খানিকটা ফলপ্রসূ হয়েছে। এরইমধ্যে বাজারে চালের দাম কমতে শুরু করেছে। সর্বশেষ পদক্ষেপ হিসেবে সরকার আগামী ৩০ অক্টোবরের মধ্যে চাল, গম আমদানিকারক মিলার আড়তদার ও ব্যবসায়ীদের লাইসেন্স নেওয়াসহ প্রতি পনের দিন পর তাদের মজুদের পরিমাণ জানানোর নির্দেশ দিয়েছে। সরকারি এ সিদ্ধান্তের ব্যাপারে মিলার, অড়তদার, পাইকারি ও খুচরা ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া পাওয়া গেছে।

লাইসেন্স ফি যেন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের নাগালের মধ্যে থাকে এ দাবি জানিয়ে পুরাতন বাজারের খুচরা চাল ব্যবসায়ী সঞ্জয় দত্ত বলেন, ‘লাইসেন্স নেওয়া ও মজুদের পরিমাণ জানানোর নির্দেশকে আমরা স্বাগত জানাই। কেননা, সাধারণ মানুষ মিলার বা আড়তদারের কাছ থেকে চাল কেনে না। তারা আমাদের মত খুচরা ব্যবসায়ীদের কাছেই আসে। তাই বাজারে চালের দাম বাড়লে আমরাই সাধারণ মানুষের তোপের মুখে পড়ি। চালের বাজার অস্থিতিশীল করার পেছনে মূলত আমদানিকারক, মিলার ও অড়তদাররাই দায়ী। সম্প্রতি কুষ্টিয়াসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে অভিযানে চালিয়ে যে বিপুল পরিমাণ চাল উদ্ধার হয়েছে তা মূলত মিলার ও আড়তদারদের গুদাম থেকে, কোনও খুচরা ব্যবসায়ীর গুদাম থেকে নয়। সরকারের এই নির্দেশে খুচরা ব্যবসায়ীরা খুশি।

মাগুরার নতুন বাজারের চালের আড়তদার গোপাল কুন্ডু জানান, যেহেতু আমরা আড়তদার তাই অনেক ক্ষেত্রেই চাল এক মাসের বেশি অবিক্রিত থেকে যায়। এসব চাল আমাদের গোডাউনে থেকে যায়। সে ক্ষেত্রে আমরা যেন আইনের যাতাকলে না পড়ি তা দেখতে হবে। কোন মজুদ অসৎ উদ্দেশ্যে তা সরকারকে বুঝতে হবে।

মাগুরা নতুন বাজার এলাকার পাইকারি ব্যবসায়ী উদয় সাহা বলেন, ‘প্রকৃতপক্ষে কিছু অসাধূ ব্যবসায়ী চাল কারসাজির সঙ্গে জড়িত। অথচ এই দুর্নাম আমাদের মত নিরপরাধ পাইকারদের সহ্য করতে হয়। তাই আমরা সরকারের এই সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানাই। তবে একজন ব্যবসায়ী একশ’ মন ধান মজুদ রেখে খাদ্য বিভাগকে যেন এক মন বলে পার না পায়। যথাযথ মনিটরিং নিশ্চিত করতে হবে। আইন জারি করা থেকে বড় কথা হলো আইনের সুষ্ঠু প্রয়োগ।

মাগুরা শহরের নান্দুয়ালী এলাকার মিলার সারোয়ার হোসেন বলেন, ‘সরকারের এ সিদ্ধান্ত ইতিবাচক বলে আমরা মনে করি। তবে পাশাপাশি কিছু জটিলতাও রয়েছে। ১৯৫৬ সালের ‘কন্ট্রোল অব এসেনশিয়াল কমোডিটি অ্যাক্ট’ অনুযায়ী একজন ব্যবসায়ী সর্বোচ্চ ৩০ দিন চাল বা গম মজুদ রাখতে পারবে। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রেই ব্যবসায়ীরা আমাদের মিলে চাল ভাঙিয়ে ৬ মাসও ফেলে রাখে। সে ক্ষেত্রে কর্তৃপক্ষ অভিযান চালিয়ে ব্যবসায়ীর চাল মিলারের মজুদ বলে চালায়। তখন আমরা কি জবাব দেব? আইন বাস্তবায়নের ফলে কোনও ব্যবসায়ী যাতে অহেতুক হয়রানির শিকার না হয়, তা লক্ষ্য রাখতে হবে।’

আরও পড়তে পারেন: নিখোঁজের দুই দিন পর এক জেলের লাশ উদ্ধার



/জেবি/
সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
আর্জেন্টিনা আরও চার ফুটবলারকে প্রস্তুত রাখছে
আর্জেন্টিনা আরও চার ফুটবলারকে প্রস্তুত রাখছে
কুমিরের আক্রমণে সন্তানের মৃত্যুর পর ফজিলাকে খুঁজে পেলো পরিবার
কুমিরের আক্রমণে সন্তানের মৃত্যুর পর ফজিলাকে খুঁজে পেলো পরিবার
ট্রাফিক আইন সবার জন্য সমান, পুলিশ সদস্য হলেও ব্যবস্থা: ডিএমপি কমিশনার
ট্রাফিক আইন সবার জন্য সমান, পুলিশ সদস্য হলেও ব্যবস্থা: ডিএমপি কমিশনার
ফ্রিল্যান্সারদের আয় থেকে সাড়ে ৭ শতাংশ কর কাটা নিয়ে যা বলছে এনবিআর 
ফ্রিল্যান্সারদের আয় থেকে সাড়ে ৭ শতাংশ কর কাটা নিয়ে যা বলছে এনবিআর 
সর্বাধিক পঠিত
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
দায়িত্ব ছাড়ার প্রসঙ্গে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর উদাহরণ টানলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
দায়িত্ব ছাড়ার প্রসঙ্গে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর উদাহরণ টানলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
যুদ্ধবিরোধী প্রস্তাব পাসের পর এবার কী ঘটবে ইরানে
যুদ্ধবিরোধী প্রস্তাব পাসের পর এবার কী ঘটবে ইরানে
শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ড: নিজেকে নির্দোষ দাবি ডলারের
শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ড: নিজেকে নির্দোষ দাবি ডলারের