সীমান্তে রেললাইন স্থাপনের কাজ শুরু করেছে ভারত

Send
নীলফামারী প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ২০:৫৯, সেপ্টেম্বর ২২, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ২১:৫৯, সেপ্টেম্বর ২২, ২০২০

চিলাহাটি-হলদিবাড়ী সীমান্তে রেললাইন স্থাপনের কাজ শুরু করেছে ভারতনীলফামারী জেলার চিলাহাটি এবং জলপাইগুড়ির হলদিবাড়ীর আন্তর্জাতিক সীমান্তে (নো-ম্যানস ল্যান্ডে) রেললাইন স্থাপনের কাজ শুরু করেছে ভারত। এতে বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যে সরাসরি রেল যোগাযোগ স্থাপনের মধ্য দিয়ে মেলবন্ধন আরও দৃঢ় হতে যাচ্ছে।

সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) সকালে দেখা যায়, সীমান্তের আন্তর্জাতিক কাঁটাতারের বেড়া কেটে ফেলা হয়। ভারতীয় সামান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ ও বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিবির উপস্থিতিতে সীমান্তের কাঁটাতারের বেড়া কাটাসহ রেললাইন সম্প্রসারণের কাজ শুরু করে ভারতীয় রেল দফতর। বাংলাদেশের ৫৬ বিজিবি কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. মামনুর রশিদ এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

অপরদিকে, ভারতের উত্তর-পূর্ব রেলের মুখ্য জনসংযোগ কর্মকর্তা সুভানন্দ চন্দ্রা জানান, ভারতীয় সীমান্তের নো-ম্যানস ল্যান্ডে দুই দেশের রেলপথ সংযোগস্থলে লাইন বসানোর কাজ শুরু হলো। অচিরেই এই পথে বাংলাদেশ-ভারতের ট্রেন সরাসরি চলাচল শুরু করবে।

তিনি জানান, ৭৮২/২ এস আন্তর্জাতিক সীমান্ত পিলারের কাছে ১৫ মিটার কাঁটাতারের বেড়া কেটে ফেলা হয়। ওই ১৫ মিটার জায়গা দিয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে সংযোগ স্থাপনে বসানো হবে রেললাইন। সেখানে ভারতীয় রেল দফতর গেট তৈরি করবে। সাড়ে ছয় মিটার উঁচু ওই গেটের ওপর দিয়ে থাকবে কাঁটাতারের বেড়া। এরমধ্যে রেললাইন স্থাপনের জন্য বরাদ্দ থাকবে ১০ মিটার। আর ৫ মিটার জায়গা থাকবে সীমান্তরক্ষীদের যাতায়াতের জন্য।

তিনি আরও জানান, চিলাহাটির সঙ্গে হলদিবাড়ীর রেলপথ যুক্ত করতে ২০০ মিটার জায়গাজুড়ে কাজ করতে হবে। সীমান্তের নো-ম্যানস ল্যান্ডের দিকে ১৫০ মিটার ও কাঁটাতারের ওপারে ভারতের ৫০ মিটার লাইন তৈরি করলেই যুক্ত হবে ভারত-বাংলাদেশের এই রেলপথ। চলতি বছরের ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে শেষ হবে এই কাজ।

রেলপথ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালের ২১ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ-ভারতের রেললাইন স্থাপনের কাজ শুরু হয়। বৈশ্বিক করোনা মহামারিতে লকডাউনের কারণে এই বছরে জুন মাসের মধ্যে কাজ শেষ করা সম্ভব হয়নি। পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হওয়ায় এই কাজ শুরু হয়।

কাজের অগ্রগতি পরিদর্শনে গত ২৮ আগস্ট চিলাহাটির জিরো পয়েন্টে আসেন রেলপথ মন্ত্রী অ্যাডভোকেট নূরুল ইসলাম সুজন এমপি। ওইদিন তিনি তার বক্তব্যে বলেন, আগামী ১৬ ডিসেম্বর এই রেলপথ আনুষ্ঠানিকভাবে চালু করা হবে। আর করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে ২০২১ সালের ২৬ মার্চ বাংলাদেশের স্বাধীনতার ৫০ বছর পূর্তিতে দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও নরেন্দ্র মোদি ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ওই রেলপথ উদ্বোধন করবেন।

উল্লেখ্য, ১৯৪৭ সালে ভারত ভাগ হয়ে পাকিস্তান তৈরি হলেও ভারতের সঙ্গে পূর্ব পাকিস্তানের যাতায়াতের জন্য উত্তর-পূর্ব ভারতের প্রাচীন এই রেলপথটি সচল ছিল। ১৯৬৫ সালে পাকিস্তান-ভারত যুদ্ধের সময় এই পথটি বন্ধ হয়। সেই সময় কলকাতা থেকে বাংলাদেশের চিলাহাটি হয়ে ভারতের হলদিবাড়ী স্টেশন হয়ে ট্রেনটি পৌঁছাতো শিলিগুড়ি পর্যন্ত।

/এফএস/এমওএফ/

লাইভ

টপ