বরিশাল নগরের বৈদ্যপাড়া এলাকা থেকে গত ১৫ ফেব্রুয়ারি নিখোঁজ আব্দুল্লাহ আল আজাদকে অপহরণের পরই হত্যা করা হয়। পরে ড্রামে ভরে নদীতে ফেলে দেওয়া হয় বলে জানিয়েছেন বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের এয়ারপোর্ট থানার সহকারী পুলিশ কমিশনার মো. রকিব হোসেন।
চলতি বছরের ২১ ফেব্রুয়ারি বাবুগঞ্জের বাহেরচরের সাধুকাঠি নদীর চর থেকে অজ্ঞাত পরিচয়ের যে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়েছে তা ছিল আব্দুল্লাহ আল আজাদের। এ হত্যার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে পুলিশ বরিশাল নগরের ইনফ্রা পলিটেকনিক কলেজের অটোমোবাইলসের সপ্তম সেমিস্টারের ছাত্র মেহেদী হাসান রনিকে (২৫) গ্রেফতার করেছে।
বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের এয়ারপোর্ট থানার সহকারী পুলিশ কমিশনার মো. রকিব হোসেন জানান, গত ১৫ ফেব্রুয়ারি বরিশাল নগরের বৈদ্যপাড়া এলাকার বাসিন্দা আব্দুল্লাহ আল আজাদ নিখোঁজ হন। এই ঘটনায় স্বামীকে অপহরণের অভিযোগ এনে ১৬ ফেব্রুয়ারি এয়ারপোর্ট থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন তার স্ত্রী। ঘটনার পর থেকে আব্দুল্লাহ আল আজদ এর ব্যবহৃত মোবাইল নম্বর থেকে তার স্ত্রী খাদিজা আক্তার ঝুনুর ব্যবহৃত নম্বরে ফোন করে বিভিন্ন সময় স্বামীকে ফেরত পেতে ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়।এর পরিপ্রেক্ষিতে খাদিজা আক্তার ঝুনু বাদী হয়ে ২৫ ফ্রেব্রুয়ারি চাঁদা দাবি ও অপহরণের অভিযোগ এনে একই থানায় মামলা দায়ের করেন। সঙ্গে সঙ্গে স্বামীকে ফেরত পেতে গ্রেফতার রনিকে বিভিন্ন সময় বিকাশ নম্বরে দেওয়া ৫০ হাজার টাকা দিয়েছেন খাদিজা আক্তার। কিন্তু তাতে কোনও কাজ হয়নি। সর্বশেষ পুলিশ সোর্স ও তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে বৃহস্পতিবার দুপুরে বাবুগঞ্জ উপজেলার বাহেরচর নয়ঘর এলাকার বাসিন্দা মশিউর রহমান রানা’র ছেলে ইনফ্রা পলিটেকনিকের ছাত্র মেহেদী হাসান রনিকে সন্দেহজনকভাবে নিজ বাড়ি থেকে আটক করা হয়।
তাকে আটকের পরই জিজ্ঞাসাবাদে বেরিয়ে আসে আজাদ অপহরণ, হত্যা ও গুমের মূল রহস্য।
তিনি আরও বলেন,‘রনির দেওয়া স্বীকারক্তিমূলক জবানবন্দির বরাত দিয়ে মামলার তদন্ত-কর্মকর্তা ফিরোজ আলম মুন্সি জানান,‘গত ১৫ ফেব্রুয়ারি নগরের নথুল্লাবাদ থেকে আব্দুল্লাহ আল আজাদকে কৌশলে অপহরণ করে রনি। পরবর্তীতে আজাদকে নগরের রূপাতলী এলাকায় বসুন্ধরা হাউজিং এর ভাড়া বাসায় নিয়ে যায় এবং সেখানে হাত-পা বেঁধে জোরপূর্বক ঘুমের ওষুধ প্রয়োগ করে ড্রাম বন্দি করে রাখে। পরে সুযোগ বুঝে সাতশ’ টাকায় একটি মাহেন্দ্র ভাড়া করে রাতের আধারে বাবুগঞ্জ থানাধীন সাধুকাঠী এলাকার নদীর চরে নিয়ে যায়। ড্রামটি নদীতে ফেলে দেয়। ড্রামে বন্দি থাকা অবস্থায়ই আব্দুল্লাহ আল আজাদের মৃত্যু হয়।
মেহেদী হাসান রনির স্বীকারোক্তি অনুযায়ী জানা যায়, গত ২১ ফেব্রুয়ারি বাবুগঞ্জের বাহেরচর সাধুকাঠী নদীর চর থেকে পুলিশ যে অজ্ঞাত ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করে দাফন করেছে তা ছিল আব্দুল্লাহ আল আজাদের।
এছাড়াও রনির দেওয়া স্বীকারোক্তি অনুযায়ী তার বাড়ির মাইক্রোওভেনের ভেতর থেকে নিহত আব্দুল্লাহ আল আজাদের ব্যবহৃত মোবাইল ও সিম কার্ডটি উদ্ধার করা হয়েছে।
এয়ারপোর্ট থানার সহকারী পুলিশ কমিশনার মো. রকিব হোসেন জানান, পুলিশের কাছে দেওয়া জবানবন্দীতে রনি দাবি করেছে, আব্দুল্লাহ আল আজাদ এর প্রতিবেশি ছিল। সেই সুবাদে আজাদ বিভিন্ন সময় তাকে জোর করে বলাৎকার করেছে। এ ছাড়াও সে রনিকে প্রায়ই বলাৎকারের প্রস্তাব দিত। যার প্রতিবাদে রনি তাকে অপহরণ ও হত্য করতে বাধ্য হয়েছে।
তবে এয়ারপোর্ট থানার ওসি (তদন্ত) এম আর মুকুল বলেন, ‘বলৎকারের বিষয়টি আটককৃতের বক্তব্য। এখনো এ অভিযোগের কোনও সত্যতা পাওয়া যায়নি। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আজাদ অপহরণের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় রনিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পাশাপাশি তাকে শুক্রবার আদালতে সোপর্দ করে জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়েছে। ’
আরও পড়ুন: 'আমরা প্রতিহিংসায় বিশ্বাস করলে ‘১৪ সাল থেকে খালেদা জিয়া জেলে আসা-যাওয়া করতেন’







