নারায়ণগঞ্জের অনেক গার্মেন্টস কারখানায় যোগ দিয়েছেন শ্রমিকরা

Send
নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ২০:৫২, এপ্রিল ০৫, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ২০:৫৯, এপ্রিল ০৫, ২০২০

BT-New-Temp (3)নারায়ণগঞ্জের বিসিক শিল্পনগরীসহ জেলার বিভিন্ন জায়গায় গার্মেন্টস কারাখানায় কাজে যোগ দিতে দল বেঁধে হাজার হাজার শ্রমিক জড়ো হয়েছেন।  এদিকে গার্মেন্টস মালিকদের সংগঠন বিকেএমএই ও বিজিএমইএ শনিবার (৪ এপ্রিল) রাতে নোটিশ দিয়ে আগামী ১১ এপ্রিল পর্যন্ত গার্মেন্টস বন্ধ রাখার নির্দেশ দেয়। কিন্তু সেই নোটিশের তোয়াক্কা না করে অনেক কারখানা খোলা রেখেছেন মালিকরা।  শ্রমিকরাও কাজেও যোগ দিয়েছেন।

বাংলাদেশ নিট ওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারাস অ্যান্ড এক্সপোর্টার অ্যাসোসিয়েশন (বিকেএমইএ) ও বিজেএমইএ গত ২৯ মার্চ জরুরি সভা করে ৪ এপ্রিল পর্যন্ত গার্মেন্টস বন্ধ ঘোষণা করে। ছুটি বাড়ানোর ঘোষণা না দেওয়ায় কর্মস্থলে যোগ দিতে করোনার ঝুঁকি মাথায়  নিয়েই  পায়ে হেঁটে , রিকশা-ভ্যান ও পণ্যবাহী ট্রাকে চড়ে হাজার হাজার শ্রমিক নারায়ণগঞ্জ চলে আসেন।

সরেজমিন ফতুল্লার বিসিক শিল্পনগরী ঘুরে দেখা যায়, রবিবার কাজে যোগ দিতে কয়েক হাজার শ্রমিক বিসিকে গিয়ে দেখেন ২৫ থেকে ৩০টি গার্মেন্টস খোলা রয়েছে। বাকিগুলো বন্ধ। এমন সমন্বয়হীনতায় তারা ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

শ্রমিকরা জানিয়েছেন, কারখানা বন্ধ করার আগে মালিকরা তাদের বেতন দেননি। পূর্বঘোষিত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী রবিবার গার্মেন্টস খোলা থাকায় তারা কাজে যোগ দিতে এসেছেন।  শ্রমিক  পারভেজ অভিযোগ করেন, ‘আমাদের মার্চ মাসের বেতন বকেয়া রয়েছে। কবে বেতন দেওয়া হবে তা জানানো হয়নি। এখন যে আবার বাড়ি ফিরে যাবো সেই ভাড়া নেই। তাই আমাদের বেতন খুব প্রয়োজন। ভাড়ি ভাড়া, দোকান বাকি পরিশোধ করতে হবে।’  শ্রমিকরা জানান, পেটের দায়ে করোনার ঝুঁকি নিয়েই তারা কাজে এসেছেন। 

এ ব্যাপারে বিকেএমই্এর সাবেক সহ-সভাপতি ও মডেল ডি ক্যাপিটাল গার্মেন্টস কারখানার মালিক মাসুদুজ্জামান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘সরকার ও মালিকদের সংগঠনের সমন্বয়হীনতার কারণে এই হ-য-ব-র-ল অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। গার্মেন্টস বন্ধ বা খোলার বিষয়টি এক জায়গা থেকে নির্ধারণ হওয়া উচিত ছিল। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় বা স্ব স্ব অ্যাসোসিয়েশন আলোচনা করে যদি বিষয়টি নিধারণ করতো তবে আজ এই অবস্থার সৃষ্টি হতো না। গার্মেন্টস ছুটি দিয়ে আমরা হোম কোয়ারেন্টিনে গিয়েছিলাম। কিন্তু শ্রমিকরা চলে আসায় মালিক হিসেবে আমি  বাধ্য হয়েছি ফ্যাক্টরিতে আসতে।’

এ ব্যাপারে বিকেএমইএ’র সভাপতি একেএম সেলিম ওসমান জানান, ‘মহামারী করোনা ভাইরাসের কারণে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সরকারের সিদ্ধান্তের সঙ্গে সাদৃশ্য রেখে বিকেএমইএ’র সদস্যভুক্ত সব নিট পোশাক কারখানা আগামী ১১ই এপ্রিল পর্যন্ত বন্ধ রাখার বিশেষ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। বিষয়টি রাতেই নোটিশ দিয়ে গার্মেন্টস মালিকদের জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।’

 

/এমএএ/

লাইভ

টপ