পান নিয়ে বিপাকে চাষিরা

Send
হালিম আল রাজী, হিলি
প্রকাশিত : ১৮:০২, এপ্রিল ১০, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ১৮:০২, এপ্রিল ১০, ২০২০

করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ রোধে সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করেত প্রশাসনের নির্দেশে দিনাজপুরের হিলিসহ আশেপাশের এলাকাগুলোতে সাপ্তাহিক হাট বসানো বন্ধ আছে। এছাড়াও বন্ধ রয়েছে গণপিরবহন। ফলে পাইকার না আসতে পারায় পান নিয়ে বিপাকের মধ্যে পড়েছেন চাষিরা। ক্রেতা না থাকায় খানিকটা কম দামে পান বিক্রি করে দিতে বাধ্য হচ্ছেন তারা। চাষিদের দাবি, উৎপাদন খরচও উঠছে না।

স্থানীয়রা জানান, হিলি পান চাষের জন্য বেশ বিখ্যাত, হিলির সীমান্তবর্তী এলাকা ঘাসুড়িয়া এলাকাজুড়ে পানের বরজ গড়ে উঠেছে। প্রায় চারশ'র মতো পানের বরজ রয়েছে। দেখতে ও স্বাদে ভালো হওয়ায় এই পানের হাহিদা বেশি। তাই দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সরবরাহ হয়ে থাকে এখানকার পান। হিলিতে রবি ও বৃহস্পতিবার এবং পার্শ্ববর্তী বিরামপুরে শনি ও মঙ্গলবার পানের বৃহত্তর হাট বসে। এসব হাটে পান চাষিরা পান নিয়ে যান, আবার দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে পাইকাররাও আসেন পান কিনতে। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে বিপাকে পড়েছেন চাষিরা।

হিলির ঘাসুড়িয়া গ্রামের চাষি মোবারক হোসেন ও সিরাজুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, 'এই এলাকার মানুষের মুল পেশা পান চাষ, এছাড়া অন্যকোনও আবাদ এখানে হয়না। বর্তমানে করোনা পরিস্থিতির কারণে আমরা সংকটের মধ্যে রয়েছি। মৌসুম শেষ হওয়ায় পান বরজে রাখতেও পারছি না, রাখলে পান মোটা হয়ে যাচ্ছে, নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। আবার হাটবাজারে যেতেও পারছি না। ফলে পান বিক্রিও করতে পারছি না। কিছুদিন আগে যে পান বিক্রি হতো পাঁচ হাজার থেকে সাড়ে ৫ হাজার পোয়া (৪০ বিরা), এখন সেই দাম নেমে এসেছে আড়াইহাজার থেকে সাড়ে তিন হাজার টাকায়। এতে করে উৎপাদন খরচই উঠছে না। ফলে বরজে যেসব শ্রমিক কাজ করছেন, তাদের মজুরিও ঠিকমতো দিতে পারছি না।'

হিলি বাজারের পান ব্যবসায়ী বুলন হোসেন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, 'হাটে পানের আমদানি বেশ ভালো রয়েছে কিন্তু করোনা ভাইরাসের কারণে বাইরের পাইকাররা আসতে পারছেন না। ফলে চাহিদা কম। দামও কম।'

হাকিমপুর উপজেলা কৃষি অফিসার শামীমা নাজনীন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, 'উৎপাদন খরচ কম ও অন্যান্য ফসলের তুলনায় লাভজনক হওয়ায় হাকিমপুর উপজেলায় পানের আবাদ দিন দিন বাড়ছে। গতবছর এই উপজেলায় ২৮ হেক্টর জমিতে পানের আবাদ হলেও এবারে তা খানিকটা বেড়ে ৩৬ হেক্টর জমিতে ৩৫৫টি বরজে পানের আবাদ হয়েছে। পানের বর্তমান অবস্থা ভালো, কৃষি অফিসের পক্ষ থেকে পানের বিভিন্ন সমস্যা নিরসনে কৃষকদের সবধরনের পরামর্শ প্রদান করা হয়।'

হাকিমপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুর রাফিউল আলম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, 'করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ রোধে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য ছাড়া মানুষের জনসমাগম হয় এমন হাটবাজারসহ সবকিছু বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এটা শুধু হিলিতে নয় সারাদেশে। যেহেতু কাঁচাবাজার দুপুর একটা পর্যন্ত খোলা, এই সময়ের মধ্যে তারা যদি তাদের পানগুলো বিক্রি করতে পারেন, তাহলে দুর্ভোগের কিছুটা লাঘব হবে। তবে পানচাষিদের ক্ষতির বিষয়ে কোনও সিন্ধান্ত নেওয়া হয়নি। কিন্তু তাদের মধ্যে যদি কেউ না খেয়ে থাকেন, দরিদ্র-অসহায় হন, তাহলে তাদের জন্য ব্যবস্থা নেওয়া হবে।'

 

 

 



/এএইচ/

লাইভ

টপ