বৃহস্পতিবার (১ ফেব্রুয়ারি) সারাদেশে একযোগে শুরু হয়েছে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা। সারাদেশের মতো ঢাকা বোর্ডেও প্রথম দিনের বাংলা প্রথমপত্রের প্রশ্নপত্র ‘ক’ সেট হলেও টাঙ্গাইলের দেলদুয়ার উপজেলায় সৃজনশীল পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে ‘খ’ সেটে। অভিন্ন প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নেওয়ার কথা থাকলেও উপজেলার ৩ হাজার ১১৯ জন পরীক্ষার্থী ভিন্ন প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা দিয়েছে। ঘটনাটি ছড়িয়ে যাওয়ার পর থেকেই সবার আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
জানা গেছে, সারাদেশে ক সেটের ‘জবা’ প্রশ্নপত্র দিয়ে বাংলা প্রথম পত্রের সৃজনশীল অংশের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। আর দেলদুয়ারে একই পরীক্ষা নেওয়া হয় খ সেটের ‘গাঁদা’ প্রশ্নপত্র দিয়ে। তবে বাংলা প্রথম পত্রের বহুনির্বচনি অভীক্ষার প্রশ্নপত্র নিয়ে কোনও অভিযোগ পাওয়া যায়নি।
এ ব্যাপারে পরীক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, কেন্দ্রে থাকা অবস্থায় তারা বিষয়টি না জানলেও পরীক্ষা শেষে জানতে পারে, শুধু দেলদুয়ার উপজেলাতেই বাংলা প্রথমপত্রের সৃজনশীল পরীক্ষা ‘খ’ সেটের ‘গাঁদা’ প্রশ্নপত্র দিয়ে নেওয়া হয়েছে। সারাদেশ থেকে তাদের প্রশ্নপত্র কেন আলাদা হলো, আলাদা প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা দেওয়ায় এখন তাদের পরীক্ষার খাতা কীভাবে মূল্যায়ন করা হবে—এসব নিয়ে চিন্তার ভেতরেই আজ বাংলা দ্বিতীয় পত্রের পরীক্ষা দিয়েছে তারা। অভিভাবকরাও বিষয়টি নিয়ে উদ্বিগ্ন।
জানা যায়, পরীক্ষা শুরুর আগে নির্ধারিত সময়ে প্রশ্ন বের করার সময় ‘ক’ সেটের পরিবর্তে ‘খ’ সেটের প্রশ্নপত্র বের করা হয়েছিল।
পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকরা বলছেন, পরীক্ষার খাতা যদি ‘খ’ সেটের মাধ্যমে মূল্যয়ন করা না হয় সেক্ষেত্রে বহুনির্বচনি (এমসিকিউ) পরীক্ষার উত্তর সম্পূর্ণ ভিন্ন হতে পারে। এছাড়া সৃজনশীল অংশের খাতা ‘ক’ সেটের প্রশ্ন অনুসারে মূল্যায়ন করা হলে ফলাফল মিলবে না। ‘ক’ সেটের পরিবর্তে ‘খ’ সেটের প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নেওয়া খাতাগুলো বোর্ড কীভাবে মূল্যায়ন করবে এ নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছে। শনিবার (৩ ফেব্রুয়ারি) বাংলা দ্বিতীয়পত্রের পরীক্ষার আগেও কেন্দ্রের সামনে পরীক্ষার্থীদের এসব আলোচনা করতে দেখা গেছে।
এ ব্যাপারে দেলদুয়ার উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মুজিবুল আহসান জানান, দেলদুয়ার উপজেলায় মোট পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ৩ হাজার ১১৯ জন। এর মধ্যে এসএসসি ২ হাজার ৬৩৮ জন, দাখিল ২৭০ জন এবং কারিগরি বোর্ডের অধীনে ২১১ জন পরীক্ষার্থী রয়েছে। বাংলা প্রথমপত্রের পরীক্ষা ‘খ’ সেটের ‘গাঁদা’ প্রশ্নপত্রে নেওয়া হয়েছে বলেও জানেন ওই শিক্ষা কর্মকর্তা। তবে কেন বা কিভাবে ‘ক’ সেট প্রশ্নপত্রের পরিবর্তে ‘খ’ সেট প্রশ্নপত্র এসেছে সেই ব্যাপারে কিছুই জানা নেই বলেও জানান তিনি।
‘ক’ সেটের পরিবর্তে ‘খ’ সেটের প্রশ্নপত্র বিতরণ প্রসঙ্গে শিক্ষা অফিসার মুজিবুল আহসান আরও বলেন, ‘এ বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার দায়িত্বে। তিনিই বিষয়টি সম্পর্কে ভালো বলতে পারবেন।’
দেলদুয়ার উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোছা. আক্তারুন্নেছা জানান, পরীক্ষা চলাকালে আমরা নিজেরাও জানতাম না অন্যান্য জায়গায় ‘ক’ সেটে পরীক্ষা হচ্ছে। পরে বিষয়টি জানতে পেরে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করি। এরপর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ আমাদের জানায়- দেলদুয়ারের জন্য ‘খ’ সেট নির্ধারিত ছিল। এ তথ্য জানার পর আমরা আশ্বস্ত হই।
এ প্রসঙ্গে দেলদুয়ার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাবিনা ইয়াসমিন বলেন, ‘যেকোনোভাবেই হোক না কেন, দেলদুয়ারে প্রথম দিনের বাংলা প্রথমপত্রের পরীক্ষা ‘খ’ সেট প্রশ্নপত্রে নেওয়া হয়েছে। তবে পরীক্ষার্থীদের এ নিয়ে বিব্রত হওয়ার প্রয়োজন নেই। আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ এমনকি বোর্ডের সঙ্গে কথা বলেছি, দেলদুয়ার উপজেলার পরীক্ষার্থীদের প্রথম দিনের বাংলা প্রথমপত্রের পরীক্ষা খাতা আলাদা করে দেখা হবে।’
এ সংক্রান্ত আরও খবর: বাংলা দ্বিতীয়পত্রের প্রশ্নও ফাঁস!








