‘রাজশাহী বিভাগ করোনামুক্ত’

Send
রাজশাহী প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ১৯:৩৬, মার্চ ৩১, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ১৯:৫৬, মার্চ ৩১, ২০২০

রাজশাহী বিভাগ এখন পর্যন্ত করোনামুক্ত—ভিডিও কনফারেন্সে প্রধানমন্ত্রীকে এমন তথ্যই জানিয়েছেন বিভাগীয় কমিশনার হুমায়ুন কবির খোন্দকার। তিনি জানান, রাজশাহী বিভাগের আট জেলায় এখনও করোনা সংক্রমিত কোনও রোগীর সন্ধান পাওয়া যায়নি। সন্দেহভাজন ছয় জনের নমুনা সংগ্রহ করে আইইডিসিআরে পাঠানো হয়। কিন্তু রেজাল্ট নেগেটিভ এসেছে। এ সময় প্রধানমন্ত্রী বিভাগীয় কমিশনারকে ধন্যবাদ জানান।

মঙ্গলবার সকালে গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সে রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনারের সঙ্গে কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ সময় নিজ কার্যালয় থেকে কথা বলেন রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার হুমায়ুন কবির খোন্দকার।

তিনি প্রধানমন্ত্রীকে বলেন, ‘প্রথমেই আপনাকে সুখবর দিতে চাই। তা হলো রাজশাহী বিভাগের কোনও জেলায় করোনা রোগী পাওয়া যায়নি। ছয় জন সন্দেহভাজন রোগীর নমুনা আইইডিসিআরে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু সবক’টিই নেগেটিভ এসেছে।’

বিভাগীয় কমিশনার প্রধানমন্ত্রীকে আরও জানান, আগামীতে করোনা রোগী পাওয়া গেলে বা পরিস্থিতিতে প্রয়োজন হলে এক হাজার ৬৮০টি বেড প্রস্তুত আছে। পিপিই’র কোনও ঘাটতি নেই। এই বিভাগে পাঁচ হাজার মজুত আছে। দরিদ্র মানুষকে খাদ্য সহায়তায় জিআর থেকে ৯২১ মেট্রিক টন চাল বিতরণ করা হয়েছে। বর্তমানে ২৪০০ মে. টন চাল মজুত আছে। আর নগদ ৮১ লাখ টাকা হাতে আছে। আগামী ৬/৭ মাস কোনও মানুষ কাজ না করলেও আমরা খাদ্য সহায়তা দিতে পারবো।

এ সময় প্রধানমন্ত্রী বিভাগীয় কমিশনারকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, দরিদ্র মানুষের প্রয়োজনে আরও টাকা ও খাদ্য পাঠাবো।

পরে সিটি মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন ভিডিও কনফারেন্সে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে কথা বলেন। তিনি জানান, করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলায় লিফলেট ও হ্যান্ড স্যানিটাইজার বিতরণসহ সব ধরনের সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। প্রতিটি ওয়ার্ডে খাদ্য বিতরণ করা হচ্ছে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে জনগণকে উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে।

এছাড়া নিজ কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষ থেকে ভিডিও কনফারেন্সে কথা বলেন রাজশাহী জেলা প্রশাসক মো. হামিদুল হক। তিনিও করোনা আক্রান্ত নেই বলে প্রধানমন্ত্রীকে নিশ্চিত করেন। জেলায় সন্দেহভাজন একজন রোগীর নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। কিন্তু করোনার কোনও উপসর্গ পাওয়া যায়নি। এছাড়া দরিদ্র মানুষ যাতে খাদ্য সংকটে না পড়ে এজন্য সব ধরনের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। পর্যাপ্ত খাবার মজুত আছে। কোনও ব্যক্তি বিনা চিকিৎসায় মারা যাবে না। সব ধরনের চিকিৎসা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়ছে।

রাজশাহীতে সরকারি উদ্যোগে ৫০ হাজার পরিবারকে, বেসরকারি উদ্যোগে ২০ হাজার পরিবারকে খাদ্যশস্য দেওয়া হয়েছে। রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ২০০ শয্যাবিশিষ্ট আইসোলেশন ওয়ার্ড এবং ১০ শয্যাবিশিষ্ট আইসিইউ প্রস্তুত আছে। এছাড়াও সরকারি, বেসরকারি মিলে মোট ৩৪৬টি আইসোলেশন বেড প্রস্তুত রাখা হয়েছে। সিভিল সার্জনের তত্ত্বাবধানে উপজেলা পর্যায়ে ১১৫টি আইসোলেশন বেড প্রস্তুত করা হয়েছে। এদিকে প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনের জন্য ৫০০ শয্যা প্রস্তুত করা হয়েছে। ইতোমধ্যে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে অতি দরকারি ১ হাজার ৩শ’ পিপিই ও ৪ হাজার মাস্ক দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও জেলা সিভিল সার্জনের কাছে ১ হাজার পিপিই ও ১ হাজার মাস্ক সংরক্ষিত আছে। এগুলো দরকারের সময় ব্যবহার করা হবে।

/এফএএন/এমওএফ/

লাইভ

টপ