ভোট ছাড়াই স্টুডেন্টস কেবিনেট গঠনের অভিযোগ

Send
নীলফামারী প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ২৩:৩২, জানুয়ারি ২৫, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ২৩:৩৮, জানুয়ারি ২৫, ২০২০

সরকারি নির্দেশকে উপেক্ষা করে ভোটগ্রহণ ছাড়াই সিলেকশনের মাধ্যমে মনগড়া স্টুডেন্টস কেবিনেট (কাউন্সিল) গঠন করে উপজেলা শিক্ষা অফিসে জমা দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। ২৩ জানুয়ারি নীলফামারী সদরের লক্ষিচাপ ইউনিয়নের দুবাছুরী দ্বিমুখী দাখিল মাদ্রাসার সুপার মো. এমএ মোমেন ওই কেবিনেট গঠন করেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অষ্টম শ্রেণির এক ছাত্র জানান, শিক্ষার্থীদের নেতৃত্ব বিকাশের জন্য সরকার এই ব্যবস্থা নিলেও আমাদের মাদ্রাসায় তা মানা হয়নি। শিক্ষার্থীদের দাবি সুপার তার নিজস্ব ক্ষমতা বলে এটি করেছে। আর এতে সহযোগিতা করেছেন সহসুপার তোফাজ্জুল হোসেইন।

দশম শ্রেণির এক ছাত্র জানান, নির্বাচনে অংশ নেওয়ার কথা ছিল আমার, কিন্তু শুনেছি মাদ্রাসা সুপার সিলেকশন করে উপজেলা শিক্ষা অফিসে স্টুডেন্টস কেবিনেট জমা দিয়েছে। এটি তিনি কেন করেছেন, আমরা তা জানি না। তবে আমাদের দাবি নির্বাচন দিতে হবে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই একজন সহকারী শিক্ষক জানান, ১৯ জানুয়ারি মাধ্যমিক ও দাখিল মাদ্রাসায় বেনবেস পরিচালক মো. ওজমান ভূঁইয়া স্বাক্ষরিত সরকারি প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী মনোনয়নপত্র সংগ্রহ ১৪ জানুয়ারি, মনোনয়নপত্র জমাদানের শেষ তারিখ ১৬ জানুয়ারি, যাচাই-বাচাই ১৮ জানুয়ারি এবং মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার ও প্রার্থীর চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ ১৯ জানুয়ারি নির্ধারণ করা হয়। আজ  শনিবার (২৫ জানুয়ারি) ছিল ৯টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে ভোটগ্রহণের তারিখ। কিন্তু, এই মাদ্রাসায় তা কিছুই মানা হয়নি।

দুবাছুরী দ্বিমুখী দাখিল মাদ্রাসার সুপার এমএ মোমেন অফিস সহকারী যতিন্দ্র নাথের ওপর সব দোষ চাপিয়ে নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন।

শিক্ষকেরা জানান, তাদের সঙ্গে এ ব্যাপারে কোনও কথাই বলেননি সুপার। সুপার ও সহসুপার তোফাজ্জুল হোসেইনসহ দুজনে যেভাবে মাদ্রাসা চালায়, আমরা সেভাবে কাজ করে থাকি। এতে আমাদের কোনও ভূমিকা নেই।

জেলা শিক্ষা অফিসের গবেষণা কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান জানান, মাদ্রাসায় এসে দেখতে পান এখানে ভোটের কোনও প্রস্ততি নেই। তাই স্যারকে ফোন করে বিষয়টি জানিয়ে দেই। নীতিমালা বহিঃভূর্ত কোনও কর্মকাণ্ডই মেনে নেওয়া হবে না। শিক্ষার্থীদের নেতৃত্ব বিকাশের জন্য এই স্টুডেন্টস কেবিনেট নির্বাচন আজ সারাদেশে চলছে। অথচ দুবাছুরী দ্বিমুখী দাখিল মাদ্রাসায় তার ব্যতিক্রম। এ ব্যাপারে আইনত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘বিষয়টি শুনে অফিস থেকে লোক পাঠিয়ে ছিলাম। ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেছে। তবে আজ শনিবার ছুটির দিন হওয়ায় আগামীকাল সরেজমিনে গিয়ে আরও যাচাই-বাচাই করে ওই সুপারের বিরুদ্ধে শোকজ করা হবে। এ ব্যাপারে কোনও ছাড় দেওয়া হবে না।

/এনআই/

লাইভ

টপ