ইউএনওর ওপর হামলার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিলো রবিউল

Send
দিনাজপুর প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ১৮:০১, সেপ্টেম্বর ২০, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ২১:৪৩, সেপ্টেম্বর ২০, ২০২০

দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট আদালতে ইউএনও’র ওপরে হামলার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিলো রবিউল

দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ওয়াহিদা খানম ও তার বাবা ওমর আলী শেখের ওপর হামলার ঘটনায় নিজের দায় স্বীকার করে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে আসামি রবিউল ইসলাম ।

আজ রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবির ওসি ইমাম জাফর। তিনি বলেন, আসামি নিজে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেওয়ার বিষয়ে সম্মতি জানায়। তাই তারা সকাল দশটায় রবিউলকে আদালতে নিয়ে আসেন। পরে আবেদনসহ তাকে দিনাজপুর চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলি আদালতে নিয়ে যাওয়া হয়। আদালতের বিচারক সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ইসমাইল হোসেনের কাছে তিনি স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেন। পরে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছে গোয়েন্দা পুলিশ।

দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ওয়াহিদা খানম ও তার বাবা ওমর আলী শেখের ওপর বর্বরোচিত হামলার ঘটনায় পুলিশের দাবিকৃত মূল আসামি রবিউলকে দ্বিতীয় দফায় তিন দিনের রিমান্ড শেষে রবিবার আদালতে তোলা হয়। সে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেবে বলে আদালত চত্বরে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়।

পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে রবিউল জানিয়েছেন, এ ঘটনার একমাত্র পরিকল্পনাকারী এবং হামলাকারী সে নিজেই। আক্রোশ থেকেই এই ঘটনা ঘটিয়েছে। তার দেওয়া তথ্যমতে হামলায় ব্যবহৃত হাতুড়ি, লাঠি, মই, চাবিসহ বিভিন্ন আলামত উদ্ধার করেছে পুলিশ। একইসঙ্গে তার পরনের প্যান্ট, হাতের ছাপসহ মোবাইলের লোকেশন বিষয়গুলো আলামত হিসেবে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। এসব আলামত বিচারকাজে সহায়ক হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ। এর আগে গত ৯ সেপ্টেম্বর সন্দেহভাজন ও প্রযুক্তির মাধ্যমে রবিউলকে নিজ বাড়ি থেকে আটক করে পুলিশ। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে নিজের দোষ স্বীকার করে। গত ১২ তারিখে এ বিষয়টি নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন পুলিশের রংপুর রেঞ্জের ডিআইজি দেবদাস ভট্টাচার্য। তিনি জানিয়েছিলেন, রবিউল দায় স্বীকার করে জানিয়েছে এ ঘটনায় প্রধান পরিকল্পনাকারী এবং একমাত্র হামলাকারী সে নিজে। পরে তাকে ওই দিনই আদালতে সোপর্দ করে ১০ দিনের রিমান্ডে চায় পুলিশ। আদালতের বিচারক তাকে অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৬ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। ওই দিন থেকেই রিমান্ডে নিয়ে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে পুলিশ। পরে গত বৃহস্পতিবার তাকে আদালতে তোলা হয়। ওই দিনই তাকে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করে ডিবি পুলিশ। সাত দিনের রিমান্ড শেষে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আরও সাত দিনের জন্য রিমান্ডের আবেদন জানালে আদালত তার তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে।

/টিএন/এমওএফ/

লাইভ

টপ
X