‘স্ত্রীর বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের জেরেই খুন হন শ্রমিক মান্নাত’

Send
যশোর প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ১৮:৪৮, অক্টোবর ২৬, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ১৯:০২, অক্টোবর ২৬, ২০২০




স্ত্রীর বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের জের ধরেই যশোরের স্কেভেটর শ্রমিক ইস্রাফিল হোসেন মান্নাত (৪২) খুন হন বলে দাবি করেছে পুলিশ। তার ভগ্নিপতি শাহ আলমসহ সাত জন ওই হত্যার সঙ্গে জড়িত। এদের মধ্যে চার জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। একইসঙ্গে উদ্ধার করা হয়েছে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত লোহার পাইপ, ইট ও মোটরসাইকেল। সোমবার (২৬ অক্টোবর) দুপুরে নিজ কার্যালয়ে যশোরের পুলিশ সুপার মুহাম্মদ আশরাফ হোসেন এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান।

গ্রেফতার হওয়াদের মধ্যে রয়েছেন যশোর সদর উপজেলার রামনগর খাঁ পাড়ার ছমেদ আলীর ছেলে আল আমিন (২) (২৫), পুরাতন কসবা কাঁঠালতলা এলাকার আবু তাহেরের ছেলে রিফাত (১৯), সুজলপুরের আব্দুর রশিদ শেখের ছেলে রায়হান শেখ (২২) ও শফিকুল ইসলামের ছেলে নয়ন হোসেন (২০)।

ব্রিফিংয়ে পুলিশ সুপার মুহাম্মদ আশরাফ বলেন, গত ২৩ অক্টোবর রাতে শাহ আলমের সোর্স আল আমিনের কথামতো নিজের বাইসাইকেল নিয়ে বের হন মান্নাত। এরপর শাহআলম, তার ভাগ্নে শামিম ও তাদের গাড়িচালক আল আমিন(১)-সহ ৭-৮জন পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী মান্নাতকে প্রথমে ইট দিয়ে মাথা থেঁতলে ও পরে লোহার পাইপ দিয়ে পিটিয়ে হত্যা করে।

তিনি জানান, পরদিন সকালে কারবালা সিঅ্যান্ডবি এলাকার রাস্তার পাশ থেকে তার রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় নিহতের মা আনোয়ারা বেগম বাদী হয়ে মামলা করেন। এরপর ডিবি পুলিশ তদন্ত শুরু করে।

পুলিশ সুপার আরও বলেন, মোবাইলফোনের সূত্র ধরে রবিবার যশোর সদর ও অভয়নগর উপজেলায় অভিযান চালিয়ে হত্যায় জড়িত আল আমিন (২), রায়হান শেখ, রিফাত ও নয়ন হোসেন নামে চার জনকে গ্রেফতার করা হয়। পরে তাদের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত লোহার পাইপ, ইট ও মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়। আটকরা জানিয়েছে, ভগ্নিপতি শাহ আলমের সঙ্গে মান্নাতের স্ত্রীর বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক ছিল। এ নিয়ে গোলযোগের জের ধরে শাহ আলম এই হত্যার পরিকল্পনা করে। হত্যায় জড়িত শাহ আলমসহ অপর তিন জনকে ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানান পুলিশ সুপার।

প্রেস ব্রিফিংয়ে অন্যদের মধ্যে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) তৌহিদুল ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার গোলাম রব্বানী শেখসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

 

/টিটি/

লাইভ

টপ