নির্বাচনের আগে ভোটের প্রচারণা চালাতে গিয়ে গ্রামের একটি কাঁচা সড়ক নিজ খরচে সংস্কারের আশ্বাস দিয়েছিলেন বগুড়ার দুপচাঁচিয়া সদর ইউনিয়নের আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী আবু সাঈদ ফকির। এরপর ওই সড়কে ইট বিছিয়ে দেন তিনি। কিন্তু ভোটের ফলে হেরে যাওয়ায় গ্রামবাসীদের ওপর এমনই ক্ষিপ্ত হন তিনি যে রাস্তায় বিছিয়ে দেওয়া ইট তুলে নিয়ে গেছেন।
ইউনিয়নের কামার গ্রামে বুধবার এ ঘটনা ঘটেছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, দুপচাঁচিয়া সদর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আবু সাঈদ ফকির ওই ইউনিয়নের সদস্য ছিলেন। প্রায় ৫ মাস আগে চেয়ারম্যান মোয়াজ্জেম হোসেন গ্রেফতার হলে তিনি ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হন। তিনি এবারের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সমর্থিত চেয়ারম্যান প্রার্থী ছিলেন। প্রায় দু’মাস আগে ভোটের আশ্বাসে কামার গ্রামে আমজাদ হোসেনের বাড়ি থেকে শহিদুল ইসলামের বাড়ি পর্যন্ত প্রায় ২৫০ মিটার কাঁচা রাস্তায় নিজ খরচে ইট বিছিয়ে দেন তিনি। কিন্তু, গত ২৮ মে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী তোজাম্মেল হোসেনের কাছে হেরে যান। ৩১ মে মঙ্গলবার সরেজমিন কামার গ্রামে গিয়ে দেখা গেছে, শ্রমিকরা রাস্তায় বিছানো ইট তুলছেন। ইটগুলো ট্রাকে রাখা হচ্ছে।
পরাজিত চেয়ারম্যান প্রার্থীর কর্মী আলমগীর হোসেন জানান, আওয়ামী লীগ নেতা সাঈদ ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হওয়ার পর নিজের টাকায় রাস্তায় ইট বিছিয়ে দিয়েছিলেন। এতে তার প্রায় ৩৫ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। এত বড় উপকার করার পর গ্রামবাসীদের উচিত ছিল তাকে ভোট দেওয়া। কিন্তু গ্রামের লোকজন ভোট না দেওয়ায় তারা নিজে থেকে ইট তুলে নিচ্ছেন।
ফোন বন্ধ ও বাড়িতে না থাকায় আওয়ামী লীগের পরাজিত চেয়ারম্যান প্রার্থী আবু সাঈদ ফকিরের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এ ব্যাপারে দুপচাঁচিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহেদ পারভেজ বলেন, ভোটে পরাজিত হয়ে মনের দুঃখে আবু সাঈদ ফকির রাস্তা থেকে ইট তুলে নিয়েছেন। খবর পেয়ে ইট তোলার কাজ বন্ধ করে দিয়েছি। তবে ইটগুলো ইউনিয়ন পরিষদের টাকায় বিছানো হয়নি। তবে সরকারি রাস্তায় ব্যক্তিগত খরচে কাজ করলেও সেটা সরকারের হয়ে যায়। তাই তিনি এভাবে ইট তুলে নিতে পারেন না। কাজটি এলজিইডি বা উপজেলা পরিষদের কিনা সেই ব্যাপারে বৃহস্পতিবার সকালে উপজেলা সহকারী প্রকৌশলী রিপোর্ট দিবেন। তারপর প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
/জেবি/টিএন/
আরও পড়ুন: শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের টয়লেট পরিচ্ছন্ন না থাকলে ব্যবস্থা: শিক্ষামন্ত্রী








