শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জে একাধিক নারীকে ধর্ষণ ও ধর্ষণের ভিডিও ইন্টারনেটে ছড়ানোর ঘটনায় সেই ছাত্রলীগ নেতার বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলা হয়েছে। ঘটনার শিকার এক গৃহবধূ শনিবার (১১ নভেম্বর) সন্ধ্যায় ভেদরগঞ্জ থানায় মামলাটি দায়ের করেন।
মামলার বিবরণে উল্লেখ করা হয়, আসামি আরিফ হাওলাদার তার স্বামীর আত্মীয় হওয়ায় এবং কাছাকাছি বাড়ি হওয়ায় মাঝে মধ্যেই তার শ্বশুর বাড়িতে আসতো। তার স্বামী বিদেশ যাওয়ার পর গত ১ মার্চ রাত সাড়ে ১০ টার দিকে আরিফ হঠাৎ তার ঘরে ঢুকে পড়ে। পরে আপত্তিকর ভিডিও করতে থাকে। একপর্যায়ে এই ভিডিও নেটে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে তাকে ধর্ষণ করে।
মামলার বাদী ওই গৃহবধূ বলেন, ‘মান-সম্মানের ভয়ে এতদিন কাউকে কিছু বলিনি। এখন ভিডিও নেটে ছেড়ে দেওয়ায় আমার সব শেষ হয়ে গেছে। আমার মতো অনেক মেয়ের সর্বনাশ করেছে আরিফ। ওর মতো অপরাধীর বিচার নিশ্চিত করার জন্য মামলা করেছি।’
সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার থান্ডার খায়রুল হাসান বলেন, ‘ছাত্রলীগ নেতা আরিফ হাওলাদারের বিরুদ্ধে এক গৃহবধূ একটি ধর্ষণ মামলা করেছেন। পুলিশ আসামিকে গ্রেফতারের সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।’
ভেদরগঞ্জ উপজেলার নারায়নপুর ইউনিয়ন ছাত্রলীগের বহিষ্কৃত সাধারণ সম্পাদক আরিফ হাওলাদার গোপনে একাধিক মেয়ের আপত্তিকর ছবি ভিডিও করে এবং ওই ভিডিও নেটে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে তাদের ধর্ষণ করে। এসব ধর্ষণের ছবিও গোপনে ভিডিও করে রাখে। লোকলজ্জার ভয়ে ঘটনার শিকার নারীরা এসব কথা কাউকে না বললেও সম্প্রতি ওই সব ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওগুলোতে গৃহবধূ ও কলেজছাত্রীসহ ছয় জন নারীর সঙ্গে আরিফকে আপত্তিকর অবস্থায় দেখা গেছে। ভুক্তভোগী ছয় নারীর মধ্যে চার জনের পরিচয় জানা গেলেও দুই জনের পরিচয় এখনও জানা যায়নি। এ ঘটনায় ১০ নভেম্বর সংগঠন থেকে আরিফকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করে শরীয়তপুর জেলা ছাত্রলীগ। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভিডিওগুলো ভাইরাল হয়ে যাওয়ার পর থেকে আরিফ পলাতক রয়েছে।
আরও পড়তে পারেন: ধর্ষণের ভিডিও নেটে, অভিযুক্ত ছাত্রলীগ নেতাকে খুঁজছে পুলিশ








