আড়াই কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগসেই প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ

Send
কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ২০:৪৩, অক্টোবর ১৯, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ২০:৪৩, অক্টোবর ১৯, ২০২০

BT-Newকুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার দুর্গাপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক উৎপল কান্তি সরকারের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করেছে তদন্ত কমিটি। সরকারি বরাদ্দসহ বিদ্যালয়ের নিজস্ব আয়ের প্রায় আড়াই কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা ও তদন্ত কর্মকর্তাকে সহযোগিতা না করে উল্টো আইনি নোটিশ পাঠানোয় তার বিরুদ্ধে এ পদক্ষেপ নেওয়া হলো। তদন্ত কর্মকর্তা ও জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা (ডিইও) শামসুল আলম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

এর আগে বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সদস্য হযরত আলীর অভিযোগের ভিত্তিতে উপ-পরিচালকের কার্যালয়, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা রংপুর অঞ্চলের দাফতরিক নির্দেশনায় গত ৩ সেপ্টেম্বর তদন্ত কাজ শুরু করেন ডিইও শামসুল আলম।

ডিইও জানান, প্রাথমিক তদন্তে অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে কিছু অনিয়মের সত্যতা পাওয়া গেছে। তদন্ত কাজের শুরুতে প্রধান শিক্ষক তাৎক্ষণিক কোনও কাগজপত্র দেখাতে পারেননি। তার কাছে অভিযোগের বিপরীতে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র চাইলে তিনি দুই দফা সময় আবেদন করেন। কিন্তু পুনর্নির্ধারিত সময়ে তিনি কাগজপত্র জমা না দিয়ে উল্টো তদন্তকারী কর্মকর্তাকে লিগ্যাল নোটিশ পাঠিয়েছেন।

ডিইও আরও বলেন, ‘এটা ওই প্রধান শিক্ষকের চরম ধৃষ্টতার শামিল। তার বিরুদ্ধে আড়াই কোটি টাকা আত্মসাৎসহ দুর্নীতির অভিযোগ থাকলেও তিনি তদন্তকারী কর্মকর্তাকে তদন্তে সহযোগিতা না করে সরকারি আদেশ অমান্য ও সরকারি কর্মকর্তাকে অবজ্ঞা করেছেন। এজন্য তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে সুপারিশ করা হয়েছে।’

এর আগে ম্যানেজিং কমিটির সদস্য হযরত আলীর অভিযোগের ভিত্তিতে উলিপুর উপজেলা প্রশাসন কর্তৃক গঠিত তদন্ত কমিটিকে অসহযোগিতা করেন এই প্রধান শিক্ষক। সেই তদন্ত প্রতিবেদনের আলোকে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ২০০৪ সালের ৫নং আইন (দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪) অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদফতরের (মাউশি) মহাপরিচালক বরাবর প্রতিবেদন পাঠিয়েছে জেলা প্রশাসন। জেলা প্রশাসনের একটি দায়িত্বশীল সূত্র এ তথ্য জানিয়েছে।

জানতে চাইলে এসব অভিযোগ ভুয়া, মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বলে দাবি করেন অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক উৎপল কান্তি সরকার।

উল্লেখ্য, গত বছরের অক্টোবর মাসে ম্যানেজিং কমিটির সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী একটি পর্যবেক্ষণ ও নিরীক্ষণ কমিটি করে দুর্গাপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের যাবতীয় আয়-ব্যয়ের প্রতিবেদন দিতে বলা হয়। নিরীক্ষণ কমিটি তদন্ত করে প্রধান শিক্ষক উৎপল কান্তি সরকার ও সাবেক সভাপতি খোরশেদ আলমের বিরুদ্ধে বিদ্যালয়ের অনুকূলে সরকারি বরাদ্দ এবং বিদ্যালয়ের নিজস্ব আয়ের প্রায় আড়াই কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ আনে। সেই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে বর্তমান সভাপতি কার্যকর কোনও ব্যবস্থা না নিলে ম্যানেজিং কমিটির সদস্য ও নিরীক্ষণ কমিটির আহ্বায়ক হযরত আলী উপজেলা প্রশাসন এবং উপ-পরিচালক মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা, রংপুর অঞ্চল বরাবর অভিযোগ দায়ের করেন।

/এমএএ/

লাইভ

টপ