ঝকঝকে তকতকে নতুন বইয়ের আশায় শুক্রবার সাত সকালে স্কুলে যায় ক্ষুদে শিক্ষার্থী আশরাফুল ও সিয়াম। কিন্তু স্কুল থেকে দাবি করা টাকা দিতে না পারায় নতুন বইয়ের আনন্দ থেকে বঞ্চিত হয়ে খালি হাতেই বাড়ি ফিরতে হয় তাদের। আশরাফুল আর সিয়ামের মতো আরও বেশকিছু শিক্ষার্থী বছরের প্রথম দিনে পাঠ্যপুস্তক উৎসবে নতুন বইয়ের গন্ধে মাতোয়ারা হতে পারেনি। ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলার রৌহা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কোমলমতি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে এমনটাই ঘটেছে শুক্রবার (১ জানুয়ারি)। একই অভিযোগ পাওয়া গেছে উপজেলার চরমছলন্দ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়েও।
এই দুই বিদ্যালয়ের অনেক শিক্ষার্থীই টাকার বিনিময়ে নতুন বই পেয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। রৌহা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী নাদিয়া ও রিফাত জানায়, তাদের কাছ থেকে খেলার চাঁদা বাবদ ৭০ টাকা করে নিয়ে তারপরই নতুন বই দেন স্কুলের শিক্ষকরা। চতুর্থ শ্রেণির ছাত্র রাসেল, দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্র আসাদুল জানায়, প্রথমে তারা বাড়ি থেকে টাকা আনেনি। তাই বইও দেওয়া হয়নি। পরে বাড়ি গিয়ে ৭০ টাকা এনে শিক্ষকদের হাতে তুলে দিলে তাদের নতুন বই দেওয়া হয়।
টাকার নেওয়ার পর নতুন বই দেওয়ার মতো ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ করেন রৌহা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অভিভাবক শাহাবুদ্দিন, আ. সাত্তার, জালাল উদ্দিন, আতিকুল ও সিরাজ উদ্দিনসহ অনেকে।
এ অভিযোগের বিষয়ে রৌহা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা খুদইস্তা আক্তার খুকি মুঠোফোনে বলেন, বার্ষিক ক্রীড়া অনুষ্ঠানের চাঁদা বাবদ রশিদের মাধ্যমে টাকা গ্রহণ করা হচ্ছে ।
একই অভিযোগ পাওয়া গেল চরমছলন্দ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বিরুদ্ধে। বছরের প্রথম দিনে বিনামূল্যে বই বিতরণের কথা থাকলেও স্কুলে ছাত্রীদের পুনঃভর্তির কথা বলে ৪শ’ থেকে ৫শ’ টাকা পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে নিচ্ছেন তারা। এ বিষয়ে মুঠোফোনে চরমছলন্দ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মাহবুবুল আলম বলেন, ভর্তি ফি বাবদ কয়েকজন ছাত্রীর কাছ থেকে টাকা নেওয়া হয়। বই দেওয়ার নামে কোনও টাকা নেওয়া হয়নি।
গফরগাঁও উপজেলার সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট ক্লাস্টার অফিসার নাজমুল হুদা বলেন, ‘বছরের প্রথম দিন নতুন বই বিতরণের সময় টাকা নেওয়ার নিয়ম নেই। খেলার চাঁদা নিলেও প্রথম বই উৎসবের দিন নিতে পারেন না।’
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বেলায়েত হোসেন বলেন, এরকম অভিযোগ সম্পর্কে তিনি কিছু জানেন না।
/এফএস/








