বন্যায় ফতুল্লার দুটি বাড়ি ভেঙে পানিতে

Send
নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ২২:৩৬, আগস্ট ০৬, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ২২:৩৭, আগস্ট ০৬, ২০২০

পানিতে ভেঙে পড়া বাড়িশীতলক্ষ্যা, বুড়িগঙ্গা, ধলেশ্বরী ও মেঘনা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে নারায়ণগঞ্জের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে কয়েক হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। এরমধ্যে তিনটি নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। প্রতিদিনই বাড়ছে পানি। বন্যার পানির প্রবল স্রোতে ফতুল্লার চরনসিংপুরের গোপাল নগর এলাকার দুটি বাড়ি বিধস্ত হয়ে পানির নিচে তলিয়ে গেছে।

বুধবার (৫ আগস্ট) রাত থেকে বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) সকাল পর্যন্ত গোপাল নগর এলাকার মানিক শেখের এক তলা টিন সেড বাড়ির চারটি রুম এবং সারোয়ার আলমের টিন সেড বাড়ির চারটি রুম ভেঙে পানির নিচে তলিয়ে যায়। বাড়ি দুটি হঠাৎ ভেঙে পড়ায় দুই পরিবারের বাসিন্দারা খোলা আকাশের নিচে দিনযাপন করছেন। খবর পেয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসনের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সেলিম রেজা ও নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাহিদা বারিক ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে পানির নিচে তলিয়ে যাওয়া বাড়িঘরের মালামাল উদ্ধারের জন্য ফায়ার সার্ভিসকে নির্দেশ দেন। পাশাপাশি বাড়ি দুটির মালিককে খাদ্য সহায়তা প্রদান করেন।
বাড়ির মালিক মানিক শেখ ও তার স্ত্রী শারমিন আক্তার জ্যোথি জানান, বুধবার বিকাল থেকে বন্যার পানির চাপ বাড়তে থাকে। পাশে সবজি চাষি ও স্থানীয় ছেলেরা খেলাধুলা করার জন্য পানি যাতে প্রবেশ করতে না পারে সেজন্য বাঁধ তৈরি করে। কিন্তু পানি এক-দেড় ঘণ্টার ব্যবধানে প্রায় দেড় ফুট বৃদ্ধি পায়। যার কারণে বাঁধ ভেঙে তীব্র গতিতে প্রবেশ করতে থাকে। পানির তীব্র চাপে মানিক শেখের বাড়ির চারটি রুম ভেঙে পানির নিচে চাপা পড়ে। যে কারণে ঘর থেকে কোনও মালামাল, নগদ টাকা ও স্বর্ণালকার উদ্ধার করতে পারেনি। কোনও মতে জীবন নিয়ে বেরিয়ে আসেন তারা। একই অবস্থা পাশের বাড়ির সারোয়ার আলমের। বাড়িটির একাংশ ধসে পড়ছে। আরেক অংশে দেখা দিয়েছে বড় বড় ফাটল।

ভেঙে যাওয়া দুটি বাড়ির একাংশশারমিন আক্তার জ্যোথি আরও জানান, চা দোকানি মানিক শেখ বাহরাইন ও সৌদি আরবে ছিলেন। সে সময় টাকা দিয়ে গোপালনগর এলাকায় চার শতাংশ জমি ক্রয় করেন। কিন্তু সৌদি থেকে একটি দুর্ঘটনার কারণে দেশে ফিরে আসেন শূন্য হাতে। পরবর্তীতে স্থানীয় আত্মীয় স্বজন ও বিভিন্ন এনজিও থেকে প্রায় ১৫ লাখ টাকা ধার করে মাত্র তিন মাস আগে বাড়িটি নির্মাণ করেন। কিন্তু হঠাৎ বন্যার পানির চাপে বাড়িটি ভেঙে পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় নিঃস্ব হয়ে পড়েছে পরিবারটি।
ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সেলিম রেজা। তিনি বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার দুটিকে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সার্বিক সহায়তা করা হবে। পানির নিচে তলিয়ে যাওয়া মালামাল উদ্ধারের জন্য ফায়ার সার্ভিসকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বাড়িঘর হারিয়ে নিঃস্ব পরিবার দুটিকে খাদ্যসামগ্রী দিয়েও সহায়তা করা হচ্ছে। তারা চাইলে আপাতত তাদের জন্য সরকারিভাবে থাকার ব্যবস্থা করা হবে।
এদিকে বন্যার পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় ফতুল্লার বক্তাবলী ইউনিয়নের প্রায় ১৫ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। অনেকের বাড়িঘরে প্রবেশ করেছে পানি। টিউবওয়েল, বাথরুমসহ ঘরবাড়ি তলিয়ে যাওয়ায় চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন পানিবন্দি মানুষ। শিশু ও বৃদ্ধরা পড়েছেন মহা বিপাকে। টিউবওয়েল তালিয়ে যাওয়ায় দেখে দিয়েছে খাবার পানির সঙ্কট। স্থানীয়দের অভিযোগ বেশ কয়েক দিন ধরে মানুষ পানিবন্দি থাকলেও সরকারি কোনও ত্রাণ সহায়তা পাননি। প্রশাসনের পক্ষ থেকেও কোনও খোজ-খবর নেওয়া হয়নি। 

/আরআইজে/

লাইভ

টপ