বাগেরহাটে বাঁধ ভেঙে কয়েকটি গ্রাম প্লাবিত

Send
বাগেরহাট প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ২০:৫৫, মে ২১, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ২২:৪৪, মে ২১, ২০২০

প্লাবিত এলাকাঘূর্ণিঝড় আম্পানের প্রভাবে নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় বেড়িবাঁধ ও রাস্তা ভেঙে বাগেরহাটের কয়েকটি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এতে তলিয়ে গেছে পুকুর, মাছের ঘের ও বসতঘর। পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন কয়েক হাজার মানুষ। এছাড়া কয়েকটি স্থানে কাঁচা ও টিনের ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সরেজমিন ঘুরে এবং জেলা প্রসাশন সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

তবে জেলার কোথাও হতাহতের কোনও খবর পাওয়া যায়নি। ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের জেলা প্রশাসক নির্দেশ দিয়েছেন বলে জানা গেছে।

আম্পানের আঘাতে ভেঙে গেছে বসতঘরস্থানীয়রা জানান, শরণখোলায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের বেড়িবাঁধের কিছু অংশ ভেঙে কয়েকটি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। বুধবার (২০ মে) রাতে বলেশ্বর নদীর পানির চাপে বগি এলাকার এই বাঁধ ভেঙে যায় বলে শরণখোলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সরদার মোস্তাফা শাহীন জানান।

তিনি বলেন, 'পানি উন্নয়ন বোর্ডের ৩৫/১ হোল্ডারের ঝুঁকিপূর্ণ কিছু অংশ ভেঙে গেছে। আর কিছু অংশের ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। এছাড়া পাঁচ শতাধিক কাঁচা ঘরবাড়ির আংশিক ক্ষতি হয়েছে।'

আম্পানের আঘাতে ভেঙে গেছে বাঁধএদিকে বাগেরহাট শহরের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া ভৈরব নদীর পানি বেড়ে রাস্তার কয়েকটি স্থান ভেঙে বৈটপুর, ভদ্রপড়া, চরগ্রাম এলাকার মাছের ঘের ও বাড়িঘর প্লাবিত হয়েছে। ভাঙা স্থান দিয়ে পুনরায় জোয়ারের পানি ঢুকে আবারও লোকালয় প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

ভদ্রপাড়া এলাকার বাদশা শেখ জানান, ঘূর্ণিঝড় আম্পানের তাণ্ডবের মধ্যে হঠাৎ ঘরে পানি উঠে যায়। খোঁজ নিয়ে জানতে পারি বাঁধ ভেঙে গেছে। পরে এলাকাবাসী স্থানীয় মসজিদ মাদ্রাসা ও স্কুল ভবনে আশ্রয় নেয়। এই এলাকার অনেক মাছের ঘের ও বাড়িঘর এখনও তলিয়ে রয়েছে বলে তিনি জানান।

নদীর পানি বেড়ে রাস্তার ওপরে উঠে গেছেগোটাপাড়া ইউনিয়নের আলোকদিয়া গ্রামের খান ফিরোজুল ইসলাম জানান, তার মাছের ঘের ভেসে গেছে। এরসঙ্গে পানিতে ডুবে প্রায় দুই হাজার মুরগি মারা গেছে।

বাগেরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী নাহিদ উজ জামান বলেন, 'বেড়িবাঁধের ভাঙা অংশ মেরামতে কাজ শুরু করা হয়েছে।'

বাগেরহাট জেলা প্রশাসক মো. মামুনুর রশীদ বলেন, 'আম্পানের প্রভাবে বাগেরহাটে হতাহতের কোনও ঘটনা ঘটেনি। এছাড়া কয়েকটি স্থানে বেড়িবাঁধ, কাঁচা ঘরবাড়ি ভেঙেছে এবং গাছপালা উপড়ে পড়েছে। ক্ষয়ক্ষতির তালিকা করার জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।'

 

/আইএ/

লাইভ

টপ