আদালতের সিলগালা উপেক্ষা করে ক্লিনিকে অস্ত্রোপচারে রোগীর মৃত্যু, আটক ২

Send
পাবনা প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ১৩:৪৪, নভেম্বর ১২, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১৪:০২, নভেম্বর ১২, ২০১৯

আটক চিকিৎসক ও তার সহকারী



ভ্রাম্যমাণ আদালতের সিলগাল উপেক্ষা করে অপারেশন করার সময় প্রসূতির অবস্থা সঙ্কটাপন্ন হয়ে পড়ে। অপারেশ থিয়েটারে রোগী ফেলে পালানোর সময় চিকিৎসকসহ ২ জনকে আটক করে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপর্দ  করেছে এলাকাবাসী। সোমবার (১১ নভেম্বর) রাতে  পাবনার চাটমোহর উপজেলায় ‘নারিকেলপাড়া ইসলামিক হাসপাতাল’ নামে একটি ক্লিনিকে এই ঘটনা ঘটে। পরে শঙ্কটাপন্ন অবস্থায় তাছলিমা




খাতুনকে (৩৫) উদ্ধার করে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। চাটমোহর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সেখ নাসীর উদ্দিন এ কথা জানান।

মৃত তাছলিমা খাতুন উপজেলার বিলচলন ইউনিয়নের বোঁথড় গ্রামের ইসমাইল হোসেনের স্ত্রী। আটক চিকিৎসক সাদ্দাম হোসেন নীরব পাশের বড়াইগ্রাম উপজেলার বাসিন্দা। আটক চিকিৎকের সহকারীর নাম আসাদুজ্জামান। অন্যদিকে ক্লিনিক মালিক আমির হোসেন বাবলু কৌশলে পালিয়ে গেছেন।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয়রা জানান, সোমবার তাছলিমা খাতুনের প্রসব বেদনা শুরু হলে তাকে সিজারিয়ান অপারেশনের জন্য স্বজনরা পৌর এলাকার  নারিকেলপাড়া মহল্লার ‘চাটমোহর ইসলামিক হাসপাতাল’ নামে ওই ক্লিনিকে ভর্তি করেন। রাত সাড়ে আটটার দিকে সাদ্দাম হোসেন নীরব, তার সহকারী আসাদুজ্জামান,
ক্লিনিক মালিক আমির হোসেন বাবলু ও দু’জন নার্স মিলে অস্ত্রোপচার করেন।
অস্ত্রোপচারের পর তাছলিমা খাতুন একটি কন্যা সন্তান প্রসব করেন।

এ সময় রোগীর অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ শুরু হলে অবস্থা বেগতিক দেখে সার্জন ও তার সহকারী পালানোর সময় তাদের আটক করে গণধোলাই দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করে এলাকাবাসী। পুলিশ উত্তেজিত রোগীর স্বজন ও স্থানীয়দের কাছ থেকে তাদের উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। পরে তাছলিমা খাতুনকে সঙ্কটাপন্ন অবস্থায় পাবনা
জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

চাটমোহর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সেখ নাসীর উদ্দিন জানান, সাদ্দাম হোসেন এবং তার সহকারী আসাদুজ্জামানকে আটক করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের লাশ পাবনা হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। মঙ্গলবার আটক দুই জনকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হবে।

প্রসঙ্গত, চলতি বছরের ৩ জুলাই চাটমোহর ইসলামিক হাসপাতালে অ্যানেসথেশিয়ার চিকিৎসক ছাড়া ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে অস্ত্রোপচারের কারণে ওই সার্জন এবং ক্লিনিক মালিককে জরিমানা করেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. ইফতেখারুল ইসলাম। এছাড়াও ক্লিনিকটি সিলগালা করে দেওয়া হয়। এরপরও কাউকে না জানিয়ে সিলগালা ভেঙে আবারও ওই ক্লিনিকে অপারেশন শুরু করে সার্জন সাদ্দাম হোসেন এবং ক্লিনিক মালিক।

 

/জেবি/

লাইভ

টপ