চাঁপাইনবাবগঞ্জে বখাটে আব্দুল মালেকের হাঁসুয়ার কোপে এক স্কুলছাত্রী নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে আরও তিন স্কুলছাত্রী। শুক্রবার সকালে সদর উপজেলার গোবরাতলা ইউনিয়নের মহিপুর এলাকায় ঘটনাটি ঘটে।
বখাটে আব্দুল মালেককে (২৭) আটক করেছে পুলিশ।
নিহত স্কুলছাত্রীর নাম কনিকা ঘোষ (১৫)। সে মহিপুর গ্রামের লক্ষণ ঘোষের মেয়ে।
আহতরা হলো- অরুণ বাড়ি গ্রামের তাজেমুল হকের মেয়ে তানজিমা খাতুন (১৪), মহিপুরের আব্দুল কাদেরের মেয়ে তারিন আফরোজ (১৪) ও বেহুলা গ্রামের মকবুল হোসেনের মেয়ে ময়িম খাতুন (১৫)।
এদের মধ্যে তানজিমা ও মরিয়মকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে বেলা ১১টার দিকে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে দুপুরে তারিন আফরোজকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রামেক হাসপাতালে পাঠানো হয়। হতাহত চার কিশোরীই গোবরাতলা এসএম দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর থানার অফিসার ইনচার্জ মাযহারুল ইসলাম জানান, সকাল সাড়ে ৯টার দিকে চার স্কুলছাত্রী গোবরাতলা মহিলা কলেজের শিক্ষক খাইরুল ইসলামের কাছে প্রাইভেট পড়ে বাড়ি ফিরছিল। পথের মধ্যে মহিপুর এলাকায় দিয়াড় ধাইনগর গ্রামের মালেক চার কিশোরীকে পেছন থেকে হাঁসুয়া দিকে কোপাতে শুরু করে। এ সময় স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে দ্রুত সদর হাসপাতালে পাঠায় এবং বখাটে মালেককে আটক করে। কনিকার লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে।
আব্দুল মালেক এলাকায় মাদকসেবী হিসেবে পরিচিত। হামলার সময়ও তিনি নেশাগ্রস্ত ছিলেন বলে জানান সদর থানার ওসি।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক শামসুল ইসলাম জানান, ঘটনাস্থল থেকে নিয়ে আসার পথেই অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে কনিকা ঘোষ মারা যায়। অপর তিন কিশোরীর মাথা, হাত, কাঁধ ও কোমরের পিছনে গুরুতর আঘাত রয়েছে।
এদিকে সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) ওয়ারেশ আলী মিয়া ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে বিকেল ৩টায় সাংবাদিকদের জানান, এ ঘটনায় জনগণের সহায়তায় মূল আসামি আব্দুল মালেককে আটক করা হয়েছে। আলামত হিসেবে ঘটনায় ব্যবহৃত হাঁসুয়াটি উদ্ধার করা হয়েছে। তদন্তের প্রাথমিক পর্যায়ে জানা গেছে, বছর দেড়েক আগে মাদক সেবনের দায়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত আসামি আব্দুল মালেককে ৩ মাসের সাজা দিয়েছিলেন। সাজা ভোগ করেও তিনি মাদক ছাড়তে পারেননি। তিনি মাদকাসক্ত বলেই এলাকার লোকজন আমাদের জানিয়েছে। ঘটনার পেছেনে কোনও ঘটনা আছে কিনা তা আমরা গভীরভাবে তদন্ত করছি। বিস্তারিত তদন্ত শেষে জানা যাবে প্রকৃত ঘটনা।
তিনি আরও বলেন, এ বিষয়ে মামলা প্রক্রিয়াধীন।
আরও পড়ুন: মাদারীপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৫
থমথমে রাজাপুর, ক্যাম্পের সব পুলিশ প্রত্যাহার
/এআর/এজে








