সম্প্রতি আওয়ামী লীগের জাতীয় সম্মেলনে গিয়ে নজর কেড়েছেন কুষ্টিয়ার সদর উপজেলার পশ্চিম আব্দালপুর ইউনিয়নের শতবর্ষী প্রবীণ নেতা ইসহাক আলী মাস্টার। প্রচণ্ড শীত উপেক্ষা করে লাঠিতে ভর করে আওয়ামী লীগের সম্মেলনে উপস্থিত হন তিনি। সদরের পশ্চিম আব্দালপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি এই বৃদ্ধের ইচ্ছা একবার বঙ্গবন্ধুকন্যা ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে দেখা করা।
সরেজমিন জানা যায়, খুব সাদামাটা জীবনযাপন করেন ইসহাক আলী মাস্টার। এখনও থাকেন একটি মাটির ঘরে। ঘরটিতে দুটি কক্ষ। তার সঙ্গে কথা বলতে বাড়িতে গেলেও পাওয়া যায়নি তাকে। আওয়ামী লীগের সম্মেলনে যোগ দেওয়ার পর এখনও ঢাকা থেকে বাড়িতে ফেরেননি তিনি।
কথা হয় ইসহাক আলীর দ্বিতীয় ছেলে আলী আসাদ রিপনের সঙ্গে। তিনি জানান, এখনও আওয়ামী লীগের যেকোনও মিছিল, মিটিং, সম্মেলনে অংশগ্রহণ করেন তার পিতা। বয়সের ভারে কিছুটা নুয়ে পড়লেও এখনও সব কাজ নিজেই করেন তিনি।
সোমবার (২৩ ডিসেম্বর) বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে ইসহাক আলী মাস্টারের সঙ্গে মোবাইল ফোনে কথা হয়। তিনি বলেন, ‘আমরা বংশগতভাবে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। শেখ মুজিবের সঙ্গে আমি পঞ্চাশের দশক থেকেই আওয়ামী লীগের রাজনীতি করে আসছি। এখনও আমি আওয়ামী লীগের কর্মসূচিতে যোগ দিই। মিছিল, মিটিং, সম্মেলনে অংশগ্রহণ করি। এমনকি কোনও অনুষ্ঠানে আমাকে দাওয়াত না দিলেও আমি সেখানে অংশগ্রহণ করি।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমার এলাকায় স্কুল, মাদ্রাসা, মসজিদ অনেক কিছু প্রতিষ্ঠা করেছি। ১৯৫৬ সালে সর্বপ্রথম ইউনিয়ন পরিষদের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছিলাম। এরপর ১৯৭২ সালে ইউনিয়ন রিলিফ কমিটির চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছি। পরবর্তীতে ১৯৭৪ সাল ও ১৯৮৫ সালে আব্দালপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান নিবাচিত হই।’
তিনি আরও বলেন, ‘ভাষা আন্দোলন, হাবিবুর রহমান শিক্ষানীতির বিরুদ্ধে আন্দোলন, ছয় দফা আন্দোলন, ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থান, ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা সংগ্রামসহ সব আন্দোলনে অংশগ্রহণ করেছি।’
বঙ্গবন্ধুর স্মৃতিচারণ করে ইসহাক আলী বলেন, ‘১৯৫০ সালের দিকে যশোরের চাঁনমঞ্জিলে বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে একটি বৈঠক করেছিলাম। এটাই ছিল বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে আমার প্রথম সাক্ষাৎ।’
আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত হাওয়া সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘মুসলিম লীগ থেকে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হয়েছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘১৯৫০ সালে প্রথম যশোরে আওয়ামী লীগের মিটিং হয়। সেই মিটিংয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হক, সোহরাওয়ার্দী সাহেব ছিলেন, সেখানে আমি ছিলাম।’
জীবনের এই পড়ন্ত বেলার অপূর্ণ ইচ্ছার ব্যাপারে তিনি বলেন, ‘জেলা আওয়ামী লীগের কমিটির সদস্য হিসেবে আমাকে রাখা হলে আমি খুশি হতাম। এছাড়াও জীবনে সবারই ইচ্ছা থাকে দলীয় প্রধানের সঙ্গে সাক্ষাতের, এটি আমারও রয়েছে। বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাৎ করার ইচ্ছা আছে আমার। প্রধানমন্ত্রী দেশের যে উন্নয়ন করে চলেছেন, সেজন্য তাকে কৃতজ্ঞতা জানাতে একবার দেখা করতে চাই।’








