পানির অভাবে এক দম্পতির মানবেতর জীবনযাপন

রায়হানুল ইসলাম আকন্দ, গাজীপুর
১৯ জানুয়ারি ২০১৮, ১৮:৪০আপডেট : ১৯ জানুয়ারি ২০১৮, ১৮:৪৫

হোসেন আলী ও তার স্ত্রী সাহারা খাতুন পানির অভাবে মানবেতর জীবন-যাপন করছেন এক বৃদ্ধ দম্পতি। দৈনন্দিন ব্যবহার ও পান করার পানি পাচ্ছেন না তারা। নিজেদের টিউবওয়েল নেই। পুকুরও নেই। প্রতিবেশীরাও সহায়তা করছেন না তাদের। তিন ছেলেও তাদের ছেড়ে চলে গেছেন। গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার মাওনা ইউনিয়নের সিংদিঘী গ্রামে মানবেতর জীবনযাপন করছেন এই দম্পতি।

ঝুঁকিপূর্ণ একটি ঘরে কোনোভাবে জীবনের শেষ বেলা কাটাচ্ছেন হোসেন আলী (৭০)। জীবন সায়াহ্নে এখন তার একমাত্র সঙ্গী স্ত্রী সাহারা খাতুন। উভয়ের শরীরে বেঁধেছে নানা ধরনের ব্যাধি। খেয়ে না খেয়ে দিন কাটলেও এই দম্পতির এখন প্রধান সমস্যা সুপেয় পানির অভাব।

হোসেন আলী অন্যের বাড়িতে দিনমজুরের কাজ করে তিন ছেলেকে বড় করেছেন। সন্তানরা বিয়ে করার পর বাবা-মাকে ছেড়ে চলে গেছেন। জন্মের পর থেকে অভাব পিছু ছাড়েনি হোসেন আলীর। সেকারণেই আজও নিজের বাড়িতে পানির যোগান মেটাতে একটি টিউবওয়েলের ব্যবস্থা করতে পারেননি তিনি। ভরসা ছিল প্রতিবেশীরা। তারাও এখন মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে। অসুস্থ শরীর নিয়ে হোসেন আলী দিনের বেশিরভাগ সময় কাটান পানির চিন্তায়। তার স্ত্রী সাহারা খাতুন স্থানীয় একটি কিন্ডারগার্টেনে মাসিক ৮০০ টাকা বেতনে ঝাড়ুদারের কাজ করেন। দুই সদস্যের পরিবারে আয়ের একমাত্র মাধ্যম এটাই। স্থানীয় একটি পুকুরের পানি ও দূরের প্রতিবেশীদের কাছ থেকে সংগৃহীত পানি দিয়ে কোনোরকমে দিন অতিবাহিত হচ্ছে তাদের।

হোসেন আলীর প্রতিবেশী ও সিংদিঘী গ্রামের বাসিন্দা মামুন প্রিয়া বলেন, ‘প্রতিদিনই অসুস্থ শরীর নিয়ে দূর থেকে কলসে করে পানি এনে পরিবারের চাহিদা মেটান বৃদ্ধ হোসেন আলী। এই দুরাবস্থা দেখে আমার খুব খারাপ লাগে।’

সত্তর বছরের বৃদ্ধ হোসেন আলী বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, ‘গত কয়েক বছর যাবৎ অসুস্থ থাকায় কাজে যেতে পারেন না তিনি। স্ত্রীর সামান্য আয়ের ওপর নির্ভর করে তাদের চলতে হয়। একবেলা খাবার না খেলেও চলে। কিন্তু পানি ছাড়াতো আর চলে না।’ তিনি বলেন, ‘প্রতিবেশীদের বাড়িতে একদিন পানি আনতে গেলে পরের দিন তারা না করে দেয়। তাই দূর থেকে পানির চাহিদা মেটাতে হয়। জীবনের এই শেষ বেলায় এসে পানির অনেক কষ্ট করতে হচ্ছে।’

হোসেন আলীর স্ত্রী সাহারা খাতুন জানান, পানির অভাবে সপ্তাহে একদিনও গোসল জোটে না। কাপড়-চোপড় স্থানীয় একটি পুকুরের পানি দিয়ে ধুতে হয়। তবে একটি টিউবওয়েলের ব্যবস্থা হলে খুব উপকার হতো।

এ প্রসঙ্গে মাওনা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. জাহাঙ্গীর আলম খোকন বলেন, ‘বিষয়টি আমার জানা ছিল না। তবে এই পরিবারের জন্য সুপেয় পানির যোগান ও তাদের কষ্ট লাগবে খুব দ্রুত একটি টিউবওয়েলের ব্যবস্থা করা হবে।’

শ্রীপুর উপজেলা জনস্বাস্থ্য অধিদফতরের সহকারী প্রকৌশলী মো. হাবিবুর রহমান বলেন, ‘ওই বৃদ্ধের পক্ষ থেকে আবেদন করলে আমি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে প্রথমেই তাকে টিউবওয়েল দেওয়ার ব্যবস্থা করবো।’ তিনি জানান, টিউবওয়েল বরাদ্দ দিয়ে থাকেন সংসদ সদস্য ও উপজেলা চেয়ারম্যান। তাদের সঙ্গে কথা বলে যত দ্রুত সম্ভব ওই পরিবারকে টিউবওয়েল দিয়ে পানি সমস্যার সমাধান করা হবে।

শ্রীপুর উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুল জলিল বলেন, ‘বৃদ্ধ ও তার পরিবার যে পানির অভাবে আছেন, এটা কেউ আমাকে অবহিত করেনি। এখন টিউবওয়েলের বরাদ্দ নেই। তারা আবেদন করে রাখলে, টিউবওয়েল আসা মাত্রই অগ্রাধিকার ভিত্তিতে তাদেরকে টিউবওয়েল বরাদ্দ দেওয়া হবে।’

গাজীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য সাবেক মন্ত্রী রহমত আলী বলেন, ‘নিয়ম অনুযায়ী আমার কাছে আবেদন করলে আমি যত দ্রুত সম্ভব টিউবওয়েল দেওয়ার ব্যবস্থা করবো।’

 

 

/এনআই/ এপিএইচ/
সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
মন্ত্রিত্ব ছাড়া দীপেন দেওয়ান লিখলেন ‘বিএনপি আমার শেষ ঠিকানা’
মন্ত্রিত্ব ছাড়া দীপেন দেওয়ান লিখলেন ‘বিএনপি আমার শেষ ঠিকানা’
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
পঞ্চগড়ে ভাগনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও মামিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা
পঞ্চগড়ে ভাগনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও মামিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা
সর্বাধিক পঠিত
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম