চাঁদপুরে স্কুলভবন নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগশিক্ষা প্রকৌশলের সেই ইঞ্জিনিয়ারকে কুমিল্লায় বদলি

Send
চাঁদপুর প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ১৯:১৯, আগস্ট ০৮, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ১৯:৪৬, আগস্ট ০৮, ২০২০

শিক্ষা প্রকৌশল বিভাগের উপসহকারী প্রকৌশলী নূরে আলম



চাঁদপুরে ৬ কোটি টাকা ৩০ লাখ টাকা ব্যয়ে কচুয়া শহীদ স্মৃতি সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ভবন নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগ ওঠার পর চাঁদপুর শিক্ষা প্রকৌশল বিভাগের উপসহকারী প্রকৌশলী নূর আলমকে কুমিল্লার বরুড়া উপজেলায় বদলি করা হয়েছে।
গত ২৮ জুলাই শিক্ষা প্রকৌশল অধিদফতরের উপ-পরিচালক প্রশাসন আসাদুজ্জামান স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
তার স্থলে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালনের জন্য হাজীগঞ্জের উপ-সহকারী প্রকৌশলী জসিম উদ্দিনকে দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে।
এছাড়া অফিস আদেশে উল্লেখ করা হয়, এ অতিরিক্ত দায়িত্ব পালনের জন্য তিনি কোনও আর্থিক সুবিধা পাবেন না।
সূত্র জানায়, উপসহকারী নূর আলমের বদলির অর্ডারটি স্ট্যান্ড রিলিজের মতোই করা হয়েছে। কারণ, বদলির আদেশটি তাৎক্ষণিক কার্যকর করা হয়েছে। তবে আলোচিত বিষয় হওয়ায় ঈদের আগে পাঠানো এই অফিস আদেশটি গোপন রাখা হয়।
চাঁদপুর শিক্ষা প্রকৌশল অধিদফতরের সহকারী প্রকৌশলী মামুনুর রশিদ চৌধুরী জানান, হেড অফিস থেকে ইতোমধ্যে উপসহকারী প্রকৌশলী নুরে আলমকে কুমিল্লার বড়ুয়ায় বদলি করা হয়েছে। তার স্থলে আমাকে কচুয়ার অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তবে আমি শারীরিকভাবে কিছুটা অসুস্থ। তাই অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করতে পারবো কিনা তা দেখছি। তবে হেড অফিসের নির্দেশনাতো মানতেই হবে।
স্কুল ভবন নির্মাণে কোনও অনিয়মের তদন্তের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এখনও ঢাকা থেকে চিঠি আসে নাই। চিঠি পেলে সঙ্গে সঙ্গেই কাজের গুণগতমান যাচাই করা হবে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী আমরা কাজ করবো।
উল্লেখ্য, ৬ কোটি ৩০ লাখ টাকা ব্যয়ে কচুয়া শহীদ স্মৃতি সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ৬ তলা বিশিষ্ট ভবনের নির্মাণ কাজ দরপত্রের মাধ্যমে পায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান অনন্ত ট্রেডার্স (জেবি)। এরপর অনন্ত ট্রেডার্স কাজটি বিক্রি করে দেয় শিক্ষা প্রকৌশল দফতরের সাবেক কর্মচারী আশ্রাফুল আলম রনির কাছে। এ ভবন নির্মাণ কাজের শুরু থেকেই নানা অনিয়য়মের অভিযোগ করে আসছিলেন অভিভাবক ও স্থানীয়রা। অভিভাবকদের অভিযোগ, সিডিউলে ঢালাই কাজে এক নম্বর সিমেন্ট দেওয়ার কথা থাকলেও দেওয়া হচ্ছে দুই নম্বর সিমেন্ট, উন্নতমানের স্টোন চিপস-এর পরিবর্তে দেওয়া হচ্ছে নিম্নমানের ভোতা পাথর। কম দেওয়া হয়েছে রড। ব্যবহার করা হয়েছে ডাস্ট ও মাটি মিশ্রিত বালু।
স্থানীয় সূত্র জানায়, নিম্নমানের কাজ হওয়ায় অভিভাবকরা একাধিকবার উপজেলা চেয়ারম্যান শাহজাহান শিশিরকে জানানোর পর এক পর্যায়ে তিনি কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেন। পরে ১৯ জুলাই উপসহকারী প্রকৌশলী সাইটে গেলে বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠেন স্থানীয়রা। অনিয়মের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়ায় একপর্যায়ে উপজেলা চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ারের গায়ে হাত তোলেন। এ ঘটনার পর ইঞ্জিনিয়ার বাদী হয়ে চেয়ারম্যানসহ স্থানীয় অজ্ঞাতনামা আরও ২০ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। ঘটনার ৪ দিনের মধ্যেই গত ২৩ জুলাই উপজেলা চেয়ারম্যান শাহজাহানকে সাময়িক বহিষ্কার করে স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়। 

/টিএন/

লাইভ

টপ