কালভার্ট বন্ধ করে বাড়ি নির্মাণ, পানিবন্দি দুই গ্রামের মানুষ

Send
পঞ্চগড় প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ১১:৪৮, জুলাই ১০, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ১১:৪৯, জুলাই ১০, ২০২০

কালভার্ট বন্ধ করে বাড়ি নির্মাণপঞ্চগড় জেলার দেবীগঞ্জ উপজেলার টেপ্রিগঞ্জ ইউনিয়নের চরপাড়া ও চরমেলাপাড়া এলাকার শতাধিক পরিবার জলাবদ্ধ অবস্থায় দুর্বিষহ জীবনযাপন করছে। পানি নিষ্কাশনের একমাত্র কালভার্টটির মুখ বন্ধ করে ঘরবাড়ি নির্মাণ করায় চার বছর ধরে বর্ষা মৌসুমে দুর্ভোগ পোহাচ্ছে ওই এলাকার বাসিন্দারা। গত আট দিন ধরে পানি বন্দি হয়ে দুর্ভোগে দিন কাটাচ্ছেন তারা।  ক্ষতি হচ্ছে মাছের ঘের, ঘরবাড়ি, রাস্তাঘাটসহ বিভিন্ন ফসলের।কালভার্ট বন্ধ করে বাড়ি নির্মাণ 

ভুক্তভোগীরা জানান, ২০১৬ সালে তিন প্রভাবশালী ব্যক্তি এই গ্রামের পানি নিষ্কাশনের কালভার্ট বন্ধ করে দিয়ে ঘরবাড়ি নির্মাণ করেন। এসময় ভুক্তভোগীরা বাধা দেন এবং স্থানীয় প্রশাসনকে অবহিত করেন। কিন্তু এর কোনও সমাধান হয়নি। ফলে ২০১৭ সাল থেকে প্রতি বর্ষা মৌসুমে তারা জলাবদ্ধ হয়ে পড়েন। বর্ষা শুরু হলেই তাদের রাস্তাঘাট, ঘরবাড়ি, ফসলের মাঠ, পুকুর, জলাশয় পানিতে টইটম্বুর হয়ে পড়ে। এ বছরও প্রবল বর্ষণে শতাধিক পরিবার জলাবদ্ধতার মধ্যে বসবাস করতে বাধ্য হচ্ছে।পানিবন্দি দুই গ্রামের শত শত প্রতিবার

চরপাড়া এলাকার মানিকজান, মহিরউদ্দিন ও মফিজউদ্দিন জানান, জলাবদ্ধতার কারণে আমাদের ঘরবাড়ি, রাস্তাঘাট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ঘরে-বাইরে পানিতে বন্দি হয়ে আমরা পরিবার পরিজন নিয়ে সীমাহীন দুর্ভোগে দিন কাটাচ্ছি।  পাশের গ্রামে আত্মীয়স্বজনের বাসায় গরু-ছাগল রেখে এসেছি। অনেক দূরে অন্যের বাড়িতে গিয়ে একবেলা করে খাবার রান্না করে আনছি। আমরা খেয়ে আছি নাকি না খেয়ে আছি মেম্বার-চেয়ারম্যান কেউ আমাদের খোঁজ নেয়নি।পানিবন্দি দুই গ্রামের শত শত প্রতিবার

ওই এলাকার ইব্রাহিম ও আব্দুল কুদ্দুস জানান, কালভার্ট দিয়ে পানি যেতে পারছে না একারণে দুই গ্রাম ডুবেছে। আমন ক্ষেত, বীজতলা, মিষ্টি আলু, মরিচ, হলুদসহ বিভিন্ন ধরনের ফসলের ক্ষেত পানিতে তলিয়ে গেছে।পানিবন্দি দুই গ্রামের শত শত প্রতিবার

চরমেলা পাড়া এলাকার আমজাদ হোসেন জানান, আকস্মিক জলাবদ্ধতায় ভেসে গেছে লাখ লাখ টাকার পুকুরে মাছ। তার পুকুরের প্রায় এক লাখ ৮০ হাজার টাকার মাছ ভেসে গেছে। একই এলাকার মনসুর আলী জানান, তার পুকুরের প্রায় দেড় লাখ টাকার মাছ ভেসে গেছে।

চরপাড়া গ্রামের মো. রাসেল ও মো. কালাম ইসলাম জানান, গত আট দিন ধরে পানিবন্দি অবস্থায় আছি। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিসহ প্রশাসনের কেউ আমাদের কোনও খোঁজ খবর নেননি। বেআইনীভাবে কালভার্ট বন্ধ করে ঘরবাড়ি নির্মাণ করলেও স্থানীয় প্রশাসন গত তিন বছরেও এদের বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা নেয়নি এবং পানি নিষ্কাশনেরও কোনও ব্যবস্থা করেনি। ২০১৭ সালে স্থানীয় প্রশাসন বিষয়টি সমাধানের আশ্বাস দিলেও আজও তা বাস্তবায়ন হয়নি। তাই এবারও আমাদের পানিবন্দি হতে হয়েছে। আমরা টাকা-পয়সা ত্রাণ কোনোটাই চাই না। দ্রুত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা চাই।  পানিবন্দি দুই গ্রামের শত শত প্রতিবার

রামগঞ্জ বিলাসী উচ্চ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সদস্য মো. হযরত আলী জানান, পানি নিষ্কাশনের জন্য সরকার ব্রিজ-কালভার্ট নির্মাণ করে দিয়েছে। কিন্তু তিন-চার জন মানুষ কালভার্টের মুখ বন্ধ করে ঘরবাড়ি নির্মাণ করায় পানির গতিপথ বন্ধ করে দিয়েছে। ফলে এই এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। বিদ্যালয় মাঠে পানি লেগেছে। বিদ্যালয়ের মূল প্রবেশপথটি পানির তোড়ে ভেঙে গেছে।পানিবন্দি দুই গ্রামের শত শত প্রতিবার

পানিবন্দি থাকায় মানুষের দুর্ভোগের কথা স্বীকার করে দেবীগঞ্জ উপজেলার টেপ্রীগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গালাম রহমান সরকার বলেন, পানি কমলে নতুন কালভার্ট নির্মাণের ব্যবস্থা দেবেন।পানিবন্দি দুই গ্রামের শত শত প্রতিবার

দেবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) প্রত্যয় হাসান জানান, আকস্মিক প্রবল বর্ষণে দেবীগঞ্জ উপজেলার বেশ কয়েকটি এলাকা নিমজ্জিত হয়েছে। পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা বন্ধ করে দেওয়ার কারণে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন একটি ইউনিয়নের দুটি গ্রামের অর্ধশত পরিবার পানিবন্দি হয়ে দুর্ভোগে পড়েছে। বিষয়টি আমি স্থানীয় চেয়ারম্যানকে অবহিত করেছি। আমি দ্রুততম সময়ের মধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করে এই মানুষগুলোর দুর্ভোগ লাঘবে সরকারি সহযোগিতার ব্যবস্থা করবো।

 

 

/এফএস/

লাইভ

টপ