নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী চিকিৎসা শেষে দেশে ফিরে সোমবার সকাল থেকে নিজ অফিসে কাজ শুরু করেছেন। তিনি দীর্ঘ ৩২ দিন পর চিকিৎসা ও বিশ্রাম শেষে কাজ শুরু করেছেন। যদিও বাসায় বিশ্রামে থাকার সময়ও তিনি সিটি করপোরেশনের বেশ কিছু জরুরি ও গুরুত্বপূর্ণ ফাইলে সই করেছেন।
এ নিয়ে কথা বললে মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী জানান, তিনি আগের চেয়ে অনেক সুস্থ আছেন। তবে প্রেসার কিছুটা আপ-ডাউন করছে। সকাল ১১টার দিকে প্রেসার কিছুটা বাড়তি থাকলেও দুপুরে প্রেসার স্বাভাবিক ছিল।
তিনি আরও জানান, ‘ঘাড়ের বাম দিক থেকে বাম হাতে কিছুটা ব্যথা অনুভব করছেন। ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী নিয়মিত ওষুধ সেবন করছেন। তার শরীরে ভিটামিন ডি’র অভাব রয়েছে। এছাড়া স্টেরয়েড দেওয়ার কারণে শরীর কিছুটা ফোলা দেখাচ্ছে। এটা স্বাভাবিক হতে কিছুটা সময় লাগবে বলে ডাক্তাররা জানিয়েছেন।
গত ১৮ জানুয়ারি সিটি করপোরেশনে জাতীয় দৈনিকের দুই সাংবাদিকের সঙ্গে কথা বলার সময় হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। পরে তাকে দ্রুত রাজধানীর ল্যাবএইড হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পাঁচদিন চিকিৎসাধীন থাকার পর তিনি ২৩ জানুয়ারি নারায়ণগঞ্জে এসে বাবার কবর জিয়ারত করে বাড়ি ফিরে বিশ্রাম নেন। পরে ২৬ জানুয়ারি খাজা নিজামুদ্দিন আউলিয়ার মাজার জিয়ারত করতে ভারতের আজমীর শরিফ যান। ৩১ জানুয়ারি দেশে ফিরেন। দেশে ফিরে ডাক্তারের পরমর্শে বাসায় বিশ্রামে ছিলেন। তিনি ১১ ফেব্রুয়ারি উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুর যান। সিঙ্গাপুর ন্যাশনাল হাসপাতালে চিকিৎসা শেষে ১৭ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় তিনি দেশে ফিরে আসেন।
উল্লেখ্য, গত ১৬ জানুয়ারি নারায়ণগঞ্জে ফুটপাতে হকার বসানোকে কেন্দ্র করে সাংসদ শামীম ওসমান ও মেয়র আইভীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে মেয়র আইভীসহ অর্ধশত লোক আহত হয়। ওই সময় অস্ত্র বের করে আইভীর দিকে তেড়ে আসে যুবলীগ সন্ত্রাসী নিয়াজুল ইসলাম খান। এ ঘটনায় সিটি করপোরেশনের আইন কর্মকর্তা বাদী হয়ে ১৩ জনের নাম উল্লেখ করে মেয়র আইভীর প্রাণনাশের চেষ্টার অভিযোগ এনে থানায় লিখিত অভিযোগ দেন। কিন্তু ঘটনার পর ৩৪ দিন পেরিয়ে গেলেও মামলা হয়নি। কোনও আসামিকে গ্রেফতার করেনি পুলিশ।
নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপার মঈনুল হক জানান, ১৬ জানুয়ারির সংঘর্ষের ঘটনায় দুটি অভিযোগ পেয়েছি। দুটি অভিযোগ জিডি হিসেবে নথিভুক্ত করে পুলিশ যে মামলা করেছে, তার তদন্ত চলছে। এ ঘটনায় জেলা প্রশাসকের নির্দেশে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। ওই কমিটির রিপোর্টের ভিত্তিতে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।







