কুমিল্লায় করোনায় থেমে নেই পরিবহনে চাঁদাবাজি

Send
কুমিল্লা প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ১৮:৪২, জুলাই ০৪, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ১৮:৪২, জুলাই ০৪, ২০২০

কুমিল্লায় এমন সই স্বাক্ষর ছাড়া স্লিপ দিয়ে হচ্ছে গণপরিবহনে চাঁদাবাজি।

বৈশ্বিক মহামারি করোনাভাইরাস সংক্রামণের মধ্যেও থেমে নেই গণপরিবহনে চাঁদাবাজি। সড়কে গাড়ি থামিয়ে এবং স্ট্যান্ডে দাঁড়িয়ে কিছু অসাধু ব্যক্তি রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে বিভিন্ন পরিবহন থেকে অবৈধভাবে এই চাঁদা উত্তোলন করছেন।

বিশেষ করে কুমিল্লা-লাকসাম আঞ্চলিক মহাসড়কের জেলার লালমাই উপজেলার বাগমারা বাজার এবং পদুয়ারবাজার বিশ্বরোড এলাকায় এই চাঁদাবাজদের দৌরাত্ম্য বেশি। সিএনজিচালিত অটোরিকশা থেকে অবৈধ চাঁদা আদায়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী চালকরা। চাঁদাবাজি বন্ধের দাবিতে লালমাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বরাবর একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন চালকরা। তাদের অভিযোগ, বাগমারা বাজারে কিছু ব্যক্তি রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে কল্যাণের কথা বলে টোকেনের মাধ্যমে চালদের জিম্মি করে এই চাঁদা আদায় করেন। টাকা না দিলে গাড়ি চাবি নিয়ে বিভিন্নভাবে হয়রানি করছেন।

সিএনজি চালক খালেক, মোমিন, মোসলেমসহ একাধিক চালক জানান, তাদের একটি সংগঠন রয়েছে। ২০০৪ সাল থেকে সিএনজিচালিত অটোরিকশা শ্রমিক ইউনিয়ন (১৫৬৯) নামে ওই সংগঠনের মাধ্যমে কুমিল্লা লাকসাম সড়কে গাড়ি চালিয়ে আসছেন। তখন পথে পথে কোনও চাঁদা দিতে হয়নি। কিন্তু গত মে মাস থেকে স্থানীয় কিছু রাজনৈতিক নেতা বাগমারা বাজারে দাঁড়িয়ে সিএনজিচালকদের কাছ থেকে অবৈধভাবে চাঁদা আদায় করে আসছেন। যা রীতিমতো চাঁদাবাজি। এই চাঁদা আদায় বন্ধের দাবিতে লালমাই উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা এ কে এম ইয়াসির আরাফাতের কাছে একটি লিখিত অভিযোগ করেছি।

চালকদের অভিযোগের বিষয়ে কুমিল্লা টমছম ব্রিজ সিএনজিচালিত অটোরিকশা শ্রমিক ইউনিয়নের (১৫৬৭) সাধারণ সম্পাদক মো. আলম জানান, কুমিল্লা লাকসাম রোডে পদুয়ারবাজার বিশ্বরোড এবং বাগমারা বাজার এলাকায় কিছু লোক রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে সিএনজি চালকদের থেকে অবৈধ চাঁদা আদায় করছেন এমন অভিযোগ পেয়েছি। সড়কে দাঁড়িয়ে চাঁদা আদায় আমাদের সংগঠনে কোনও নিয়ম নেই। বাগমারা বাজারে যারাই চাঁদা আদায় করছেন তা নিয়মনীতির বাইরে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে করছেন। আমরা এই চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে প্রশাসনের ব্যবস্থা চাই। 

চালকদের অভিযোগের জবাবে বাগমারা বাজার এলাকার স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা মো. শফিক ওরফে ক্যাশিয়ার স্বীকার করেছেন, আমরা সিএনজিচালিত অটোরিকশা শ্রমিকদের কাছ থেকে ১০ টাকা হারে কল্যাণের টাকা নিচ্ছি। এর বাইরে কোনও টাকা উঠানো হচ্ছে না। স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন আমাদের কার্যক্রম তদন্ত করে দেখেছেন।

আওয়ামী লীগ নেতা মো. শফিক ক্যাশিয়ার আরও দাবি  করেন, ১০ টাকা হারে চালকদের থেকে যে অর্থ উত্তোলন করা হয় কোনও চালক দুর্ঘটনা বা অসুস্থ হয়ে পড়লে চিকিৎসার জন্য ওই অর্থ থেকে তার পরিবারের কাছে সহায়তা প্রদান করা হয়।

তবে এটা করা হয়েছে এমন কোনও উদাহরণ দেখাতে পারেননি তিনি।

লালমাই উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. আবদুল হামিদকে ওই সিএনজি সংগঠনের সদস্যরা উপদেষ্টা দাবি করলেও তিনি জানান, বাগমারা বাজারে নতুন করে সিএনজিচালিত অটোরিকশা চালকদের কল্যাণে একটি সংগঠন হয়েছে শুনেছি। তবে কে বা কারা এতে জড়িত সঠিক বলতে পারবো না। তাদের কার্যক্রম নিয়েও আমার ধারণা নেই।

লালমাই উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা এ কে এম ইয়াসির আরাফাত জানান, বাগমারা বাজারে চাঁদাবাজির অভিযোগে সিএনজিচালিত অটোরিকশার একটি পরিবহন সংগঠন থেকে লিখিত অভিযোগ করেছে। তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট থানার ওসিকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। তদন্ত করে ঘটনার সত্যতা কী পেয়েছে খোঁজ নেওয়া হবে।

 

/টিএন/

লাইভ

টপ