শ্রমিক ধর্মঘটে অচল সারাদেশ

বাংলা ট্রিবিউন ডেস্ক
০৩ আগস্ট ২০১৮, ১২:৩২আপডেট : ০৩ আগস্ট ২০১৮, ১৮:৩৬

শ্রমিক ধর্মঘটে অচল সারাদেশ নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে যানবাহন ভাঙচুরের প্রতিবাদে ধর্মঘট করছে পরিবহন শ্রমিকরা। বাস-মিনিবাস মালিক সমিতির সিদ্ধান্তে ডাকা এই ধর্মঘটের কারণে অচল হয়ে পড়েছে সারাদেশ। দূরপাল্লার কোনও বাস ছেড়ে না যাওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছে সাধারণ যাত্রীরা।

আমাদের প্রতিনিধিদের পাঠানো সংবাদ

শ্রমিক ধর্মঘটে অচল সারাদেশ টাঙ্গাইল

শুক্রবার ( ৩ আগস্ট) সকাল থেকে টাঙ্গাইল থেকে সব জেলায় বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে। টাঙ্গাইল জেলার বাস-মিনিবাস মালিক সমিতির সভাপতি খন্দকার ইকবাল হোসেন এ তথ্য জানিয়েছেন।

টাঙ্গাইল থেকে বাস চলাচল বন্ধ থাকায় শত শত যাত্রী বাস টার্মিনালে এসে বাড়ি ফিরে গেছেন। অনেকে বিকল্প হিসেবে ট্রেনে ঢাকায় যাতায়াত করছেন।

যাত্রীদের সঙ্গে কথা বললে তারা জানায়, এমন ভোগান্তিতে তারা বিরক্ত নয়। বরং নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি তাদের।

টাঙ্গাইল জেলা বাস-মিনিবাস মালিক সমিতির সভাপতি ইকবাল হোসেন বলেন, ‘বাস ও চালকের নিরাপত্তাজনিত কারণ ও কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বাস চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। সরকার যদি নিরাপত্তা দিতে পারে তাহলে গাড়ি চলবে। যে পর্যন্ত নিরাপত্তা দিতে না পারবে সে পর্যন্ত গাড়ি চলবে না।’

শ্রমিক ধর্মঘটে অচল সারাদেশ ময়মনসিংহ

যানবাহনের নিরাপত্তাজনিত কারণে দ্বিতীয় দিনের মতো ময়মনসিংহ থেকে ঢাকা রুটে কোনও ধরনের বাস ছেড়ে যায়নি। বাস চলাচল বন্ধ থাকায় দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ যাত্রীরা।

ময়মনসিংহ জেলা পরিবহন মোটর মালিক সমিতির বাস বিভাগের সম্পাদক বিকাশ সরকার বলেন, ‘রাস্তায় বের হলেই শিক্ষার্থীরা ইচ্ছামতো বাস ভাঙচুর করছে। এতে মালিকরা লাখ লাখ টাকা ক্ষতির মুখে পড়ছেন। তাই নিরাপত্তার অভাবে শুক্রবার সকাল থেকে ঢাকামুখী বাস চলাচল বন্ধ রাখা হয়।’ তবে বিকাল থেকে আবার বাস চলাচল স্বাভাবিক হওয়ার কথা জানান তিনি।

এদিকে বৃহস্পতিবার সারাদিন বাস চলাচল বন্ধ থাকার পর মাসকান্দা কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল থেকে সন্ধ্যা ৭টার পর ঢাকার উদ্দেশে বেশ কয়েকটি বাস ছেড়ে যেতে দেখা গেছে। ছাত্রদের আন্দোলন কর্মসূচী অব্যাহত থাকায় আজ সকাল থেকে বাস চলাচল বন্ধ রাখা হয়।

চট্টগ্রাম

পরিবহন শ্রমিকদের অঘোষিত ধর্মঘটে চট্টগ্রামের সঙ্গে বিভিন্ন জেলার বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে। শুক্রবার সকাল থেকে বাস চলাচল বন্ধ রাখে পরিবহন শ্রমিকরা। এতে চরম বিপাকে পড়েছেন যাত্রীরা। দীর্ঘক্ষণ কাউন্টারে অপেক্ষা করে অনেক যাত্রী বাসায় ফিরে গেছেন। কোন ধরনের পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই এভাবে বাস চলাচল বন্ধ রাখায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন যাত্রীরা।

আন্তঃজেলা বাস মালিক সমিতির জেনারেল সেক্রেটারি কফিল উদ্দিন আহমেদ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমাদের পক্ষ থেকে আমরা কোনও ধর্মঘটের ডাক দিইনি। নিরাপত্তার অজুহাত দেখিয়ে পরিবহন শ্রমিকরা বাস চলাচল বন্ধ রেখেছেন। তবে সকাল থেকে কিছু গাড়ি চট্টগ্রাম ছেড়ে গেছে।

বাংলাদেশ আন্তঃজেলা সড়ক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের মহাসচিব রুহুল আমিন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘এটি আমাদের কোনও কর্মসূচি না। পরিবহন শ্রমিকরা নিরাপত্তার স্বার্থে বাস চলাচল বন্ধ রেখেছেন। নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত বাস চালকরা বাস চালাবেন না।’

শ্রমিক ধর্মঘটে অচল সারাদেশ রংপুর

শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে নিরপত্তাজনিত কারণে রংপুর থেকে আন্তঃজেলা ও ঢাকাগামী সব রুটের বাস চলাচল অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করে দিয়েছে শ্রমিকরা। এতে যাত্রীদের সীমাহীন দুর্ভোগের শিকার হতে হচ্ছে।

শুক্রবার সকাল থেকে পরিবহন শ্রমিকরা রংপুর কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে অবস্থান নিয়ে আন্তঃজেলার ৪৮টি রুটেই বাস চলাচল বন্ধ করে দেয়। অন্যদিকে ঢাকা কোচস্ট্যান্ড থেকে সব বাস চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে।

শ্রমিকরা বলছেন, গাড়ি চললেই দুর্ঘটনা ঘটবে, এটা বন্ধ করা সম্ভব নয়। দুর্ঘটনা দুর্ঘটনাই। এ জন্য যেভাবে আমাদের ওপর জুলুম শুরু হয়েছে সে কারণে বাস চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে।

এদিকে আকস্মিক বাস ধর্মঘটের কারণে চরম বিপাকে পড়েছেন সাধারণ যাত্রীরা। রাজশাহী ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের শিক্ষার্থী লোটাস জানান, তার পরীক্ষা আছে শনিবার। হঠাৎ করে টার্মিনালে এসে শোনেন বাস বন্ধ। এভাবে আগে থেকে কোনও ঘোষণা ছাড়া বাস চলাচল বন্ধ রাখা অমানবিক।

এ ব্যাপারে রংপুর বিভাগীয় মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মজিদ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমরা কোনও বাস ধর্মঘট আহ্বান করিনি। এ ধরনের কোনও কর্মসূচি আমাদের নেই।’

রংপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাইফুর রহমান বলেন, আন্তঃজেলা ও ঢাকাগামী সব রুটেই বাস চলাচল বন্ধ রেখেছে পরিবহন শ্রমিকরা। কিন্তু কাদের নির্দেশে এ অঘোষিত ধর্মঘট সেটা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানান তিনি।

শ্রমিক ধর্মঘটে অচল সারাদেশ

নওগাঁ

শুক্রবার (৩ জুলাই) সকাল থেকে নওগাঁ থেকে দূরপাল্লাসহ সব রুটের বাস চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে মালিক-শ্রমিকরা। হঠাৎ করেই গণপরিবহন বন্ধ করে দেওয়ায় সীমাহীন দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ যাত্রীরা। তবে পরিবহনগুলোর টিকিট কাউন্টারগুলো খোলা থাকতে দেখা গেছে।




জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি ওমর ফারুক জানান, সড়ক আইন-২০১৭, মন্ত্রী সভায় পাশ না করার প্রতিবাদে এবং শ্রমিকের নিরাপত্তার দাবিতে মোটর মালিক-শ্রমিক ফেডারেশনের অলিখিত নিষেধাজ্ঞায় তারা নওগাঁ থেকে সকল রুটের অনির্দিষ্টকালের জন্য বাস চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে। নেতারা নির্দেশ দিলেই আবারও পরিস্থিতি স্বভাবিক হবে।
জেলা মোটর মালিক গ্রুপের সভাপতি সহিদুল ইসলাম জানান, বাস শ্রমিকরা নিরাপত্তা শঙ্কায় বাস বন্ধ করে দিয়েছেন। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে তারা বাস চলাচল শুরু করবেন।

কুড়িগ্রাম
কোনও ধরণের ঘোষণা ছাড়াই অভ্যন্তরীন ও কুড়িগ্রাম থেকে দূরপাল্লার সব রুটে যানবাহন চলাচল বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২ আগস্ট) রাতে পরিবহণ শ্রমিক সংগঠনের এক নেতার মৌখিক নির্দেশে শুক্রবার (৩ আগস্ট) সকাল থেকে কোনও পরিবহণ সড়কে নামায়নি শ্রমিকরা। কুড়িগ্রাম জেলার একাধিক বাস মালিকের সঙ্গে কথা বলে এ তথ্য জানা গেছে। এতে করে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন দূরপাল্লার যাত্রীরা। বাস ও মিনিবাস চলাচল বন্ধ থাকায় রিকশা ও ব্যাটারি চালিত অটোরিকশায় দ্বিগুণ ভাড়া গুণতে হচ্ছে স্থানীয় যাত্রীদের।

কুড়িগ্রামে বাস টার্মিনালে দাঁড়িয়ে আছে বাস তবে যানবাহন চলাচল বন্ধের বিষয়ে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ করেন পরিবহন মালিক ও শ্রমিক পক্ষ। শ্রমিকরা বলছেন, গাড়ির মালিকরাই নিরাপত্তার স্বার্থে গাড়ি বের করতে দিচ্ছেন না। আর মালিক পক্ষ বলছেন, গাড়ির লাইসেন্স, ড্রাইভিং লাইসেন্স ঠিক থাকলে গাড়ি চালাতে বাধা নেই। তবে গাড়ি চলাচল বন্ধ রাখতে উপরের কোনও নির্দেশ নেই বলে জানান মালিক সংগঠনের নেতারা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক বাস মালিক জানান, জেলার শ্রমিক সংগঠনের এক নেতার মৌখিক নির্দেশের কারণে শুক্রবার সকাল থেকে শ্রমিকরা গাড়ি বের করেনি। এদিকে মটর মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক লুৎফর রহমান বকসী জানান, গাড়ি চালাতে আমাদের মালিক পক্ষের কোনও আপত্তি নেই। গাড়ির কাগজপত্র ও ড্রাইভারদের লাইসেন্স সঠিক থাকলে গাড়ি চালাতে বাধা নেই।

সুনামগঞ্জ

যাত্রী, চালক ও যানবাহনের নিরাপত্তার দাবিতে সুনামগঞ্জে শুক্রবার সকাল থেকে অনির্দিষ্টকালের পরিবহন ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে পরিবহন শ্রমিক ও মালিক সমিতি। বৃহস্পতিবার রাতে তারা এই কর্মসূচি ঘোষণা করেন।

ধর্মঘটের কারণে সুনামগঞ্জ থেকে সিলেট, সুনামগঞ্জ-দিরাই, সুনামগঞ্জ–ছাতক, সুনামগঞ্জ-জগন্নাথপুর, জগন্নাথপুর-সিলেট, ছাতক-সিলেটসহ ৫টি রুটে বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে। এদিকে আকস্মিক ধর্মঘটের কারণে যাত্রী দুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করেছে।

সুনামগঞ্জ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি সাহার উদ্দিন জানান, ঢাকায় বাসচাপায় দুই শিক্ষার্থী নিহত হওয়ার পর থেকে চলমান আন্দোলনের কারণে পরিবহণ শ্রমিক ও যানবাহন চরম নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছে। দেশের বিভিন্ন স্থানে যানবাহন ভাঙচুরের মতো ঘটনা ঘটেছে। এ অবস্থায় পরিবহন শ্রমিকরা নিরাপত্তাহীনতায় পড়েছেন। তাই সড়কে তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ধর্মঘটের ডাক দেওয়া হয়েছে।

শ্রমিক ধর্মঘটে অচল সারাদেশ যশোর

নিরাপত্তার দাবিতে শুক্রবার সকাল থেকে যশোরে ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে পরিবহন শ্রমিকরা। এ কারণে যশোর থেকে ১৮টি রুটে পরিবহন চলাচল বন্ধ রয়েছে।

বাংলাদেশ পরিবহন সংস্থা শ্রমিক সমিতির সভাপতি মামুনুর রশিদ বাচ্চু বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘মালিকরা ভয় পাচ্ছেন তাদের পরিবহন ভাঙচুর ও ক্ষতিগ্রস্তের আর শ্রমিকদের ভেতরে কাজ করছে নিরাপত্তাহীনতার। এরই প্রেক্ষিতে আজ সকাল থেকেই যশোর থেকে ১৮টি রুটে বাস চলাচল বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

এই কর্মসূচি নির্দিষ্ট মেয়াদ বা লাগাতার কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘সরকার যেহেতু নিরাপত্তা দিতে পারছে না এবং আমাদের কেন্দ্রীয় নেতারা অনুমতি দিলে আবারও চলাচল শুরু হবে।’

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমরা গাড়ির ফিটনেস, চালকদের লাইসেন্সসহ সব কাগজপত্রের আপডেট সঙ্গে রাখার নির্দেশনা দিয়েছি। এ লক্ষ্যে ১৮টি রুটে আমাদের নেতাদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, কাগজপত্র ছাড়া কেউ বের হলে তার দায় আমরা নেবো না।’

শ্রমিক ধর্মঘটে অচল সারাদেশ বেনাপোল

নিরাপত্তা শঙ্কায় বেনাপোল থেকে আন্তঃজেলা ও দূরপাল্লার সকল পরিবহন বন্ধ করে দিয়েছে স্থানীয় মালিক শ্রমিক সংগঠন। ফলে ভারত থেকে আসা শত শত যাত্রী দুর্ভোগে পড়েছেন। শুক্রবার (৩ আগস্ট) সকাল থেকে বেনাপোল থেকে সকল রুটের বাস বন্ধ রয়েছে।

হঠাৎ বেনাপোল থেকে যাত্রীবাহী বাস চলাচল বন্ধ থাকায় আটকা পড়েছেন ভারত থেকে আসা কয়েকশ যাত্রী। গন্তব্যে ফিরতে না পেরে বিভিন্ন বাস কাউন্টারে তারা অপেক্ষা করছেন। তবে স্থানীয় লোকজন টিকিট ফেরত দিয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন।

পরিবহন কর্তৃপক্ষ বলছে, সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত তারা বাস ছাড়তে পারবেন না। এতে তাদের কিছু করার নেই।

ঈগল পরিবহনের বেনাপোলের ম্যানেজার এম আর রহমান রাশু বলেন, ‘সড়কে নিরাপত্তার ঘাটতির কারণে পরিবহন না ছাড়তে নির্দেশ দিয়েছেন মালিকপক্ষ। শ্রমিকরাও এ অবস্থার মধ্যে গাড়ি চালাতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। আমাদের যানবাহন ও শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত না করা পর্যন্ত কেউ রাস্তায় গাড়ি বের করবেন না এমনটাই নির্দেশ মালিক পক্ষের।’

হবিগঞ্জ



রাস্তায় নিরাপত্তাজনিত কারণে সারা দেশের মতো হবিগঞ্জের সব সড়কে পরিবহন ধর্মঘট চলছে। এর ফলে যাত্রীরা পড়েছেন চরম দুর্ভোগে। শুক্রবার সকাল থেকে হবিগঞ্জের সব সড়কে বাস, মিনিবাস ও ট্রাক চলাচল করছে না।

হবিগঞ্জ বাস টার্মিনালের বাসচালক আবুল মিয়া বলেন, বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে রাস্তায় অহরহ গাড়ি ভাঙচুর করা হয়। আমাদের এবং গাড়ির নিরাপত্তা রাস্তায় নেই যে কারণে গাড়ি বন্ধ রাখা হয়েছে।

হবিগঞ্জ জেলা মোটর মালিক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক শঙ্ক শুভ্র রায় বলেন, ‘কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বাস ও শ্রমিকদের নিরাপত্তার অভাবে পরিবহন ধর্মঘট চলছে। কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পরবর্তী প্রদক্ষেপ নেওয়া হবে।’

শ্রমিক ধর্মঘটে অচল সারাদেশ রাজশাহী

কেন্দ্রের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী শুক্রবার সকাল থেকে রাজশাহী ও দেশের বিভিন্ন রুটে বাস চলাচল বন্ধ রেখেছে। হঠাৎ করে বন্ধ ঘোষণায় যাত্রা পথে বের হওয়া অনেকে ভাগান্তির মুখে পড়েছে। এমনই একজন হলেন সাকিল আহমেদ। তিনি বলেন, আগের দিন নওগাঁ থেকে রাজশাহী এসেছি। সকালে বরিশাল যাওয়ার জন্য বের হয়েছি। নগরীর ভদ্রা মোড়ে জানতে পারি বাস চলাচল বন্ধ।

রাজশাহী সড়ক পরিবহন গ্রুপের সদস্য নুরুজ্জামান মোহন বলেন, ‘ঢাকায় বাসের মালিক, চালক, হেলপারকে রিমান্ডে নিয়েছে। সেই সঙ্গে রাস্তায় বাস চলাচল করবে নিরাপদ সড়ক চাই নামে আন্দোলন করছে শিক্ষাথী। এতে করে যদি বাসের ক্ষতি হয় এজন্য কেন্দ্রের সিদ্ধান্তের কারণে আমরাও বন্ধ রেখেছি। তবে বিকালে সংবাদ সম্মেলন করে বিস্তারিত জানানো হবে।’

রাজশাহী মহানগর পুলিশের মুখপাত্র ও সিনিয়র সহকারী কমিশনার ইফতেখায়ের আলম বলেন, ‘কেন্দ্রের সিদ্ধান্তের কারণে বাস বন্ধ রেখেছে। তবে বিআরটিসি ও ট্রেন চলাচল করছে।’

বগুড়া

নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন ও নিরাপত্তার অভাবে বগুড়ার সঙ্গে ঢাকা ও চট্টগ্রাম রুটে কোচ চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার দিনভর স্বল্প পরিসরে কোচ চললেও সন্ধ্যার পর অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়।
শুক্রবার সকাল পর্যন্ত কোচ চলাচল বন্ধ থাকায় ওইসব রুটের যাত্রীদের চরম দূর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। বগুড়া মোটর মালিক গ্রুপের যুগ্ম আহবায়ক শাহ্ আখতারুজ্জামান ডিউক জানান, ঢাকায় প্রশাসনের সঙ্গে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের বৈঠক চলছে। নিরাপত্তা নিশ্চিত হলে সন্ধ্যা থেকে কোচ চলতে পারে।’

শ্রমিক ধর্মঘটে অচল সারাদেশ নারায়ণগঞ্জ

নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে যানবাহন ভাঙচুর করায় নিরাপত্তার দাবিতে ঢাকা- নারায়ণগঞ্জ রুটে সব ধরনের পরিবহন চলাচল বন্ধ রেখেছেন পরিবহন মালিক ও শ্রমিকরা। শুক্রবার সকাল থেকে অঘোষিত ধর্মঘট শুরু হওয়া দুর্ভোগে পড়েছেন যাত্রীরা।

নারায়ণগঞ্জ কেন্দ্রীয় বাস মালিক সমিতির সভাপতি মোক্তার হোসেন বলেন, রাস্তায় কোনও কারণ ছাড়াই ছাত্ররা নির্বিচারে গাড়ি ভাঙচুর করছে। গত পাচঁ দিনে নারায়ণগঞ্জসহ বিভিন্ন রুটে শত শত গাড়ি ভাঙচুর করা হয়েছে। এতে অনেক পরিবহন শ্রমিক আহত হয়েছে। শ্রমিকরা নিজের জীবনের নিরাপত্তার দাবিতে বাস চালাচ্ছে না। বাস ভাঙচুরের কারণে মালিকরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। যে কারণে শ্রমিকরা গাড়ি চালাতে চাচ্ছে না।’


শ্রমিক ধর্মঘটে অচল সারাদেশ

 খুলনা

সারাদেশের মতো খুলনায়ও অনির্দিষ্টকালের জন্য পরিবহন ধর্মঘট শুরু হয়েছে। এর ফলে খুলনা থেকে দূরপাল্লার রুটে কোনও যানবাহন ছেড়ে যায়নি। এ কারণে যাত্রীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েন।

খুলনা বাস-মিনিবাস কোচ মালিক সমিতির যুগ্ম সম্পাদক আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘কেন্দ্রীয় মালিক শ্রমিকের ডাকা ধর্মঘট কর্মসূচির সঙ্গে খুলনার মালিক ও শ্রমিকরা একমত পোষন করেছে। এ কারণে খুলনা থেকেও পরিবহন চলাচল বন্ধ রয়েছে।’

নোয়াখালী

নোয়াখালী থেকে ঢাকা, চট্টগ্রামসহ দূরপাল্লার রুটে সব ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। এতে করে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন যাত্রীরা। সকাল থেকে বিভিন্ন পরিবহনের কাউন্টারে এসে যাত্রীদের ফিরে যেতে দেখা যায়। কাউন্টার কর্মীরা জানিয়েছেন, মালিকদের নির্দেশে টিকেট বিক্রি বন্ধ রয়েছে।

কুষ্টিয়া
নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে কুষ্টিয়া থেকে সব সড়কপথে বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে। শুক্রবার (৩ আগস্ট) সকাল ১১টা থেকে আন্তঃজেলা ও দূরপাল্লার সব রুটে বাস চলাচল বন্ধ রেখেছেন পরিবহন মালিক ও শ্রমিকরা।

কুষ্টিয়া কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল শ্যামলী কাউন্টারের মাস্টার বাবলু হোসেন জানান, সকাল থেকে মেহেরপুর-কুষ্টিয়ার শ্যামলী পরিবহনের কোনও গাড়ি ছেড়ে যায়নি। যাত্রীরা কাউন্টারে এসে ঘুরে চলে যাচ্ছেন। জেআর পরিবহনের কুষ্টিয়া কাউন্টার মাস্টার মিন্টু জানান, শুক্রবার সকালে কুষ্টিয়া থেকে কোনও গাড়ি ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে যায়নি। সারাদেশে শিক্ষার্থীদের যে আন্দোলন চলছে এ কারণে চালকরা নিরাপত্তার অযুহাত দেখিয়ে গাড়ি চালাচ্ছেন না। তাই সকাল থেকে গাড়ি চলাচল বন্ধ রয়েছে।

কুষ্টিয়া জেলা বাস মিনিবাস কোচ ও মাইক্রোবাস শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মাহাবুল আলম বলেন, ‘শিক্ষার্থী ও বহিরাগত কিছু যুবক লাইসেন্স দেখার কথা বলে বাসে ভাঙচুর চালাচ্ছে। তাই নিরাপত্তার কারণে আমরা বাস না চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’



জেলা বাস মিনিবাস মালিক সমিতির সভাপতি মকবুল হোসেন বলেন, ‘শ্রমিক নেতারা বাস চালাচ্ছে না। তাই স্থানীয় ও দূরপাল্লার সব ধরনের বাস বন্ধ করে রাখা হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে বাস চলবে। হঠাৎ বাস না চলার এমন সিদ্ধান্তের কথা অনেকেই জানতেন না। সে কারণে অনেক যাত্রী দুর্ভোগে পড়েন।’

কুমিল্লা

ভাঙচুর ও মারধরের ভয়ে কুমিল্লা থেকে ঢাকাগামী যাত্রীবাহী বাস চলাচল বন্ধ রেখেছে কুমিল্লা জেলা বাস মালিক সমিতি ও শ্রমিক ইউনিয়ন। সংগঠনটির নেতারা বলছে, যানবাহন ভাঙচুর, মারধর ও গাড়িতে আগুন দেওয়ার ঘটনায় চালক ও হেলপারদের মধ্যে এক ধরনের ভয় ও আতঙ্ক কাজ করছে। তাই তারা বাস ছাড়ছেন না।

এশিয়া ইয়ারকোন বাসের চালক মহিবুর রহমান বলেন, ‘ঢাকার ভিতরে ঢুকলেই শিক্ষার্থীরা গাড়ি ভাঙচুর ও চালকদের মারধর করে। গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়। যাত্রী নিয়ে ঢাকা ঢুকতে আমাদের মধ্যে এক ধরণের ভয় ও আতঙ্ক কাজ করে। ফলে চালকরা গাড়ি চালাচ্ছেন না।’

কুমিল্লা জেলা বাস মালিক ও শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মোহাম্মদ আলী বলেন, ‘বাস না চালাতে আমাদের কোনও সংগঠন বা রাজনৈতিক নিষেধাজ্ঞা নেই। রাজধানীতে শিক্ষার্থীরা আন্দোলন করে যানবাহন ভাঙচুর, মারধর ও গাড়িতে আগুন দেওয়ার ঘটনায় চালক ও হেলপাররা ভয়ে ও আতঙ্কে গাড়ি চালাচ্ছেন না।’

সিরাজগঞ্জ
সিরাজগঞ্জ জেলা শহর থেকে বিভিন্ন রুটে শুক্রবার সকাল থেকে বাস, ট্রাক ও সিএনজি অটোরিকশা চলাচল অনির্দিষ্ট কালের জন্য বন্ধ রাখা হয়েছে। জেলা বাস মালিক সমিতির কার্যালয়ে বৃহস্পতিবার (২ আগস্ট) রাতে জেলা বাস, ট্রাক ও সিএনজির মালিক-শ্রমিক সংগঠনের নেতারা এক বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেন। জেলা বাস, মিনিবাস ও কোচ মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মেজবাউল ইসলাম বলেন, ‘নিরাপত্তার ঘাটতি থাকায় বৃহস্পতিবার রাতে আমরা ৩টি সংগঠনের মালিক-শ্রমিক নেতৃবৃন্দ অনেকটা বাধ্য হয়েই এ ধরনের সিদ্ধান্ত নিই।’

সিরাজগঞ্জ থেকে বিভিন্ন রুটে গণপরিবহন চলছে না শুক্রবার (৩ আগস্ট) সকালে জেলা শহরের এম.এ.মতিন বাস টার্মিনাল থেকে কোনও স্বল্প ও দূরপাল্লার বাস ছেড়ে যেতে দেখা যায়নি। টার্মিনালের সামনে ভোর থেকেই শ্রমিক-চালকরা বিক্ষুব্ধ হয়ে বিভিন্ন যানবাহনে বাধার সৃষ্টি করেন। সদর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রথমে সামাল দিতে হিসসিম খান। পরে বাস শ্রমিক সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক আনসার আলী গিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেন।

এদিকে যানবাহন বন্ধ থাকায় দুর্ভোগে পড়েছেন জেলা শহরে আসা দূর-দূরান্তের যাত্রীরা। বাস, ট্রাক ও সিএনজি অটোরিকশা বন্ধ থাকায় বেশি ভাড়ায় ইজিবাইক ও রিকশা চড়ে এক স্থান থেকে অন্যস্থানে যাচ্ছেন যাত্রীরা।

হিলি
বাস ভাঙচুর, পুড়িয়ে দেওয়া, যাত্রী, চালক ও সহকারীদের নিরাপত্তাজনিত কারণে দিনাজপুরের হিলি থেকে রাজধানী ঢাকাগামী সকল যাত্রীবাহী কোচ চলাচল বন্ধ করে দিয়েছেন পরিবহন মালিকেরা। এতে করে বিপাকে পড়েছেন যাত্রীরা। তবে হিলি থেকে অভ্যন্তরীণ সকল রুটে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। শুক্রবার (৩ আগস্ট) সকাল থেকে হিলি থেকে রাজধানী ঢাকাগামী সকল প্রকার যাত্রীবাহী কোচগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। তবে হিলি থেকে অভ্যন্তরীণ রুট হিলি-দিনাজপুর, হিলি-জয়পুরহাট সড়কে যাত্রীবাহী বাস চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। তবে হিলি-বগুড়া রুটে যাত্রিবাহী বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে।

ভারত থেকে দেশে ফেরা বৃষ্টি কুমারী বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, তার বাসা টাঙ্গাইলে, এক সপ্তাহ আগে পাসপোর্টযোগে তার স্বামীকে নিয়ে ভারতের চেন্নাইতে যাই চিকিৎসার জন্য। চিকিৎসা শেষে আজ সকালে ভারত থেকে দেশে ফিরেন তারা । কিন্তু হিলিতে এসে দেখেন কোনও ঢাকাগামী কোচ চলাচল করছে না। এতে করে তিনি অসুস্থ স্বামীকে নিয়ে বিপাকের মধ্যে পড়েন। হঠাৎ করে কোনও ঘোষণা ছাড়াই এভাবে বাস চলাচল বন্ধ করে দেওয়ায় তারা বিপাকে পড়েছেন বলে জানান বৃষ্টি কুমারী।

হিলি স্থলবন্দরের হানিফ পরিবহনের কাউন্টার ম্যানেজার আহাদ আলী সরকার বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘গত কয়েকদিন ধরে ঢাকাতে নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন চলছে। ওই আন্দোলনে ছাত্ররা নির্বিচারে অনেক বাস ভাঙচুর করেছে, পুড়িয়ে দিয়েছে। এছাড়াও বাসের চালক ও সহকারীদের মারধর করেছে। এছাড়াও যাত্রীদের নিরাপত্তার বিষয়টি রয়েছে। তাই আমরা নিরাপত্তাজনিত কারণে আজ সকাল থেকে হিলি থেকে রাজধানীগামী সকল যাত্রীবাহী কোচ চলাচল বন্ধ করে দিয়েছি। সমস্যার সমাধাণ না হওয়া পর্যন্ত গাড়ি চলাচল বন্ধ থাকবে।’

 

/আইএ/এআর/এনআই/
সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
যেখানে সকালে বারান্দায় এলেই দেখা মেলে জোড়া রংধনুর
যেখানে সকালে বারান্দায় এলেই দেখা মেলে জোড়া রংধনুর
সরকারি কর্মকর্তাদের বিদেশ সফরের আড়ালে কী
সরকারি কর্মকর্তাদের বিদেশ সফরের আড়ালে কী
গরমে শিশুর সুরক্ষা: সামান্য ভুলও ডেকে আনতে পারে বড় বিপদ
গরমে শিশুর সুরক্ষা: সামান্য ভুলও ডেকে আনতে পারে বড় বিপদ
থানার ভেতরে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতাকে পিটিয়ে আহত, ৩ পুলিশ প্রত্যাহার
থানার ভেতরে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতাকে পিটিয়ে আহত, ৩ পুলিশ প্রত্যাহার
সর্বাধিক পঠিত
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম