বান্দরবানে সাঙ্গু নদীতে গঙ্গাদেবীর উদ্দেশ্যে ফুল ভাসানোর মধ্যে দিয়ে চাকমা ও তঞ্চঙ্গ্যা সম্প্রদায় তাদের ধর্মীয় অনুষ্ঠান বৈসাবি উদযাপন শুরু করেছে। ভোর থেকেই তরুণ-তরুণীরা ফুল ভাসানোর জন্য সাঙ্গু নদীর পাড়ে এসে ভিড় করে। ফুল ভাসানোর পর বালাঘাটা বিলকিছ বেগম উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে তঞ্চঙ্গ্যা সম্প্রদায়ের তরুণ-তরুণীদের ঘিলা খেলা শুরু হয়।
এসময় ঘিলাখেলা উদযাপন কমিটির সভাপতি কাঞ্চনজয় তঞ্চঙ্গ্যা, যুগ্ন আহ্বায়ক কমলময় তঞ্চঙ্গ্যা ও ঘিলাখেলা উদযাপন কমিটির সদস্য সচিব উজ্জল তঞ্চঙ্গ্যা উপস্থিত ছিলেন।
এ বিষয়ে তঞ্চঙ্গ্যা তরুণী সুচিত্রা জানান, নদীতে ফুল ভাসানো আমাদের একটি ধর্মীয় রীতি। আমরা প্রতিবছরই নতুন বছরের আগমণকে ঘিরে নদীতে ফুল ভাসাই। এছাড়া রাধামন ধন পুরি ছিল প্রেমিক-প্রেমিকা। তারা সারা রাত ঘিলা খেলতো। তাদের এ স্মৃতিকে স্মরণীয় করে রাখতে বছরের প্রথম দিন সারা রাত ধরে ঘিলা খেলার আয়োজন করা হয়।
এ বিষয়ে আরেক তঞ্চঙ্গ্যা তরুণী সুইটি বলেন, ‘নতুন বছরকে স্বাগত জানাতে আমরা প্রতিবছরই নদীতে ফুল ভাসাই। এছাড়া সারা রাত বন্ধু-বান্দবীদের সাথে ঘিলা খেলি। এ খেলা খেলতে খেলতে কখন যে সকাল হয়ে যায়, বুঝতেই পারিনা। আসলেই আমরা অনেক মজা করি।’
এদিকে ঘিলাখেলা উদযাপন কমিটির সভাপতি কাঞ্চনজয় তঞ্চঙ্গ্যা বলেন, ‘আগে আমরা সারা রাত এমনিতেই ঘিলা খেলতাম। তবে ২০১২ সাল থেকে এ খেলায় প্রতিযোগিতার মাধ্যমে বিজয়ীদের পুরস্কার দেওয়া হয়। আজও এ খেলার প্রতিযোগিতা রয়েছে। সারা রাত এ প্রতিযোগিতায় ২৫টি দল অংশ নেবে। তাদের মধ্যে বিজয়ীদের আমরা পুরস্কৃত করব।’
এদিকে মারমাদের সাংগ্রাই শুরু হবে আগামীকাল ১৩ এপ্রিল শুক্রবার থেকে। প্রথম দিন মঙ্গল শোভাযাত্রা মধ্য দিয়ে এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হবে। ১৪ এপ্রিল বিকালে বুদ্ধমূর্তি স্নান এবং ১৫ ও ১৬ এপ্রিল মারমাদের প্রাণের উৎসব জলকেলি (পানি খেলা), মঙ্গল প্রদীপ প্রজ্জ্বলনসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠান পালন ও ধর্মীয় প্রার্থনার মাধ্যমে এর সমাপ্তি ঘটবে।
এদিকে বৈসাবি উপলক্ষ্যে বান্দরবান পুলিশ সুপার মো. জাকির হোসেন মজুমদার বলেন, ‘পহেলা বৈশাখ, সাংগ্রাই ও বিজু সব মিলিয়ে বৈসাবি। বৈসাবির অনুষ্ঠানগুলো অত্যান্ত আনন্দপূর্ণ পরিবেশে ও ঝাঁকজমকপূর্ণভাবে উদযাপিত হয়। সে কারণে বান্দরবান জেলা পুলিশ পর্যাপ্ত নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা নিয়েছে ।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা তিন স্তর বিশিষ্ট নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা নিয়েছি। পুলিশ সাদা পোশাকে ডিউটিতে থাকবে। এছাড়া ডিবি পুলিশ ও পোশাকধারী পুলিশ দায়িত্ব পালন করবে। যাতে সবাই এ অনুষ্ঠানগুলো অত্যন্ত আনন্দমূখর ও উৎসবমূখর পরিবেশে পালন করতে পারে, সেজন্যই আমরা পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি। আশা করছি সবাই এই অনুষ্ঠানগুলো সুন্দরভাবে উপভোগ করতে পারবে।’
বান্দরবান জেলা প্রশাসক মো. আসলাম হোসেন বলেন, ‘এখানে বৈশাখী মেলা ও সাংগ্রাইসহ বেশ কিছু ধর্মীয় অনুষ্ঠান এক সঙ্গে চলে। সে অনুষ্ঠানগুলোক ঠিকমত পালন করার জন্য আমরা ৩ দিনব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচি রেখেছি। এ বছর বর্ষবরণের অনুষ্ঠানটি অত্যন্ত ঝাঁকজমকপূর্ণভাবে উদযাপন করা হবে।’
আরও পড়ুন: ফুল ভাসিয়ে বৈসাবির আনুষ্ঠানিতা শুরু








