ত্রিপুরার সম্ভাব্য মুখ্যমন্ত্রীর চাঁদপুরের বাড়িতে উৎসবের আমেজ

ইব্রাহিম রনি, চাঁদপুর
০৬ মার্চ ২০১৮, ১৪:৫১আপডেট : ০৬ মার্চ ২০১৮, ১৪:৫৬

কচুয়ার দেব বাড়িতে মিষ্টি বিতরণ ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী হতে চলেছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভুত বিপ্লব কুমার দেব। তার বাবার বাড়ি চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলায়। ত্রিপুরা রাজ্যে বিজেপির বিশাল জয়ের পর বিপ্লব দেবকে ওই রাজ্যের সম্ভাব্য মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে বাংলাদেশের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম গুরুত্ব দিয়ে খবর প্রকাশ করে। এরপর থেকেই তার পিতৃভূমি চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলার সহদেবপুর পূর্ব ইউনিয়নের মেঘদাইর গ্রামের দেব বাড়িতে (মাস্টার বাড়ি) ভিড় বাড়তে থাকে উৎসুক জনতার। এদিকে আত্মীয়-স্বজন ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের মধ্যে চলছে মিষ্টি বিতরণ। গত রবি ও সোমবার বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকরাও ওই বাড়িতে গেছেন সংবাদ সংগ্রহ করতে। সব মিলিয়ে উৎসবের আমেজ তৈরি হয়েছে কচুয়ায়।

ভারতীয় সংবাদ মাধ্যম এনডিটিভি’র অনলাইনে সোমবার রাতে ‘সূত্রের’ বরাত দিয়ে প্রকাশিত খবরে বলা হয়েছে, ৮ মার্চ বিপ্লব দেব ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেবেন। মঙ্গলবার বিজেপি’র বৈঠক শেষে আনুষ্ঠানিকভাবে ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রীর নাম ঘোষণা করা হবে।

এ বিষয়ে বিপ্লব কুমার দেবের চাচা চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলা হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি ও উপজেলা কৃষক লীগের সেক্রেটারি প্রাণধন দেব বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, ‘তিনি (বিপ্লব কুমার দেব) এখন ব্যস্ত রয়েছেন। বাংলাদেশ থেকে কারও ফোন কল রিসিভ করতে পারছেন না। তার পিএস আমাকে বলেছেন, ৮ তারিখের পর আমাদের সঙ্গে বিপ্লবের কথা হতে পারে।’ কচুয়ার দেব বাড়িতে বিপ্লব দেবের স্বজনরা

তিনি আরও বলেন, ‘বিপ্লব ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী হচ্ছেন, এমন খবর প্রকাশ হওয়ার পর থেকে বাড়িতে বিভিন্ন স্থান থেকে লোকজন আসছেন। আমাদের সঙ্গে কথাবার্তা বলছেন। যারা আসছেন, তাদের আপ্যায়নের যথাসাধ্য চেষ্টাও আমরা করছি। সব মিলিয়ে আমরা এখন খুবই আনন্দিত।’

প্রসঙ্গত, ত্রিপুরার বিধানসভা নির্বাচনে বিপ্লব কুমার দেবের নেতৃত্বে বিজেপি বিশাল জয় পেয়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ত্রিপুরা রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে বিপ্লব কুমার দেবের নেতৃত্বে বিজেপি ৬০টি আসনের মধ্যে ৪৩টি আসন পায়। বিপ্লব কুমার দেব নিজেও একটি আসনে বিশাল ব্যবধানে জয়লাভ করেন। একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে বিজেপি। তিনি রাজ্য বিজেপির সভাপতির দায়িত্ব নিয়ে দু’বছরের মধ্যেই দলটিকে এই ঐতিহাসিক বিজয় এনে দেন।

বিপ্লব দেব ত্রিপুরা রাজ্য বিজেপির দায়িত্ব পান ২০১৬ সালে ৭ জানুয়ারি। তিনি  আরএসএসের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। এই সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ততার কারণে বিপ্লব দেব ১৫ বছর দিল্লিতে ছিলেন। সেখানে তিনি একটি ব্যায়ামাগারের প্রশিক্ষক হিসেবে কাজ করতেন। এবার ত্রিপুরার বনমালিপুর আসন থেকে লড়েছেন বিপ্লব। ত্রিপুরা রাজ্য বিজেপির সভাপতি বিপ্লব দেব ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারে থাকা দলটির সবচেয়ে কম বয়সী রাজ্য সভাপতি। এই যুবনেতা মাত্র দুবছরের মাথায় ২৫ বছরের বাম শাসনের পতন ঘটিয়ে লাল থেকে গেরুয়া রঙে রাঙিয়ে দিলেন ত্রিপুরাকে।

বিপ্লব দেবের চাচা প্রাণধন দেব জানান, ‘বিপ্লব দেব তিন বোনের একমাত্র ভাই। তার বাবা কচুয়া উপজেলার সহদেবপুর পূর্ব ইউনিয়নের মেঘদাইর গ্রামের সন্তান স্বর্গীয় হিরুধন দেব। মায়ের নাম মিনা রানী দেব। তিনি অন্তঃসত্ত্বা হিসেবে ভারতে যাওয়ার পর ত্রিপুরার মাটিতে জন্মগ্রহণ করেন বিপ্লব কুমার দেব।

তিনি জানান, মুক্তিযুদ্ধের সময় তার বাবা-মা ত্রিপুরা চলে যান। এরপর সেখানকার স্থায়ী বাসিন্দা হয়ে যান তারা। তবে তার আত্মীয়স্বজন অনেকেই এখনও কচুয়ায় বসবাস করেন। তিনি বলেন, ‘আমার ভাতিজা আজ ভারতের একটা অঙ্গরাজ্যের সর্বোচ্চ পদে যাচ্ছে। আমরা সবার কাছে আশির্বাদ প্রার্থী। সে যে অল্প বয়সে যেই স্থানে পৌঁছেছে, সে যেন তার এই সম্মান ধরে রাখতে পারে।’

বিপ্লব দেব গতবছর ঢাকায় আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কাউন্সিলে বিজেপির প্রতিনিধি দলের প্রধান হয়ে যোগদান করেন। সম্মেলন শেষে তিনি তখন তার গ্রামের বাড়ি কচুয়ায় আসেন। ওইদিন  কচুয়া প্রেসক্লাব তাকে সংবর্ধনা প্রদান করে। এসময় তার সঙ্গে ছিলেন তার স্ত্রী স্টেট ব্যাংক অব ইন্ডিয়ার সিনিয়র অফিসার নীতি রানী দেব। নীতি দেব পাঞ্জাবের মেয়ে।

কচুয়া প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা কিন্ডারগার্টেন অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মানিক ভৌমিক বলেন, ‘২০১৬ সালে বিপ্লব কুমার দেব কচুয়া সফরকালে কচুয়া প্রেসক্লাব তাকে সংবর্ধনা দিয়েছে। সে সময় তিনি আমাদের এখানে প্রায় সোয়া একঘণ্টা বক্তব্য রাখেন। তার বক্তব্য এত চমৎকার ছিল যে, উপস্থিত সবাই মন্ত্রমুগ্ধ হয়ে শোনেন। বক্তব্য শেষে সে সময় উপস্থিত অনেকেই বলেছিলেন, তিনি রাজনীতিতে অনেক ভালো করবেন। সদ্য সমাপ্ত হওয়া ত্রিপুরা নির্বাচনে আমরা তারই প্রতিফলন দেখতে পেলাম।’

তিনি আরও বলেন, ‘শেকড় তথা পিতৃভূমির প্রতি তার অনেক টান। সেজন্যই তিনি কচুয়ায় আসেন। আশা করি, মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পরও আবার স্ত্রীকে নিয়ে তিনি কচুয়ায় আসবেন।’

কচুয়া উপজেলার পূর্ব সহদেবপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ইমাম হোসেন সোহাগ বলেন, ‘তিনি আমাদের দেশের এবং আমাদের ইউনিয়নের গৌরব। এই ইউনিয়নের একজন বাঙালি ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হচ্ছেন— এটা আমাদের গর্বের বিষয়। আমরা ইউনিয়নবাসীর পক্ষ থেকে চেষ্টা করবো বিপ্লব কুমার দেবকে একটা সংবর্ধনা দেওয়ার জন্য। এজন্য তার চাচা প্রাণধন দেবের মাধ্যমে আমরা যোগাযোগ করবো। তিনি যদি সম্মতি দেন, তাহলে আমরা খুব সুন্দর করে একটি সংবর্ধনার আয়োজন করবো।’

আরও পড়ুন- ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী হচ্ছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত বিপ্লব দেব!

 

/এফএস/এপিএইচ/
সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
ফুল দিয়ে ড. খলিলুর রহমানকে বরণ
ফুল দিয়ে ড. খলিলুর রহমানকে বরণ
প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে বন্ধ কলকারখানা চালু ও ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত সভা
প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে বন্ধ কলকারখানা চালু ও ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত সভা
ত্রিমুখী তদন্তের ‍মুখে বেবিচকের প্রকৌশলী শরিফুল
ত্রিমুখী তদন্তের ‍মুখে বেবিচকের প্রকৌশলী শরিফুল
শিশুর হাতে স্মার্টফোন: আশীর্বাদ না অভিশাপ? 
শিশুর হাতে স্মার্টফোন: আশীর্বাদ না অভিশাপ? 
সর্বাধিক পঠিত
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
তৃতীয় বিয়ের পিঁড়িতে বসতে যাচ্ছেন আমির খান
তৃতীয় বিয়ের পিঁড়িতে বসতে যাচ্ছেন আমির খান