রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) আইন বিভাগে শিক্ষক নিয়োগের অনিয়ম নিয়ে উপ-উপাচার্য অধ্যাপক চৌধুরী মো. জাকারিয়া মিথ্যাচার করছেন বলে দাবি করেছেন আইন বিভাগের সভাপতি ও ডিসেন্ট ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী অধ্যাপক আব্দুল হান্নান। তিনি বলেন, ‘দুই লাখ টাকার চেক নিয়ে উপ-উপাচার্যের বক্তব্য সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।’
তার ইমেজ ক্ষুণ্ন করার জন্য এমনটা করা হচ্ছে বলেও দাবি করেন জামায়াতপন্থী এ শিক্ষক। সম্প্রতি বাংলা ট্রিবিউনের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ দাবি করেন।
তিনি বলেন, ‘ভাইভা বোর্ডের আগে চাকরি প্রত্যাশীরা শিক্ষকদের সঙ্গে দেখা করতে আসেন। বিভাগের সভাপতি হওয়ার কারণে নুরুল হুদাও আমার সঙ্গে দেখা করতে আসেন। এ সময় তার পরিচিত কয়েকজন বন্ধু আমার চেম্বারে জমি কিনতে এসেছিল। ওইদিন জমির রেজিস্ট্রি না হওয়ায় ওরা টাকা দেয়নি। এ অবস্থায় আমি টাকার জন্য বিভিন্ন জায়গায় ফোন করছিলাম। হুদা বিষয়টি বুঝতে পেরে সে আমাকে জিজ্ঞেস করেন আমার টাকার প্রয়োজন কিনা। আমি তখন টাকার কথা বললে সে আমাকে দুই লাখ টাকা দিতে চায়। আমি তখন তাকে বলেছি, “তুমি এ টাকা ধার হিসেবে যদি দিতে চাও তবে দাও, এর সঙ্গে নিয়োগের কোনও সম্পর্ক নেই।” এ কথার ওপর সে দুই লাখ টাকা ডিসেন্ট ট্রেডার্সের অ্যাকাউন্টে পাঠায়।’
গত ৩ অক্টোবর উপ-উপাচার্য অধ্যাপক চৌধুরী মো. জাকারিয়ার সংবাদ সম্মেলনে দেওয়া বক্তব্য মিথ্যা দাবি করে জামায়াতপন্থী এ শিক্ষক বলেন, ‘উপ-উপাচার্য সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, নিয়োগ না হওয়ায় টাকা ফেরত দেওয়া হয়েছে। অথচ নিয়োগের ভাইভা অনুষ্ঠিত হওয়ার আগে নুরুল হুদার টাকা ফেরত দেওয়া হয়েছে।’
এ সংক্রান্ত মানি ডিপোজিটের একটি রশিদ দেখিয়ে আব্দুল হান্নান বলেন, ‘নিয়োগ ভাইভা বোর্ড অনুষ্ঠিত হয় ১৩ নভেম্বর। তা সিন্ডিকেটে পাস হয় ১৭ নভেম্বর। সুতরাং ১৭ নভেম্বরের আগে কার নিয়োগ হবে সেটি কারও জানার কথা নয়। ডিসেন্ট ট্রেডার্স নুরুল হুদার অ্যাকাউন্টে ১২ নভেম্বর টাকা ফেরত দেয়। এ থেকে প্রমাণিত হয় যে উপ-উপাচার্যের সংবাদ সম্মেলনে দেওয়া বক্তব্য মিথ্যা ও বানোয়াট।’
বিষয়টি নিয়ে এতোদিন কেন সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেননি? এমন প্রশ্নে অধ্যাপক আব্দুল হান্নান বলেন, ‘আমি চাইনি উপ-উপাচার্যের সঙ্গে আমার সম্পর্ক খারাপ হোক। কিন্তু এখন যেহেতু তিনি আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অপবাদ দিয়ে আমার ইমেজ নষ্ট করছেন, তাই আমিও সত্যটা প্রকাশ করবো। প্রয়োজন হলে আমি আদালতে যাবো।’ আগামী দু-একদিনের মধ্যে সংবাদ সম্মেলন করে নিজের অবস্থান তুলে ধরবেন বলেও জানান জামায়াতপন্থী এ শিক্ষক।
এ বিষয়ে উপ-উপাচার্য অধ্যাপক চৌধুরী মো. জাকারিয়ার মন্তব্য জানতে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।
প্রসঙ্গত, গত ৩০ সেপ্টেম্বর রাবি উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. চৌধুরী মো. জাকারিয়ার একটি ফোনালাপ ফাঁস হয়। এতে তিনি সাদিয়া নামে এক ছাত্রীর কাছে কত টাকা দিতে রেডি তা জানতে চান। বিষয়টি নিয়ে ওইদিন সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা না বললেও ১ অক্টোবর বিকালে উপ-উপাচার্য লিখিত বক্তব্যে দাবি করেন, ফাঁস হওয়া রেকর্ডটি আংশিক ও খণ্ডিতভাবে উপস্থাপন করে তার সম্মানহানির চেষ্টা করা হয়েছে। অডিও ফাঁসের পর বিষয়টি নিয়ে সমালোচনার ঝড় ওঠে। বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্রিয়াশীল ছাত্র সংগঠনগুলো তার পদত্যাগ দাবি করে।
এর অবস্থায় তিনি ৩ অক্টোবর ফের সংবাদ সম্মেলন করেন। সেখানে তিনি দাবি করেন, ছাত্রীর সঙ্গে কথোপকথনে যে টাকার বিষয়ে কথা হয়েছিল, সেই টাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক আব্দুল হান্নান নিয়েছিলেন।








