সন্ত্রাসী নিয়ে ক্লাসে ঢুকে সহকর্মীর ওপর শিক্ষকের হামলা

Send
বগুড়া প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ১৯:৪৭, ফেব্রুয়ারি ২৫, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ২০:১৪, ফেব্রুয়ারি ২৫, ২০২০

আলমগীর কবির পলাশবগুড়ায় মিজানুর রহমান নামে এক শিক্ষক সন্ত্রাসীদের সঙ্গে নিয়ে কলেজের ক্লাসরুমে ঢুকে খণ্ডকালীন শিক্ষক আলমগীর কবির পলাশকে পিটিয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। মঙ্গলবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে শহরতলির গোদারপাড়ায় জাহিদুর রহমান মহিলা ডিগ্রি কলেজে এ ঘটনা ঘটে। প্রতিবাদে ছাত্রীরা কলেজের সামনে বগুড়া-নওগাঁ সড়ক অবরোধের চেষ্টা করলে পুলিশ ও জনপ্রতিনিধিরা তাদের ক্যাম্পাসে ফিরিয়ে আনেন। আহত ওই শিক্ষক বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

কলেজের অধ্যক্ষ মাহবুব আলম ও কয়েকজন শিক্ষক অভিযোগ করেন, শিক্ষক মিজানুর রহমান ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীদের সঙ্গে নিয়ে এ হামলা চালিয়েছেন। এ ব্যাপারে ম্যানেজিং কমিটির সঙ্গে আলোচনা করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক অসীম রায় জানান, ‘ওই হামলার ঘটনা কলেজের অভ্যন্তরীণ বিষয়। আমার দলের কয়েকজন নেতাকর্মী কলেজের সভাপতি নিয়োগের চিঠি আনতে গিয়েছিলেন। তারা হামলার সঙ্গে জড়িত নয়।’

কলেজের শিক্ষক-কর্মচারীরা জানান, ডিগ্রি শাখায় নিয়োগকৃত ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক মিজানুর রহমান গত ৩-৪ মাস ক্লাস নেন না। শিক্ষার্থীদের ক্ষতির কথা বিবেচনা করে মাসিক দুই হাজার টাকা বেতনে আলমগীর কবির পলাশ নামে একজনকে খণ্ডকালীন শিক্ষকের দায়িত্ব দেওয়া হয়। তারা অভিযোগ করেন, শিক্ষক মিজানুর রহমান মঙ্গলবার বেলা ১০টার দিকে কলেজে আসেন। বেলা ১২টার দিকে ১৬টি মোটর সাইকেলে ছাত্রলীগের ৪৫-৪৮ জন ক্যাডার নিয়ে ক্যাম্পাসে ঢোকেন। মিজানুর তাদের নিয়ে দোতলায় ক্লাস চলার সময়ে শ্রেণিকক্ষে ঢোকেন। তিনি খণ্ডকালীন শিক্ষক পলাশকে গালিগালাজের পর মারধর করেন। এ সময় ক্লাসে থাকা ছাত্রীরা ভয়ে চিৎকার করতে থাকেন। তখন শিক্ষক মিজানুর রহমান তার সঙ্গীদের নিয়ে ক্যাম্পাস ছেড়ে চলে যান। এর প্রতিবাদে ছাত্রীরা কলেজের সামনে সড়ক অবরোধ করার চেষ্টা করলে সদর থানার ওসি এসএম বদিউজ্জামান ও স্থানীয় পৌর কাউন্সিলর আমিনুল ইসলাম তাদের বুঝিয়ে ক্যাম্পাসে ফিরিয়ে আনেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন শিক্ষক কর্মচারী বলেছেন, জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক অসীম রায় জাহিদুর রহমান মহিলা ডিগ্রি কলেজের সভাপতি হতে না পেরে তার সংগঠনের সাবেক কর্মী শিক্ষক মিজানুর রহমানের পক্ষ নেন।

এ প্রসঙ্গে কলেজের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক মিজানুর রহমান অভিযোগ করেন, ‘জামায়াত সমর্থিত অধ্যক্ষ মাহবুব আলম কলেজকে পরিবারতন্ত্র বানিয়েছেন। কলেজের অধিকাংশ শিক্ষক জামায়াত-বিএনপির। আমি গত ১৬ বছর বেতন ছাড়াই চাকরি করছি। আওয়ামী লীগ সমর্থিত হওয়ায় অধ্যক্ষ আমাকে সরিয়ে জামায়াত সমর্থক সাবেক শিবির নেতা, জামায়াত পরিচালিত ইউনিক কোচিং সেন্টারের শিক্ষক আলমগীর কবির পলাশকে কলেজে ঢোকানোর চেষ্টা করে আসছেন। তনছের আলী নামে এক জামায়াতী শিক্ষক এর নেপথ্যে রয়েছেন। এছাড়া অধ্যক্ষ আমাকে কলেজ না আসতে হুমকি দেন। হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করতে বাধা দেওয়া হয়। মঙ্গলবার দুপুরে ক্লাস নেওয়ার জন্য রুমে গেলে সেখানে সাবেক শিবির নেতা আলমগীর কবির পলাশকে দেখতে পাই। তখন পলাশ আমার সঙ্গে দুর্ব্যবহার করলে বাকবিতণ্ড ও হাতাহাতি হয়েছে। এসময় আমার সঙ্গে ছাত্রলীগের কেউ ছিল না।’

জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক অসীম রায় জানান, ‘বগুড়া-৫ আসনের সংসদ সদস্য হাবিবর রহমান আমাকে জাহিদুর রহমান মহিলা ডিগ্রি কলেজের সভাপতি হতে ডিও লেটার দেন। কিন্তু জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ অজ্ঞাত কারণে বগুড়া সদর আসনে বিএনপি দলীয় এমপি জিএম সিরাজকে সভাপতি করেছে। এ সংক্রান্ত চিঠি আনতে আমি মঙ্গলবার দুপুরে সংগঠনের কয়েকজনকে কলেজের অধ্যক্ষের কাছে পাঠিয়েছিলাম। শিক্ষককে মারপিটের ঘটনা কলেজের অভ্যন্তরীণ। এর সঙ্গে ছাত্রলীগের কোনও সম্পৃক্ততা নেই।

আহত শিক্ষক আলমগীর কবির পলাশ জানান, তিনি কখনও জামায়াত-শিবিরের রাজনীতি করতেন না বা এখনও করেন না। দুপুরে কলেজে ক্লাস নেওয়ার সময় এক ব্যক্তি তার ওপর হামলা করে। এসময় মোটর সাইকেলে আসা বেশ কয়েকজন সেখানে ছিলেন। পরে জেনেছেন, হামলাকারী কলেজের ইংরেজি শিক্ষক মিজানুর রহমান ও তারা ছাত্রলীগের নেতাকর্মী।

অভিযোগ প্রসঙ্গে কলেজের অধ্যক্ষ মাহবুব আলম বলেন, ‘শিক্ষক মিজানুরের অভিযোগগুলো সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। আমি কোনও রাজনীতির সঙ্গে জড়িত নই। কলেজে কোনও স্বজনপ্রীতির সংস্কৃতি চালু হয়নি। খণ্ডকালীন শিক্ষক দিয়ে ক্লাস করানোর কারণে ক্ষুব্ধ হয়ে মিজানুর এসব মিথ্যাচার করছেন। এছাড়া শিক্ষক মিজানুর রহমান ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীদের সঙ্গে নিয়ে এ হামলা চালিয়েছেন। এ বিষয়ে আমরা ব্যবস্থা নেবো।’

সদর থানার ওসি এসএম বদিউজ্জামান জানান, কলেজ থেকে মামলা দিলে তদন্ত সাপেক্ষে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

/এফএস/

লাইভ

টপ