লাইনের পাথর বিক্রি ও পরিত্যক্ত ভবন ভেঙে মার্কেট করেছেন রেলের মিস্ত্রি!

Send
রায়হানুল ইসলাম আকন্দ, গাজীপুর
প্রকাশিত : ১০:৩৪, জুলাই ১২, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ১০:৩৪, জুলাই ১২, ২০২০

বিক্রির জন্য রেললাইনের পাথর তুলে স্তূপ করে রাখা হয়েছে



রেলওয়ের সম্পদ লুটপাট ও জমি বেহাতের ঘটনা ঘটেছে গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার কাওরাইদ এলাকায়। কাওরাইদ স্টেশনের সংস্কারাধীন এক নম্বর লাইনের ভাঙা পাথর চড়া দামে বিক্রি করে দেওয়া হচ্ছে। রেললাইনের কাঠের স্লিপার সরিয়ে কংক্রিপের স্লিপার বসানো হয়েছে। এছাড়া স্টেশন এলাকায় রেলওয়ের কর্মচারীদের পরিত্যক্ত ভবন ভেঙে মার্কেট গড়ে তোলার অভিযোগও পাওয়া গেছে। স্থানীয় রেল কর্মচারীদের যোগসাজশে কাওরাইদে রেলওয়ের মিস্ত্রি মোসলেম উদ্দিন বাবু এ কাজ করছেন বলে জানা গেছে। সরেজমিন ঘুরে ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।

স্থানীয় সূত্র ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, পুরনো ও ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়ায় কাওরাইদ রেলওয়ে স্টেশনের এক নম্বর লাইনটি উঠিয়ে নতুন করে লাইন বসানোর উদ্যোগ নিয়েছে রেলওয়ের প্রকৌশল বিভাগ। এ কাজ বাস্তবায়নকালে লাইনে থাকা পাথরের ভাঙা অংশ মাটিসহ সরিয়ে পুনরায় লাইনে ব্যবহারের নিয়ম। তবে রেলওয়ের মিস্ত্রি স্থানীয় কিছু ব্যক্তির সহযোগিতায় মাটিসহ পাথর তুলে নিয়েছেন। সেখানে মাটি থেকে পাথরের আলাদা করে বিক্রির জন্য জড়ো করে রেখেছেন। নূরানী ভিটা মধ্যপাড়ায় স্তূপাকারে পাথর রেখে দিতেও দেখা গেছে। দেখা গেছে মাটি থেকে পাথর পৃথককরণের দৃশ্যও।

ভেকু মেশিন দিয়ে মাটি থেকে পাথর আলাদা করা হচ্ছে



স্থানীয় যুবক মানিক কিছু লোকজনকে সঙ্গে নিয়ে এসব পাথর পাহারা দিতে দেখা গেছে। মানিক বলেন, ‘রেল মিস্ত্রি মোসলেমসহ স্টেশন মাস্টার এ বিষয়ে সব জানানে। আপনি তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। আমাদেরকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে দেখে রাখার।’
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক যুবক জানান, ১০০-১২০ টাকা ফুট দরে বিক্রি করা হচ্ছে এসব পাথর। গত দুই তিন সপ্তাহ ধরে পাথর বিক্রি চলছে। শুধু ভাঙা পাথরই নয়, এক নম্বর লাইনের বিপুল সংখ্যক কাঠের স্লিপারও উঠিয়ে সেই স্থানে সিমেন্টের স্লিপার বসানো হয়েছে। কাঠের স্লিপারগুলোও তারা বিক্রি করে দিচ্ছে। এমনকি রেলমিস্ত্রি মোসলেম পরিত্যক্ত রেললাইন কেটে এর খণ্ডাংশ স্থানীয়দের কাছে বিভিন্ন সময় বিক্রি করে আসছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।

রেলমিস্ত্রি মোসলেম
অন্যদিকে, কাওরাইদ রেলস্টেশনের উত্তর পার্শ্বে পুরনো পানির ট্যাংক সংলগ্ন স্থানে রেল কর্মচারীদের বাসভবন ছিল। পরিত্যক্ত এই কোয়ার্টার ভেঙে রেলমিস্ত্রি বেশ কয়েকটি দোকান ঘর তৈরি করে ভাড়া দিয়েছেন বলেও জানা গেছে। সেখানে বর্তমানে অনেকগুলো সেলুন রয়েছে।
স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, এসব সেলুন ঘরের জন্য প্রতিটির বিপরীতে দেড় থেকে দুই লাখ টাকা সিকিউরিটি মানি নিয়েছেন মোসলেম। সেলুনের পেছনে ভবন ভেঙে নির্মাণ করা বাড়িও ভাড়া দেওয়া। জানা গেছে, সড়কের পাশে অন্তত ৬-৭টি দোকান ঘর নির্মাণ করে ভাড়া দিয়েছেন তিনি। মার্কেটের পেছনে আরও ১০-১৫টি ঘর ভাড়া দেওয়া রয়েছে। বেলদিয়া গ্রামের বাসিন্দা হওয়ায় আঞ্চলিক প্রভাব খাটিয়ে ও রেলের এক শ্রেণির দুর্নীতিবাজ কর্মচারীদের যোগসাজশে মোসলেম অবাধে লুটপাট চালিয়ে যাচ্ছে।

কাঠের স্লিপার সরিয়ে কংক্রিটের স্লিপার বসানো হয়েছে
অভিযোগ অস্বীকার করে মোসলেম বলেন,  ‘নতুন লাইন বসানোর সময় এলাকার মানুষ কিছু মাটি-পাথর নিয়ে থাকতে পারে। আমি এ বিষয়ে কিছু জানি না।’

রেলওয়ের পরিত্যক্ত বাস ভবন ভেঙে মার্কেট গড়ে তোলার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি কোনও সদুত্তর দিতে পারেননি। বলেন, ‘মাত্র দু’বছর আর চাকরি আছে। অনেকে শত্রুতা করে আমার বিরুদ্ধে বলতে পারে। আমার ক্ষতি করবেন না।’

কারওয়াইদ রেলস্টেশন
কাওরাইদ রেলওয়ে স্টেশনের মাস্টার (জুনিয়র) নয়ন মিয়ার কাছে সংস্কারাধীন এক নম্বর লাইনের পাথর কোথায় জানতে চাইলে তিনি কিছু জানাতে পারেননি। তবে পাশেই থাকা নুরুল ইসলাম নামে এক রেল কর্মচারী বলেন,  ‘আমরা জানলেও এ বিষয়ে বলতে পারবো না। রেলওয়ের প্রকৌশল বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগ করেন।’
বাংলাদেশ রেলওয়ের যুগ্ম মহাপরিচালক (প্রকৌশল) আল ফাত্তাহ মাসউদুর রহমান বলেন, ‘রেলওয়ের একজন নির্বাহী প্রকৌশলীকে বিষয়টি তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বলেছি। জড়িত রেল মিস্ত্রিকে বরখাস্তের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।’

 

/এসটি/

সম্পর্কিত

লাইভ

টপ