বেনাপোল কাস্টমস থেকে চুরি হওয়া সোনা উদ্ধার হয়নি

Send
বেনাপোল প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ১৪:৫০, নভেম্বর ১৫, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১৪:৫৮, নভেম্বর ১৫, ২০১৯

বেনাপোল কাস্টমস হাউস থেকে চুরি হওয়া ১৯ কেজি ৩৮০ গ্রাম সোনা গত চার দিনেও উদ্ধার হয়নি। এ ঘটনায় সেখানকার নিরাপত্তা ব্যবস্থার গাফিলতিকে দায়ী করছেন ব্যবসায়ীরা। এ ঘটনায় আটক কাস্টমস ও এনজিও সদস্যসহ সাতজনকে তিন দিন জিজ্ঞাসাবাদ শেষে যশোর ডিবি পুলিশের হাতে সোপর্দ করা হয়েছে। এদিকে চুরির রহস্য উদঘাটনে ৯ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। একই সঙ্গে কাস্টমস হাউসের কমিশনার বেলাল হোসাইন চৌধুরীকে বৃহস্পতিবার (১৪ নভেম্বর) ঢাকায় বদলি করা হয়েছে।
সূত্র জানায়, বেনাপোল কাস্টমস হাউসে যে লকার রুম থেকে সোনা চুরি হয়েছে সেটির সামনে ছিল সিসি ক্যামেরা। ভবনটির প্রধান গেট ও কাস্টমস কর্মকর্তাদের বিভিন্ন আবাসিক ভবনে সার্বক্ষণিক নিরাপত্তায় কাস্টমস সদস্যেদের পাশাপাশি রয়েছে ৩০ জন সশস্ত্র আনসার সদস্য। তবে যে ভবনটিতে সরকারের এতো মূল্যবান সম্পদ রয়েছে সেখানে কোনও সশস্ত্র নিরাপত্তা কর্মীর পাহারা ছিল না। এমন কি সেখানে যে সিসি ক্যামেরা ছিল সেটিও তিনদিন বন্ধ ছিল। যে ভবনটিতে লকার রুম ছিল তার পেছনের অংশ যথেষ্ট নিরাপত্তাহীন দেখা যায়।
বেনাপোল কাস্টমসের ডেপুটি কমিশনার শামিম হোসেন জানান, চুরির ঘটনায় ৯ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন এবং থানায় মামলা করা হয়েছে। বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা তথ্য উদঘাটনে কাজ করছেন।
ভারত-বাংলাদেশ ইমপোর্ট এক্সপোর্ট ল্যান্ডপোর্ট সাব কমিটির চেয়ারম্যান মতিয়ার রহমান বলেন, সরকারি এতো মূল্যবান সম্পদ বছরের পর বছর এভাবে অযত্নে কাস্টমস হাউসের লকারে না রেখে ব্যাংকের ভল্টে রাখলে হয়তো এমন ক্ষতি হতো না। ভ্যবিষ্যতে এ ধরনের চুরি রোধে বেনাপোল কাস্টমসে বহিরাগতদের অবস্থান ও প্রবেশে কড়াকড়ি আরোপের দাবি জানান তিনি।
বেনাপোল কাস্টমসের নিরাপত্তায় নিযুক্ত আনসারের পিসি মাহাবুবুর রহমান জানান, কাস্টমস কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী কাস্টমস হাউসের বিভিন্ন স্থানে তারা নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করে থাকেন। কিন্তু যেখানে লকার রয়েছে সে বিষয়ে তারা জানতেন না।
বেনাপোল পোর্ট থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মামুন খান বলেন, এ বিষয়ে বেনাপোল পোর্ট থানায় একটি চুরির মামলা দায়ের করে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ। এ ঘটনায় একজন কাস্টমস কর্মকর্তা, একজন সিপাইসহ তিন এনজিও সদস্যকে আটক করা হয় এবং তদন্তের জন্য আটকদের ডিবি পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
প্রসঙ্গত, গত সোমবার (১১ নভেম্বর) সকালে কাস্টমস কর্মকর্তারা অফিসে ঢুকে কাস্টমস হাউসের পুরানো ভবনের দ্বিতীয় তলায় অবস্থিত লকারের রুমের দরজার তালা ভাঙা দেখতে পান। পরে কাস্টমসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বিষয়টা জানানো হলে চুরির রহস্য উদঘাটনে বিভিন্ন প্রশাসনিক গোয়েন্দা সংস্থাকে খবর দেওয়া হয়। তারা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে কাস্টমসের লকারের দায়িত্বে থাকা এক ইন্সেপেক্টরসহ চার কাস্টমস সিপাইকে সাময়িক বরখাস্ত করেন এবং তিনজন এনজিও সদস্যকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রাতেই পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়।

আরও পড়ুন: বেনাপোল কাস্টমসের লকার ভেঙে ২০ কেজি সোনা চুরি

             বেনাপোল কাস্টমসের লকার থেকে সোনা চুরি, ইন্সপেক্টরসহ ৫ জন বরখাস্ত

 

/ওআর/

লাইভ

টপ