শিক্ষকদের অসম্মান করা রীতিতে পরিণত হয়েছে: ফজলে হোসেন বাদশা

Send
রাজশাহী প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ২১:০২, নভেম্বর ১২, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ২১:১৭, নভেম্বর ১২, ২০১৯

রাজশাহী পলিটেকনিক অধ্যক্ষকে পুকুরে ফেলার ঘটনায় বিচার নিশ্চিতে নিজের কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছেন শিক্ষা মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ও বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক ফজলে হোসেন বাদশা। তিনি বলেছেন, ‘শিক্ষকদের অসম্মান করা এখন রীতিতে পরিণত হয়েছে। কিন্তু আমরা এখনও শিক্ষকদের পা ছুঁয়ে সালাম করি। পলিটেকনিকের এই ঘটনা (শিক্ষককে পুকুরে ফেলে দেওয়া) শুনে আমি স্তম্ভিত। রাজশাহীর এই ঘটনা নিয়ে ঢাকায় একটা অনুষ্ঠানে আমাকে প্রশ্ন করা হয়েছিল। আমি বলেছি, যে পুকুরে অধ্যক্ষকে ফেলে দেওয়া হয়েছিল সেই পুকুরের পানিতে আমি মুখটা ধুয়ে আসবো। কারণ, শিক্ষক পবিত্র। তাকে পানিতে ফেলে দেওয়ায় পানিটাও পবিত্র হয়ে গেছে।’

মঙ্গলবার (১২ নভেম্বর) দুপুরে পলিটেকনিক অধ্যক্ষ ফরিদ উদ্দিন আহম্মেদের সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন ফজলে হোসেন বাদশা।

রাজশাহী-২ (সদর) আসনের এই সংসদ সদস্য আরও বলেন, ‘মূল অভিযুক্তদের গ্রেফতার করা হয়নি। স্বজনপ্রীতি করা হয়েছে। রাজশাহীতে তাদের খাতির করা হলেও ঢাকায় হবে না।’ বিষয়টি নিয়ে তিনি সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে এবং শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলবেন বলেও জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, ‘এই পলিটেকনিকে ছাত্রমৈত্রী নেতা সানিকে খুন করা হয়েছে। তার রক্তের দাগ না মুছতেই মাত্রা অতিক্রম করে অধ্যক্ষকে লাঞ্ছিত করা হলো। এদের দমন করা এখন অপরিহার্য দায়িত্ব হয়ে দাঁড়িয়েছে। আমি ঢাকায় সরকারের উচ্চপর্যায়ে কথা বলবো, যেন তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়।’

তিনি বলেন, ‘এখানে এসে শুনলাম, অধ্যক্ষকে পানিতে ফেলার ঘটনায় অভিযুক্ত ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের সিংহভাগই অনুপ্রবেশ করেছে। তারা শিবির-ছাত্রদল থেকে এসেছে। এখন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছাত্র রাজনীতির নামে দুর্বৃত্তায়ন চলছে। সারাদেশেই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অস্থিরতা চলছে। এসব নিয়ে আমি সংসদীয় কমিটি এবং শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলবো। অপরাধীদের ছাড় দেওয়া হবে না।’

এ সময় পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট থেকে ওই ঘটনার প্রাথমিক তদন্ত প্রতিবেদন, ঘটনার সময়ের ক্লোজ সার্কিট (সিসি) ক্যামেরার ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহ করেন ফজলে হোসেন বাদশা। এসব প্রমাণ সংসদীয় কমিটি এবং শিক্ষামন্ত্রীকে দেখাবেন বলেও জানিয়েছেন তিনি।

এ সময় অধ্যক্ষ ফরিদ উদ্দিন আহম্মেদ, পাওয়ার বিভাগের প্রধান মোস্তাফিজুর রহমান, ইলেকট্রিক্যাল বিভাগের প্রধান শহিদুল ইসলাম, ইলেক্ট্রোমেডিক্যাল বিভাগের প্রধান মো. ইউনুস, পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট শিক্ষক পরিষদের সভাপতি এসএম হুমায়ুন, ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (অ্যাকাডেমিক) আলতাফ হোসেন উপস্থিত ছিলেন।

জানা গেছে, এই ঘটনায় মঙ্গলবার (১২ নভেম্বর) পর্যন্ত ১৩ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তবে মূল অভিযুক্তরা এখনও অধরা। কারিগরি শিক্ষা অধিদফতর থেকে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করে ঘটনাটি তদন্ত করা হয়েছিল। ৭ নভেম্বর অধিদফতরের মহাপরিচালক রওনক মাহমুদের কাছে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেছে কমিটি। রাজশাহী মহানগর ছাত্রলীগের পক্ষ থেকেও ছয় সদস্যের কমিটি গঠন করে ঘটনাটি তদন্ত করা হয়েছে।

এছাড়া ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগে পলিটেকনিক শাখা ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কামাল হোসেন সৌরভকে দল থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করেছে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ। একইসঙ্গে রাজশাহী পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে ছাত্রলীগের কমিটি এবং তাদের সব ধরনের কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে।

প্রসঙ্গত, মিডটার্মে ফেল এবং ক্লাসে অনুপস্থিত থাকা পলিটেকনিক শাখা ছাত্রলীগের সদ্য বহিষ্কৃত যুগ্ম সম্পাদক কামাল হোসেন সৌরভকে ফাইনাল পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ দিতে ২ নভেম্বর সকালে অধ্যক্ষ ফরিদ উদ্দিনের কার্যালয়ে গিয়ে চাপ দেয় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। এ নিয়ে অধ্যক্ষের সঙ্গে তাদের কথাকাটাকাটি হয়। এর জের ধরে সেদিন দুপুরে অধ্যক্ষকে লাঞ্ছিত করার পর টেনেহিঁচড়ে ক্যাম্পাসের ভেতরের একটি পুকুরের পানিতে ফেলে দেওয়া হয়। এ ঘটনায় সাত জনের নাম উল্লেখসহ ৫০ জনকে আসামি করে নগরীর চন্দ্রিমা থানায় মামলা করেন অধ্যক্ষ।

/এএইচ/এমওএফ/

লাইভ

টপ