বরিশালের কীর্তনখোলা নদীর ভাঙন রোধের দাবিতে নৌ-বন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন ভুক্তভোগীরা। বুধবার (২৫ অক্টোবর) দুপুরে কীর্তনখোলা নদীর পূর্ব তীরে চরকাউয়া খেয়াঘাটের কাছে এ কর্মসূচি পালন করা হয়।
‘পূর্বাঞ্চলীয় উন্নয়ন পরিষদ’র ব্যানারে এ কর্মসূচি পালন করা হয়। এতে ভাঙন প্রতিরোধে ব্যবস্থা গ্রহণ ছাড়াও ভাঙন কবলিত ও বাস্তুভিটাহারাদের পুনর্বাসনের দাবি জানানো হয়।
পূর্বাঞ্চলীয় উন্নয়ন পরিষদের আহ্বায়ক বরিশাল জেলা পরিষদের সদস্য মুনাওয়ারুল ইসলাম অলি’র সভাপতিত্বে এ কর্মসূচিতে বক্তব্য রাখেন, চরকাউয়া ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান ও কোতোয়ালী আওয়ামী লীগের সভাপতি মনিরুল ইসলাম ছবি, পূর্বাঞ্চলীয় উন্নয়ন পরিষদের সচিব মো. মানিক মৃধা, ইউপি সদস্য এনামুল হক সাগর, সফিকুল ইসলাম লিটু তালুকদার, ইকবালুর রহমান বাবুল খাঁ, আ. হালিম মুন্সি, সংরক্ষিত ইউপি সদস্য ফিরোজা বেগম, প্রাক্তন ইউপি সদস্য মো. বাদল হোসেন, আলহাজ কেরামত আলি হাওলাদার, চরকাউয়া বাস মালিক সমিতির সদস্য শাহাদৎ হোসেন হাওলাদার, উন্নয়ন পরিষদ সদস্য সেলিম হাওলাদার, চরকাউয়া মাঝিমাল্লা সমিতির সভাপতি ওমর আলি, চরকাউয়া ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি আ. মালেক হাওলাদার, সাধারণ সম্পাদক মো. বারেক হাওলাদার প্রমুখ।
বক্তারা বলেন, কয়েক বছর ধরে কীর্তনখোলা নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে চরকাউয়া ইউনিয়নের পাঁচটি মৌজার চারটি গ্রামের কয়েক হাজার একর জমিসহ কয়েকশ’ বাড়িঘর। এখন হুমকির মুখে রয়েছে চরকাউয়া ইউনিয়ন পরিষদ ভবন, ঐতিহ্যবাহী চরকাউয়া আহমদিয়া ফাজিল মাদ্রাসা, তোফায়েল আহম্মেদ মাধ্যমিক বিদ্যালয়, সরকারি প্রাইমারি স্কুল, কমিউনিটি ক্লিনিক হসপিটাল, হাট-বাজারসহ মানুষের চলাচলের পথ। এভাবে কীর্তনখোলার ভাঙন অব্যাহত থাকলে শহীদ আ. রব সেরনিয়াত সেতু, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় এবং বরিশাল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠন নদী ভাঙনের শিকার হবে।
তারা আরও বলেন, প্রায় দু’বছর আগে ‘বাংলাদেশের নদীর তীর সংরক্ষণ প্রকল্প’ (ডিপিপি) অনুমোদনের জন্য ঢাকায় পাঠিয়েছে (স্বারক নং-টি ২৯/১৯২৭, তাং ১৭-১২-১৫ইং) পানি উন্নয়ন বোর্ড। কিন্তু অজ্ঞাত কারণে আজ পর্যন্ত এ প্রকল্প অনুমোদন ও বাস্তবায়নে কোনও অগ্রগতি না হওয়ায় কীর্তনখোলার ভাঙনে চরকাউয়া ইউনিয়ন বরিশালের মানচিত্র থেকে হারিয়ে যাওয়ার পথে।
বক্তারা বরিশাল সদর উপজেলার চরকাউয়া খেয়াঘাট থেকে জনতার হাট পর্যন্ত তিন কিলোমিটার এলাকায় শহর রক্ষা বাঁধের (ফেজ-৪) পূর্ণ বাস্তবায়নসহ অবিলম্বে চরকাউয়া এলাকায় স্থায়ীভাবে বাঁধ নির্মাণের জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ডের কাছে দাবি জানান।
বক্তারা বলেন, নদী ভাঙন বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ড কোনও ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে পূর্বাঞ্চলীয় উন্নয়ন পরিষদ জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারক লিপি প্রদান, পানি উন্নয়ন বোর্ড ঘেরাওসহ নগরীতে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করবে।







