কুড়িগ্রামে মন্দিরে হামলা, গ্রেফতার ৬

Send
কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ২১:৫২, ডিসেম্বর ১৪, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ২১:৫৪, ডিসেম্বর ১৪, ২০১৯

BT New Tempকুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীতে প্রতিপক্ষের বাড়িতে হামলা করে মন্দিরে অগ্নিসংযোগ ও প্রতিমা ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। পুলিশের ধারণা, জমিসংক্রান্ত বিরোধের জেরে এ হামলা হয়েছে। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে হামলাকারী সন্দেহে ছয়জনকে আটক করেছে। শনিবার (১৪ ডিসেম্বর) সকালে উপজেলার সদর ইউনিয়নের কবিরমামুদ গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

ঘটনার পরপরই ফুলবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাছুমা আরেফিন এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মেনহাজুল আলম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

জানা গেছে, উপজেলা সদরের কবিরমামুদ গ্রামের মৃত হরেন্দ্রনাথ রায়ের ছেলে স্কুলশিক্ষক হরিকান্ত রায়ের সঙ্গে একই গ্রামের মৃত হানিফ উদ্দিনের ছেলে দুলাল হোসেন গং-এর ৫২ শতক জমির মালিকানা নিয়ে প্রায় ১৫ বছর ধরে বিরোধ চলে আসছে। এ নিয়ে উচ্চ আদালতে একটি মামলাও চলমান রয়েছে। এর জের ধরে শনিবার সকাল ৮টার দিকে ২০-২৫ জনের একটি দল হরিকান্ত রায়ের বসতবাড়িতে হামলা চালায়। এ সময় বাড়ির উঠানের একটি মন্দিরে অগ্নিসংযোগ এবং সেখানে থাকা প্রতিমা ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।

খবর পেয়ে ফুলবাড়ী থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে হামলাকারী সন্দেহে মোস্তফা, ইসমাইল, মুকুল, সোবাহান, রশিদ ও শামছুল নামে ছয়জনকে আটক করেছে পুলিশ। পরে হরিকান্ত রায়ের বড়ভাই সুশীল চন্দ্র রায় বাদী হয়ে ২৪ জনকে আসামি করে থানায় মামলা দায়ের করেন।

স্কুলশিক্ষক হরিকান্ত রায় জানান, ‘আমাকে মেরে ফেলার জন্য তারা আমার বাড়িতে হামলা করে। কিন্তু বাড়িতে প্রবেশ করতে না পেরে মন্দিরে আগুন দেয়, প্রতিমা ভাঙচুর করে। আমি এই ঘটনার উপযুক্ত বিচার চাই।’

আটক ব্যক্তিদের মধ্যে মোস্তফা ও মুকুল জানান, বাড়িতে হামলা বা মন্দিরে আগুন দেওয়ার বিষয়ে তারা কিছুই জানেন না। তাদের দাবি, ঘটনাটি সাজানো। অভিযুক্ত প্রতিপক্ষ দুলাল পলাতক থাকায় তার সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

ফুলবাড়ী সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হারুন অর রশীদ জানান, জমিসংক্রান্ত বিরোধে ওই  দুই পক্ষের মধ্যে গত বৃহস্পতিবার সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সে সময় উভয় পক্ষের আহত পাঁচজন এখনও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। এর মধ্যে শনিবার সকালে কে বা কারা হরিকান্ত রায়ের বাড়ির সামনের একটি মন্দিরের দরজায় রাখা খড়ে আগুন দেয় ও প্রতিমা ভাঙচুর করে। তিনি আরও বলেন, ‘এটি প্রতিপক্ষের হামলা নাকি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্টের ষড়যন্ত্র তা তদন্ত না করে বলা সম্ভব নয়। আমরা উভয় পক্ষকে শান্ত থাকতে বলেছি।’

ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ফিরে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জানান, কে বা কারা হামলা করেছে তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘এটি কোনও সাম্প্রদায়িক বিরোধ নয়। দীর্ঘদিন ধরে উভয় পক্ষের মধ্যে চলে আসা জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের কারণে হামলার ঘটনা ঘটতে পারে।’

ফুলবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার ফুয়াদ রুহানী জানান, ‘এ ঘটনায় মামলা হয়েছে। আমরা ইতোমধ্যে ছয়জনকে গ্রেফতার করেছি। তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

ইউএনও মাছুমা আরেফিন বলেন, ‘সংবাদ পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। তাদের সঙ্গে প্রতিপক্ষের জমির মালিকানা নিয়ে প্রায় ১৫ বছর ধরে মামলা চলছে। ইতোমধ্যে উভয় পক্ষের মধ্যে কয়েকবার সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটেছে। বিষয়টি সাম্প্রদায়িক নয়, জমিজমা সংক্রান্ত। আমরা ঘটনা তদন্ত করে দেখছি।’

 

/এমএএ/

লাইভ

টপ