আজ শুরার বৈঠকে আল্লামা শফী কি বেছে নেবেন উত্তরসূরি?

হুমায়ুন মাসুদ, চট্টগ্রাম
১৭ জুন ২০২০, ০০:১৬আপডেট : ১৭ জুন ২০২০, ০১:০৩

  আল্লামা শাহ আহমদ শফী

বুধবার (১৭ জুন)  বসতে যাচ্ছে ঐতিহ্যবাহী হাটহাজারী দারুল উলুম মাদ্রাসার শুরা কমিটির বৈঠক। মাদ্রাসার শিক্ষক হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের যুগ্ম  মহাসচিব মঈনুদ্দিন রুহী এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তবে শুরা কমিটির বৈঠকে কী নিয়ে আলোচনা হবে এ বিষয়ে তিনি কিছু বলতে রাজি হননি। তবে একটি পক্ষের ধারণা, এ বৈঠকে মাওলানা শাহ আহমদ শফীর উত্তরসূরি নির্বাচনের সম্ভাবনা রয়েছে।

বৈঠক সম্পর্কে মঈনুদ্দিন রুহী বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আগামীকাল সকাল ১০টায় শুরা কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। এ বিষয়ে সব শুরা সদস্যকে চিঠি পাঠানো হয়েছে।’

বৈঠকে কী নিয়ে আলোচনা হবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, কী নিয়ে আলোচনা হবে আমার জানা নেই। সুনির্দিষ্ট কয়েকটি এজেন্ডা নিয়ে আলোচনা হবে। ওই এজেন্ডাগুলো শুধু শুরা কমিটির সদস্যরা বলতে পারবেন।

এ বিষয়ে জানতে শুরা কমিটির সদস্য হেফজতে ইসলামের মহাসচিব আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরীর মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করা হলে তিনি ফোন ধরেননি।

তবে মাদ্রাসা সংশ্লিষ্ট কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে,  কাল শুরা কমিটির বৈঠকে মাদ্রাসার পরবর্তী মহাপরিচালক নির্ধারণ নিয়ে সিদ্ধান্ত হতে পারে। বর্তমান মহাপরিচালক ও হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির আল্লামা শাহ আহমদ শফী বয়সজনিত নানা শারীরিক জটিলতায় ভুগছেন। সম্প্রতি কয়েক মাস ধরে তার শরীর খুব একটা ভালো নয়। এরইমধ্যে চট্টগ্রাম ও ঢাকার বেশ কয়েকটা হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন তিনি। সর্বশেষ চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে এক সপ্তাহ কাটিয়ে শারীরিকভাবে খানিকটা সুস্থ বোধ করায় গত সোমবার (১৫ জুন) মাদ্রাসায় ফিরেছেন তিনি।

তবে তিনি যখন অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন তখন আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরীকে মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক ঘোষণা করায় জটিলতা তৈরি হয়। এ সময় একটি পক্ষ মাদ্রাসার বর্তমান পরিচালনা কমিটির সহযোগী পরিচালক বাবুনগরীকে ভারপ্রাপ্ত পরিচালক হিসেবে ঘোষণা দেন। এর বিরোধিতা করে আরেকটি পক্ষ ওই পদে তাদের পছন্দের লোককে বসানোর পাঁয়তারা করছে। ফলে মাদ্রাসার পরিচালকের পদ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে মতবিরোধ তৈরি হয়েছে। এটি নিয়ে দুই পক্ষ পরস্পর মুখোমুখি অবস্থানে রয়েছে। দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি এড়াতে আল্লামা আহমদ শাহ শফী আগামীকালের বৈঠকটি আহ্বান করেছেন বলেই মনে করেছেন অনেকে। আবার বাইরে থেকে অনেকের আশঙ্কা, আল্লামা শফীর উত্তরসূরি নির্বাচন নিয়ে সেখানে সহিংসতারও সৃষ্টি হতে পারে।

তবে এই শঙ্কা উড়িয়ে দিয়েছেন মাদ্রাসার শিক্ষক ও হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব মঈনুদ্দিন রুহী। বাংলা ট্রিবিউনকে তিনি বলেন, ‘এই ধরনের কোনও ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা নেই। যারা এই ষড়যন্ত্র করতে চেয়েছেন তারা সংখ্যায় অনেক কম। হাতেগোনা ২০/২৫ জন। আবার এদের অধিকাংশের মাদ্রাসার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা নেই। বাবুনগরী সাহেবকে ভালো জানেন এরকম কয়েকজন প্রাক্তন ছাত্র স্থানীয় কয়েকজনকে নিয়ে এই বিব্রতকর পরিস্থিতি তৈরি করেছেন।’

মাদ্রাসা সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানিয়েছে, মূলত দ্বন্দ্বটা মাওলানা জুনায়েদ বাবুনগরীর অনুসারী ও হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির আল্লামা শাহ আহমদ শফীর ছেলে হেফাজতে ইসলামের প্রচার সম্পাদক আনাস মাদানীর মধ্যে। জুনায়েদ বাবুনগরীর অনুসারীরা চাইছেন তাকে মহাপরিচালক হিসেবে নিযুক্ত করা হোক। কিন্তু আনাস মাদানী এর বিরোধিতা করছেন। তিনি চাইছেন তার বাবার পর মাদ্রাসার মহাপরিচালক পদে তার পছন্দের কেউ বসুক। এই নিয়ে গত কয়েকদিন ধরে মাদ্রাসায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। একপক্ষ অন্য পক্ষের বিরোধিতা করে আসছে।

তবে বিষয়টি সম্পর্কে মাওলানা জুনায়েদ বাবুনগরী ও আনাস মাদানীর কাউকেই ফোনে পাওয়া যায়নি। দুজনের কেউই ফোন ধরেননি।

এর আগে গত শনিবার মাওলানা জুনায়েদ বাবুনগরী ফোন ধরলেও পরে কথা বলতে চেয়ে ফোন কেটে দেন তিনি। আর আনাস মাদানী ছিলেন আল্লামা শফীর সঙ্গে হাসপাতালে। তখন তিনিও ফোন ধরেননি। মঙ্গলবার চেষ্টা করেও তাকে ফোনে পাওয়া যায়নি।

মাওলানা মঈনুদ্দিন রুহী বলেন, ‘অতি উৎসাহী এই ২০/২৫ জন লোক সম্প্রতি বাবুনগরী সাহেবকে মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ঘোষণা দেন। এরপরই এই মতবিরোধ তৈরি হয়। হুজুরের (আহমদ শফী) জীবদ্দশায় কাউকে ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ঘোষণার সুযোগ নেই। আর হুজুর কাউকে এই ধরনের দায়িত্বভারও দেননি, কাউকে কোনও ধরনের ইশারাও করেননি। তাই আমরা মনে করি, যারা এই কাজটি করেছে তারা হুজুরের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করেছে। এটি হুজুরের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করার শামিল। সরাসরি বিদ্রোহ। কারণ, হুজুর আজকে প্রায় ৩৫ বছর ধরে শুরা কর্তৃক হাটহাজারী মাদ্রাসার পরিচালকের দায়িত্বে রয়েছেন। তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করা মানে বড় ধরনের বেয়াদবি।

এর কারণ ব্যাখ্যা করে মঈনুদ্দিন রুহী বলেন, কারণ মাদ্রাসার পরিচালক মজলিসে শুরার সদস্যদের ভোটে নির্ধারণ করা হয়। আর এটি বর্তমান পরিচালকের জীবদ্দশায় কোনোভাবে সম্ভব নয়। বর্তমান পরিচালক ইন্তেকাল করলে তখন মজলিসে শুরার সদস্যরা বসে যাকে মনোনয়ন দিবেন তিনিই মাদ্রাসার পরিচালক নিযুক্ত হবেন।

যারা এই কাজটি করেছেন তারা ভালো করতে গিয়ে উল্টো বাবুনগরী সাহেবের ক্ষতি করেছেন বলে মন্তব্য করেছেন তিনি। মঈনুদ্দিন রুহী বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘বাবুনগরী সাহেব সবার প্রিয় একজন হুজুর ছিলেন। সবার কাছে গ্রহণযোগ্য একজন আলেম ছিলেন। কিন্তু অতি উৎসাহী এই কয়েকজন উনাকে হুজুরের (আহমদ শফী) মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে তাকে বিতর্কিত করে ফেলেছেন। এই কারণে আজকে বাবুনগরী সারা বাংলাদেশের মানুষের কাছে প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছেন।’ 

/টিএন/এমওএফ/
সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
খানজাহান আলী বিমানবন্দরে চীনা অর্থায়নের আভাস: প্রস্তাব পেলে একনেকে উপস্থাপনের আশ্বাস
খানজাহান আলী বিমানবন্দরে চীনা অর্থায়নের আভাস: প্রস্তাব পেলে একনেকে উপস্থাপনের আশ্বাস
গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ট্রাস্টি বোর্ড নিয়ে দ্বন্দ্ব চরমে: ভাঙচুর ও দখলের পাল্টাপাল্টি অভিযোগ 
গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ট্রাস্টি বোর্ড নিয়ে দ্বন্দ্ব চরমে: ভাঙচুর ও দখলের পাল্টাপাল্টি অভিযোগ 
জুলাই সনদের আলোকে নতুন বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান হাসনাত আবদুল্লাহর 
জুলাই সনদের আলোকে নতুন বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান হাসনাত আবদুল্লাহর 
‘ককরোচরা’ কি এবার রাজনৈতিক দল তৈরি করছে?
‘ককরোচরা’ কি এবার রাজনৈতিক দল তৈরি করছে?
সর্বাধিক পঠিত
রান্নার সময় মাংস কেন সবুজ হলো, নতুন কারণ জানালেন বিশেষজ্ঞ
রান্নার সময় মাংস কেন সবুজ হলো, নতুন কারণ জানালেন বিশেষজ্ঞ
একটি পুরো দেশের চেয়েও বড় বিশ্বের এই বৃহত্তম বিমানবন্দর
একটি পুরো দেশের চেয়েও বড় বিশ্বের এই বৃহত্তম বিমানবন্দর
রাষ্ট্রপতির বিরুদ্ধে মামলা হলে করণীয় কী জানালেন আইনমন্ত্রী 
রাষ্ট্রপতির বিরুদ্ধে মামলা হলে করণীয় কী জানালেন আইনমন্ত্রী 
পদত্যাগ করে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে যা বললেন ভারতের শিক্ষামন্ত্রী
পদত্যাগ করে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে যা বললেন ভারতের শিক্ষামন্ত্রী
মোদির এক ভিডিও ভেঙে দিলো ইনস্টাগ্রামের সব রেকর্ড
মোদির এক ভিডিও ভেঙে দিলো ইনস্টাগ্রামের সব রেকর্ড