ঈদ হয়নি ওদের

Send
সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ১১:১৮, আগস্ট ০২, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ১১:১৮, আগস্ট ০২, ২০২০

বাঁধে আশ্রয় নেওয়া লোকজন



‘করোনায় কাজ-কাম নাই। আমাগোর স্বামীরাও অনেক দিন থ্যাইকা বাড়িতে বইস্যা আছে। একে তো করোনা, তার ওপর বন্যা ও নদী ভাঙন। আমাগোর এবারে কিসের ঈদ। দিনপাতই চলত্যইছে না। ঘরবাড়ি এহুন পানিতে ডুইব্যা আছে। বাঁধের ওপর আশ্রয় নিছি। স্বামী, ছেলেপুলে ও নাতি-পুতি নিয়ে ইকোপার্কের মধ্যে ঝুপড়ি তুইল্যা কোনও মতে আছি। কেউই খোঁজ-খবর নেয় না। ১৪-১৫ দিন থেইক্যা বাঁধের ওপর পইর‌্যা আছি। কী খাই বা না খাই চেয়ারম্যান-মেম্বরাও দেখবার আইলো না। আমরা সবাই চাইয়া চিন্তা চলত্যাছি। খ্যাতে পানি উডায় ধানও কাটতে পারিনি। থাকুনেরই জায়গা নেই, আবার ঈদ।’ নিজেদের অবস্থা এভাবে জানালেন কাজিপুরের মাইজবাড়ি ইউনিয়নের মাইজবাড়ি গ্রামের রাবেয়া খাতুন।

বাঁধে আশ্রয় নেওয়া লোকজন

দু’সপ্তাহ আগে বাড়িতে পানি উঠায় তিনিসহ মাইজবাড়ির ১৫টি পরিবার কাজিপুর ইকোপার্কের ভেতর উচুঁ জায়গায় ঝুপড়ি তুলে আশ্রয় নিয়েছেন। তার প্রতিবেশী আব্দুল হামিদ, আলম, মোতালেব হোসেন, বাচ্চু, আলী, জাহিদুল, সুখিতন নেছা, আইজান, ফজিলা খাতুন, ফরিদাসহ সবাই জানান,  করোনা ও বন্যার সময় তাদের সংগ্রামের কথা। তাদের কেউই ত্রাণ ও সহায়তা পাননি। তাই তাদের ঈদও নেই। করোনার কারণে রোজার ঈদেরও আনন্দ হয়নি। সবাই ভেবেছিলেন কোরবানিরর ঈদে আনন্দ হবে। কিন্তু হয়নি।

বাঁধে আশ্রয় নেওয়া লোকজন
কাজিপুর উপজেলার ভাটিতে দক্ষিণে সদরের ছোনগাছার ইউনিয়নের পাঁচঠাকুরি ও শিমলা গ্রামের অবস্থা বর্তমানে বেশ আশঙ্কাজনক। ২৪ জুলাই যমুনার ভাঙনে পাউবোর শিমলা স্পার যমুনায় বিলীন হলে ওই দু’গ্রামের সাড়ে ৩০০ পরিবার নিঃস্ব হয়ে গেছে। ঘরবাড়ি ও বাব-দাদার বসতভিটা হারিয়ে বর্তমানে খোলা আকাশের নিচে রয়েছেন।
কথা হয় বাঁধে আশ্রয় নেওয়া আব্দুস সালাম তালুকদারের সঙ্গে। তিনি জানান, শুক্রবার তাদের ৪ ভাইসহ অন্যান্য শরীকদের ঘরবাড়ি ও বসতভিটাসহ কয়েক কোটি টাকার সম্পদ ও মুরগির ফার্মসহ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান নদী গর্ভে বিলীন হয়েছে। কোরবানির ঈদের আনন্দ দূরের কথা এখনও সংগ্রাম করে টিকে থাকাটাই দুষ্কর।বাঁধে আশ্রয় নেওয়া লোকজন
মাইজবাড়ি ইউপি চেয়ারম্যান শওকত হোসেন বলেন, ‘শ্যালোচালিত ইঞ্জিন নৌকায় চর থেকে কাজিপুর আসছি। পরে এ বিষয়ে কথা বলবো।’
কাজিপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার জাহিদ হাসান সিদ্দিকী বলেন,  ‘আমি নিজে ইকোপার্কে আশ্রিতদের দেখে তাদের শুকনো খাবার দিয়ে এসেছি। এছাড়া, তাদের পয়ঃনিষ্কাশনের জন্য বাথরুম দেওয়ার জন্য জনস্বাস্থ্য বিভাগকে বলেছি।’

বাঁধে আশ্রয় নেওয়া লোকজন
সদর উপজেলার ছোনগাছা ইউপি চেয়ারম্যান শহিদুল আলম বলেন, ‘এমনিতেই করোনা, তারওপর বন্যা ও ভাঙন। প্রায় সাড়ে ৩০০ পরিবার নিঃস্ব হয়ে যায়। প্রয়াত সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিমের  ছেলে তানভির শাকিল জয় নিজে ভাঙন কবলিত স্থানে সরেজমিনে এস আড়াই লাখ টাকা নগদ সহায়তা দিয়েছেন।’

জেলা প্রশাসক ড. ফারুক আহাম্মদ বলেন, শিমলা স্পার বিলীন হওয়ার পর ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে আশ্রয়কেন্দ্রে পাঠানোর পাশাপাশি আড়াইশ পরিবারকে ত্রাণ মন্ত্রণালয় ও বেসরকারি নর্থওয়েস্ট পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানির তরফ থেকে দু’দফা ত্রাণ দেওয়া হয়েছে। পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের জেষ্ঠ্য সচিব কবির বিন আনোয়ার নিজেও সরেজমিনে পরিদর্শন করে তাৎক্ষণিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নিতে পাউবোকে নির্দেশ দিয়েছেন।

 

/এসটি/

লাইভ

টপ