‘সংঘবদ্ধ ধর্ষণের সংবাদ প্রকাশ করায়’ দুই সাংবাদিককে মারধর

Send
কুমিল্লা প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ১০:০৪, জুলাই ১০, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ১০:৩৭, জুলাই ১০, ২০২০

সাংবাদিকদের মারধরের সময়ের সিসিটিভি ফুটেজকুমিল্লার চান্দিনায় ‘ডেনিম প্রসেসিং প্লান্ট লিমিটেড’ এর ভেতর দুই সাংবাদিককে ধরে নিয়ে মারধর করার অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী সাংবাদিকদের অভিযোগ, এক নারী গার্মেন্টেসকর্মীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করায় ওই গার্মেন্টের মালিকপক্ষের নির্দেশে তাদের মারধর করা হয়। বৃহস্পতিবার চান্দিনার বেলাশহর এলাকায় ওই গার্মেন্টেসের সামনের সড়ক থেকে তাদের ধরে নিয়ে মারধর করা হয় এবং ক্যামেরা ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয় হামলাকারীরা।  

আহতরা হলেন- দৈনিক যুগান্তরের চান্দিনা প্রতিনিধি মো. আব্দুল বাতেন এবং দৈনিক যায়যায়দিনের চান্দিনা প্রতিনিধি মো. জাকির হোসেন। আব্দুল বাতেন চান্দিনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

আহত সাংবাদিকরা জানান, ডেনিম প্রসেসিং প্লান্ট লিমিটেডের মালিক মো. জাহাঙ্গীর আলমের চাচাতো ভাই ও গার্মেন্টসের কোয়ালিটি সুপারভাইজার মো. লিটন, তার ভাই আনোয়ার হোসেনসহ ১০/১২জন সন্ত্রাসী ওই হামলা চালায়।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন সাংবাদিক আব্দুল বাতেন বলেন, ‘বৃহস্পতিবার সকাল পৌনে ৮টার দিকে আমরা মোটরসাইকেলে করে ওই গার্মেন্টেসের সামনের সড়ক দিয়ে সাংবাদিক জাকির হোসেনের বাড়িতে যাওয়ার পথে লিটন, আনোয়ারের নেতৃত্বে ১০/১২ জন সন্ত্রাসী আমাদের ওপর হামলা চালায়। এসময় আমাদের ব্যবহৃত ক্যামেরা ও আমার মোবাইল ফোনটি ছিনিয়ে নেয় সন্ত্রাসীরা।’ ডেনিম প্রসেসিং প্লান্ট লিমিটেড

এ ঘটনার পর চান্দিনা পুলিশ ও চান্দিনায় কর্মরত সাংবাদিকরা ঘটনাস্থলে গেলে গার্মেন্টেসের পরিচালক মো. আলমগীর হোসেন বলেন, ‘আমাদের গার্মেন্টেসের কোনও নারী শ্রমিক ধর্ষণের শিকার হয়নি। এরপরও সাংবাদিকরা আমাদের সুনাম ক্ষুণ্ন করার জন্য মিথ্যা সংবাদ প্রকাশ করে। ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই এমনটা হতে পারে।’

এদিকে গত সোমবার (৬ জুলাই) রাত ৯টায় ওই গার্মেন্টেস ছুটির পর বাসায় ফেরার পথে এক নারী শ্রমিক সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হন বলে অভিযোগ ওঠে। এই অভিযোগে ওই রাতেই চান্দিনা থানা পুলিশ তিন জনকে ধর্ষক সন্দেহে আটক করে। পরদিন দেবিদ্বার থানায় এ বিষয়ে মামলা দায়ের করা হয়।

এ ব্যাপারে চান্দিনা থানার ওসি মো. আবুল ফয়সল জানান, ‘আমি পুলিশ পাঠিয়েছি। পুলিশ পুরো ঘটনা শুনে এবং গার্মেন্টেসের সিসি টিভির ফুটেজ দেখে সাংবাদিকদের মারধরের সত্যতা পায়। এছাড়া গত ৬ জুলাই রাতে ওই গার্মেন্টেসের এক নারী শ্রমিককে ধর্ষণের অভিযোগ আছে। সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

দেবীদ্বার থানার ওসি জহিরুল আনোয়ার জানান, সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনায় গার্মেন্টসকর্মী নিজেই বাদী হয়ে থানায় একটি ধর্ষণ মামলা করেন। অভিযুক্তরা ধর্ষণের কথা স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছে। ভুক্তভোগি নারী যে ডেনিম গার্মেন্টসে চাকরি করেন তার প্রমাণপত্র সংগ্রহ করা হয়েছে। 

 

/এফএস/

লাইভ

টপ