বাজারে দাম ভালো পাওয়ায় গুদামে ধান দিচ্ছেন না নওগাঁর কৃষকরা

Send
নওগাঁ প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ২১:৫৩, জুন ২২, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ২১:৫৭, জুন ২২, ২০২০

 ধান-চাল সংগ্রহের সময়েও খাদ্য গুদামে নেই কোনও ব্যস্ততাউত্তরের খাদ্যভাণ্ডার হিসেবে পরিচিত জেলা নওগাঁ। জেলায় উৎপাদিত চালের সুনাম রয়েছে দেশজুড়ে। কিন্তু করোনাভাইরাসের কারণে চলতি বোরো মৌসুমে নওগাঁর খোলা বাজার ও হাটগুলোতে বোরো ধানের দাম বেশি পাওয়ার কারণে সরকারি খাদ্যগুদামে ধান দিচ্ছেন না লটারিতে নির্বাচিত কৃষকরা। ফলে সরকারিভাবে ধান সংগ্রহ অভিযান ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। কর্মকর্তারা বলছেন, ইরি-বোরো ধান সংগ্রহের উদ্বোধনের পর থেকে গত এক মাসে সরকারিভাবে ধান সংগ্রহ হয়েছে শতকরা ১০ ভাগ।

চলতি বোরো মৌসুমে জেলার ১১টি উপজেলার জন্য সরকারিভাবে সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকে প্রতি মণ ধান ১০৪০ টাকা ধরে কেনার জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয় ৩২ হাজার ৩৪০ মেট্রিক টন। গত ২৬ এপ্রিল থেকে সারা দেশে শুরু হয়েছে সরকারিভাবে বোরো ধান ও চাল সংগ্রহের অভিযান। চলবে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত। ইতোমধ্যে জেলার ১০টি উপজেলায় সরকারি গুদামে ধান দেওয়ার জন্য লটারির মাধ্যমে কৃষকদের নির্বাচন করে তাদের তালিকা প্রতিটি খাদ্যগুদামে ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে।

অপরদিকে সদর উপজেলায় অ্যাপের মাধ্যমে কৃষক নির্বাচন করা হয়েছে। কিন্তু চলতি বোরো মৌসুমে করোনাভাইরাসের কারণে বাজারগুলোতে ধানের সরবরাহ কম থাকায় দাম ভালো পাচ্ছেন কৃষকরা। তাই অধিকাংশ গুদামগুলোতে নেই ধান কেনার ব্যস্ততা। কোন কোন গুদামে বরাদ্দের শতকরা ১০ শতাংশ ধানই কৃষকরা এখন পর্যন্ত দেয়নি। এছাড়াও বোরো ধানের বাম্পার ফলন পেয়ে খুশি কৃষকরা। কিছু শর্ত মেনে সরকারি খাদ্যগুদামগুলোতে ধান দিতে হয়। যে শর্তগুলো অধিকাংশ কৃষকরা পূরণ করতে পারে না বলে গুদামে ধান দিতে গেলে সমস্যায় পড়তে হয়।

এছাড়াও নানা রকমের অভ্যন্তরীণ সমস্যার কারণে কৃষকরা গুদামে ধান দিতে আগ্রহী নন। তাই চলতি বোরো মৌসুমে জেলায় সরকারিভাবে ধানক্রয়ের বরাদ্দকৃত লক্ষ্যমাত্রা অর্জন নিয়ে দেখা দিয়েছে চরম আশঙ্কা।

খাদ্য বিভাগ বলছে সরকারি গুদামে ধান দেওয়ার জন্য কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে এবং লটারিতে নির্বাচিত কৃষকদের সঙ্গে যোগাযোগ করে গুদামে দ্রুত ধান দেওয়ার সব পজিটিভ কার্যক্রম অব্যাহত রাখা হয়েছে।

জেলার রাণীনগর উপজেলার আব্দপুকুর হাটে ধান বিক্রি করতে আসা কৃষক এনামুল হক বলেন, চলতি বোরো মৌসুমে ফলন ও দাম ভালো পাচ্ছি। গুদামে ধান দিতে গেলে নানা সমস্যায় পড়তে হয়। আর হাটে ধান বিক্রি করলে কোন ঝামেলায় পড়তে হয় না। তাই হাটে ধান বিক্রি করছি।

রাণীনগর খাদ্যগুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শরিফুল ইসলাম লিটন বলেন, বর্তমানে খাদ্যগুদাম প্রাঙ্গণে সুনসান নিরবতা বিরাজ করছে। নির্বাচিত কৃষকরাও গুদামে ধান দিতে আসছে না। সরকারের সংগ্রহ মূল্য থেকে বাজারে ধানের দাম বেশি থাকায় কৃষকরা গুদামে ধান দিতে আগ্রহী হচ্ছে না। তবে আমরা নির্বাচিত কৃষকদের গুদামে ধান দিতে উদ্বুদ্ধ কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছি। আশা করছি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে সক্ষম হবো।

জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা জিএম ফারুক হোসেন পাটোওয়ারী বলেন, সরকারি লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করার লক্ষ্যে প্রতিটি উপজেলায় কৃষকদের আগ্রহী করার লক্ষ্যে আমাদের সব কার্যক্রম অব্যাহত রাখা হয়েছে। গত ইরি-বোরো মৌসুমে জেলায় মোট এক লাখ ৮২ হাজার ৪৫ হেক্টর জমিতে বোরো ধান চাষ করা হয়েছিলো যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও অনেক বেশি। তিনি আরও বলেন, গুদামে ধান দেওয়ার শর্তগুলো কিছুটা শিথিল করে গুদামের প্রতি কৃষকদের আগ্রহী করার জন্য কৃষকদের সচেতনতা বৃদ্ধি করা হচ্ছে।

/টিটি/

লাইভ

টপ