স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মীকে পরিবারসহ ইটভাটায় থাকতে বললেন চেয়ারম্যান

সাভার প্রতিনিধি
২১ এপ্রিল ২০২০, ০১:৪৩আপডেট : ২১ এপ্রিল ২০২০, ০১:৪৫

ধামরাই ঢাকার ধামরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এক কর্মীকে পরিবারসহ বাড়ি ছেড়ে ইট ভাটায় থাকতে বলেছেন বালিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আহম্মদ হোসেন। এমনকি তার বাড়িতে লাল পতাকা টাঙ্গিয়ে পরিবারের সদস্যদের লক ডাউন করে রাখার অভিযোগও উঠেছে। স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. নূর রিফাত বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তবে অভিযুক্ত বালিয়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আহম্মদ হোসেন বলেন, তিনি বিষয়টি এভাবে বলেননি। মূলত হাসপাতালের এক স্টাফ করোনায় আক্রান্তের পর এলাকাবাসীর ওই ব্যক্তির করোনা আক্রান্ত হয়ে থাকতে পারে বলে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। এ কারণে তাকে আলাদা থাকার জন্য বলা হয়েছিল।

ভুক্তভোগী ঐ স্বাস্থ্যকর্মীর বাড়ি ধামরাইয়ের বালিয়া ইউনিয়নের মাদারপুর এলাকায়।

উপজেলা সরকারি হাসপাতালের ওই কর্মী বলেন, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এক স্টাফ করোনায় আক্রান্তের পর গত ১৬ তারিখ থেকে তার বাড়িতে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান লোকজন নিয়ে লাল পতাকা টাঙ্গিয়ে দিয়ে আসে। তবে পরের দিন তার নেগেটিভ রেজাল্ট আসে। এর পরও স্থানীয়রা ও চেয়ারম্যান তার বাড়ি থেকে লাল পতাকা খুলে নেয়নি। এদিকে গতকাল ১৯ এপ্রিল রাতে কাজ শেষে স্বাস্থ্যকর্মী বাড়িতে গেলে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ও তার লোকজন তাকে এলাকায় প্রবেশ করতে বাধা দেয়। পরে বাড়িতে প্রবেশ করার পর চেয়ারম্যান তাকে আর বাড়ি থেকে বের হতে না দিয়ে অবরুদ্ধ করে রাখে। এসময় চেয়ারম্যান তার পরিবারসহ তাকে ইটভাটায় থাকতে নির্দেশ দেয়।

ধামরাই উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. নূর রিফফাত আরা বলেন, ওই ব্যক্তি তার হাসপাতালে মালি হিসেবে কাজ করেন। তবে বেশ কিছু দিন যাবৎ হাসপাতালের লোকবল সংকট থাকার কারনে বর্তমানে টিকিট কাউন্টারে বসেন তিনি।

তার হাসপাতালের কর্মীকে অবরুদ্ধ করে রাখার খবর পেয়ে তিনি ঘটনাস্থলে ছুটে যান। এসময় ঘটনাস্থল থেকে ওই কর্মীকে সঙ্গে করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসেন। বর্তমানে হাসপাতালের কোয়ার্টারেই তার থাকার ব্যবস্থা করে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু স্থানীয় চেয়ারম্যান তার পরিবারের সদস্যদের এখনো বাড়ি থেকে ঠিকমতো বের হতে দিচ্ছে না।

করোনা পরীক্ষার পর নেগেটিভ আসার পরও একজন জনপ্রতিনিধি তার কর্মী ও পরিবারের সদস্যের সাথে এ ধরনের ব্যবহার অত্যন্ত দুঃখজনক বলে মন্তব্য করে স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. নূর রিফফাত আরা। প্রশাসনের অনুমতি ছাড়া লাল পতাকা টাঙানোর মতো কাজকেও অন্যায় বলে দাবি করেন তিনি।

পরে স্থানীয় থানা পুলিশ ও সাংসদের সাহয্যে বাড়ি থেকে লাল পতাকা সরিয়ে নিলেও তার পরিবারকে নজরবন্দি করে রেখেছে চেয়ারম্যানের লোকজন।

এ বিষয়ে ধামরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দীপক চন্দ্র সাহা বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্থানীয়দের বুঝিয়েছেন। এছাড়াও তিনি নিজেও ইউপি চেয়ারম্যানের সঙ্গে কথা বলেছেন বলে জানান। এরপর আবারও যদি কোন সমস্যা করা হয় তাহলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করার নিশ্চয়তা দেন দীপক চন্দ্র সাহা। 

/এফএএন/
সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
একনজরে আজকের আলোচিত খবর
একনজরে আজকের আলোচিত খবর
জুলাইয়ের কৃতিত্ব নিয়ে রাজনীতিতে বালখিল্য পরিহারের আহ্বান তথ্যমন্ত্রীর
জুলাইয়ের কৃতিত্ব নিয়ে রাজনীতিতে বালখিল্য পরিহারের আহ্বান তথ্যমন্ত্রীর
অভিযানের আগে তল্লাশি করা হলো পুলিশের দেহ, কারণ কী?
অভিযানের আগে তল্লাশি করা হলো পুলিশের দেহ, কারণ কী?
দিল্লিতে শেখ হাসিনার কনফারেন্স: সরকারকে দুষছেন নাহিদ ইসলাম
দিল্লিতে শেখ হাসিনার কনফারেন্স: সরকারকে দুষছেন নাহিদ ইসলাম
সর্বাধিক পঠিত
আওয়ামী লীগ শত্রু নয় আমাদের মিত্র, অচিরেই আমাদের সঙ্গে মিশে যাবে: বিএনপির এমপি
আওয়ামী লীগ শত্রু নয় আমাদের মিত্র, অচিরেই আমাদের সঙ্গে মিশে যাবে: বিএনপির এমপি
ডাকা হচ্ছে সংসদের বিশেষ অধিবেশন
ডাকা হচ্ছে সংসদের বিশেষ অধিবেশন
প্রথমবার ‘কাঁঠাল থেকে বিস্কুট’ তৈরি করে চমকে দিলেন ছাত্তার, যেখানে পাবেন
প্রথমবার ‘কাঁঠাল থেকে বিস্কুট’ তৈরি করে চমকে দিলেন ছাত্তার, যেখানে পাবেন
জুলাই জাদুঘরে ‘লাল টেলিফোনে’ কী শোনা যায়?
জুলাই জাদুঘরে ‘লাল টেলিফোনে’ কী শোনা যায়?
ব্যবসায়ীরা ঋণ নিচ্ছেন না, ব্যাংকেও নেই টাকা, কোথায় গেলো আমানত?
ব্যবসায়ীরা ঋণ নিচ্ছেন না, ব্যাংকেও নেই টাকা, কোথায় গেলো আমানত?