সিঙ্গাপুরে জঙ্গি সন্দেহে আটকের পর দেশে ফেরত পাঠানো জাহাজ নির্মাণ শ্রমিক রানা মিয়া পাইলটের (২৯) জঙ্গি সংশ্লিষ্টতার খবর বিশ্বাস করেন না তার পরিবারের সদস্যসহ স্থানীয়রা। তাদের দাবি সাদাসিধা ও ধার্মিক রানা মিয়া ওরফে পাইলট ষড়যন্ত্রের শিকার। মুখে দাড়ি থাকায় জঙ্গি সন্দেহে তাকে গ্রেফতার করা হয়ে থাকতে পারে।
বগুড়ার গাবতলীর দুর্গাহাটা ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য আওয়ামী লীগ কর্মী নাসিম পাইকার জানান, বাইগুনি প্রামানিক পাড়ার পল্লী চিকিৎসক হারুনার রশিদের তিন ছেলে ও এক মেয়ের মধ্যে রানা মিয়া পাইলট তৃতীয়। রানার বিবাহিত দুই ভাই পল্লব ও পাভেল নেপালতলি বাজারের মুদি ব্যবসায়ী। একমাত্র বোন শারমিন আকতার পলির স্বামী জেলার সাবগ্রামের পুলিশ সদস্য।
জানা যায়, নেপালতলি উচ্চ বিদ্যালয়ে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করেছেন রানা মিয়া। নবম শ্রেণিতে ওঠার পর ২০০৭ সালের নভেম্বরে পাশের গ্রাম ধরঞ্জাই-এর আজাদ মন্ডলের সহযোগিতায় চাকরি নিয়ে সিঙ্গাপুরে চলে যান। এরপর ৯ বছর ধরে সিঙ্গাপুরে আছেন। এ সময়ের মধ্যে শুধুমাত্র ২০১৩ সালে মাত্র কয়েক দিনের ছুটিতে বাড়িতে আসেন। বাড়িতে তিনি নিয়মিত টাকা পাঠাতেন। প্রায় প্রতিদিনই ফোনে বাবা ও মাসহ পরিবারের সবার সঙ্গে কথা হতো তার।
ইউপি সদস্য নাসিম পাইকার আরও বলেন, ‘পাইলট ও তার পরিবারের সদস্যরা ধার্মিক। দেশে থাকাকালে কখনও জেএমবি বা অন্য কোনও জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে সে জড়িত ছিল না। তবে সিঙ্গাপুরে গিয়ে যদি কোনও জঙ্গি তৎপরতায় জড়িয়ে পড়ে তাহলে তার শাস্তি হবে।’
প্রতিবেশী রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘পাইলট ছোটবেলা থেকে নরম স্বভাবের ছেলে। চলাফেরায় ছিল খুবই সাধারণ। ধার্মিক হলেও জঙ্গি তৎপরতার সঙ্গে সে জড়িত থাকতে পারে তা বিশ্বাস হয় না।
রানা মিয়া পাইলটের ছোট বোন শারমিন আকতার পলি জানান, তার ভাই খুব ধার্মিক ছিলেন। নিয়মিত সকলের খোঁজ নিতেন। নামাজ আদায় করতে উপদেশ দিতেন। গত ৭ এপ্রিল সিঙ্গাপুরে জঙ্গি সন্দেহে গ্রেফতার হবার ২-৩ দিন আগেও বাড়িতে ফোন করে তিনি সবার খবর নিয়েছেন। সর্বশেষ মঙ্গলবার বিকাল ৩টার দিকে এক আত্মীয়ের মাধ্যমে ঢাকায় গ্রেফতার হওয়ার খবর পান। খবরটি পাওয়ার পর থেকে মা শাহনাজ বেগম শয্যাশায়ী।
আরও পড়ুন: পাঠ্যপুস্তক থেকে ‘নাস্তিক ও ইসলামবিরোধী’দের লেখা বাতিলের দাবি
পলি মনে করেন, দাড়ি রাখার কারণে তার ভাইকে গ্রেফতার করা হতে পারে। একই মন্তব্য করেন রানা ওরফে পাইলটের খালা মঞ্জু বেগমও।
এদিকে রানা মিয়া ওরফে পাইলটের পরিবারের সঙ্গে বগুড়া গোয়েন্দা পুলিশের পক্ষ থেকে কোনও যোগাযোগ করা না হলেও গোয়েন্দা পুলিশের লোক পরিচয়ে পরিবারের কাছ থেকে পাইলটের সব ছবি নিয়ে গেছে অজ্ঞাতরা।
ইউপি সদস্য নাসিম পাইকার জানান, গত এপ্রিলের ৭ তারিখে পাইলট সিঙ্গাপুরে গ্রেফতার হবার পর গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল পাইলটের গ্রামের বাড়িতে আসে। তারা পাইলটের সব ছবি ও তার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট খবরাখবর নিয়ে গেছে।
অপরদিকে বগুড়া ডিবি পুলিশের ইন্সপেক্টর আমিরুল ইসলাম জানান, জঙ্গি পাইলটের ব্যাপারে কোনও খোঁজ তারা নেননি বা তাদের বাড়িতে যাননি। ডিবি পুলিশের পরিচয়ে অন্য কোনও সংস্থা সেখানে যেতে পারে।
উল্লেখ্য, সিঙ্গাপুর থেকে ফেরার পর মঙ্গলবার (৩ মে) দুপুরে কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের সদস্যরা রাজধানীর বনশ্রী এলাকা থেকে রানা মিয়া পাইলটসহ পাঁচজনকে গ্রেফতার করেন।
কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের প্রধান অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মনিরুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানান, এরা আইএস বা আল-কায়েদার সঙ্গে জড়িত নয়। এরা আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের (এটিবি) সদস্য।
/এইচকে/আপ-এনএস/








