সুনীল গোমেজ হত্যারহস্য উদঘাটনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মাঠে, আটক ১

নাটোর প্রতিনিধি
০৬ জুন ২০১৬, ০২:৩৪আপডেট : ০৬ জুন ২০১৬, ১৬:২৪


সুনীল গোমেজ নাটোরের বনপাড়ায় খ্রিস্টান মুদি দোকানি সুনীল গোমেজ হত্যার রহস্য উদঘাটনে মাঠে নেমেছে সিআইড, র‌্যাব,পুলিশ ও ডিবি পুলিশ। প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত সিআইডি পরিদর্শক সেকেন্দার আলী, র‌্যাব-৫ কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল মাহবুব আলম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মুনশি শাহাবুদ্দিন, ডিবি ওসি আব্দুল হাই, জেলা প্রশাসক খলিলুর রহমান, বড়াইগ্রাম ইউএনও রুহুল আমীন ও বড়াইগ্রাম সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার শফিকুল ইসলাম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে সূত্র উদ্ধারের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

তারা স্থানীয় লোকদের সঙ্গেও কথা বলছেন। তবে প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত কোনও সূত্র উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশ।  এদিকে সুনীল গোমেজ হত্যাকারীদের সাত দিনের মধ্যে গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন করেছে হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ। রবিবার বিকেলে বড়াইগ্রাম উপজেলার বনপাড়া বাজারে এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। আগামী সাত দিনের মধ্যে আসামিদের গ্রেফতার করা না হলে হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ এবং সংশ্লিষ্ট খ্রিস্টান পল্লীর অধিবাসীর হত্যাকারীদের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে রাজপথে নেমে আসবে বলেও হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা।

মানববন্ধন শেষে হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ, জেলা শাখার সভাপতি মণ্ডলীর সভাপতি ও বনপাড়া পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি ধীরেন সাহা জানান, সুনীল গোমেজ অত্যন্ত নম্র,ভদ্র ও নিরীহ ব্যক্তি। তার জানা মতে সুনীল গোমেজের সঙ্গে কারও শত্রুতা ছিল না। গত প্রায় এক সপ্তাহ থেকে সুনীলের স্ত্রী বাবার বাড়িতে বেড়াতে গেছেন। সুনীলের মেয়ে স্বপ্না একই গ্রামের গৃহবধূ।

স্থানীয় লোকদের সঙ্গে কথা বলে তিনি জানতে পেরেছেন, রবিবার সকালে সুনীল স্থানীয় বাজারে কিছু সওদা কিনে তার বাড়ি সংলগ্ন দোকানে বসে। এর পরই নৃশংসভাবে তাকে হত্যা করা হয়।

অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি দাবি করেন, সুনীলের বাড়ির সামনে পৌরসভার ফিডার রোড। সেখান থেকে চতুর্দিকেই যাওয়ার রাস্তা রয়েছে। ঘটনার সময রাস্তাটি ফাঁকা ছিল বিধায় হত্যাকারীরা সহজেই যে কোনও রাস্তা দিয়ে পালিয়ে গেছে। ঘটনাস্থলের সামনে রাস্তার অপরদিকে ১০০ গজের মধ্যে বাড়ি থাকলেও মাঝে গাছপালা থাকায় কেউ ঘটনার ব্যাপারে কিছু বলতে পারেনি।

ঘটনার পর পরই একটি ভ্যানে যাত্রী হয়ে একটি মেয়ে যাচ্ছিল। মেয়েটিই প্রথম সুনীলের মৃতদেহ দেখতে পেয়ে স্থানীয় লোকদের জানালে স্থানীয়রা ঘটনাস্থলে এসে পুলিশকে খবর দেয়। দেশব্যাপী সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা ও হত্যার ঘটনার অংশ হিসেবেই কোনও জঙ্গী গোষ্ঠী সুনীলকে হত্যা  করেছে যাতে সহজেই সংখ্যালঘুরা এদেশ ফাঁকা করে দিয়ে পালিয়ে যায় বলে দাবি করেছেন তিনি।

নিহত সুনীল গোমেজের মেয়ে স্বপ্না গোমেজ জানান, তার বাবার সঙ্গে কারও কোনও শত্রুতা ছিল না। তারপরেও এই ধরণের হত্যাকাণ্ডে হতবাক তারা।

বনপাড়া পৌর মেয়র কেএম জাকির হোসেন জানান, সুনীল গোমেজ খুব শান্ত প্রকৃতির মানুষ। তার সঙ্গে কারও কোনও বিরোধ ছিল বলে তার জানা নেই। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন।

ধর্মপল্লীর পাল পুরোহিত ফাদার বিকাশ হিউর্বাট রিবেরু বলেন, এ ঘটনায় তিনি বাকরুদ্ধ, কোনও মন্তব্য করতে পারছেন না। সুনীল বৃদ্ধ, শান্তি প্রিয় মানুষ, তাকে কেন হত্যা করা হলো তা তিনি বুঝতে পারছেন না।

জেলা হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি চিত্তরঞ্জন সাহা দাবি করেন, বর্তমান মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের সরকার দেশ পরিচালনা করছেন। বর্তমান সরকারের আমলে সকল ধর্মের মানুষই নিশ্চিন্তে জীবন যাপন করছেন যার ফলে বিশ্বে বর্তমান সরকারের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল রয়েছে। বিশ্বদরবারে সরকারের এই ভাবমূর্তি নষ্ট করে সরকারকে ব্যর্থ প্রমাণের অংশ হিসেবে দেশব্যাপী সংখ্যালঘু হত্যাকাণ্ডের অংশ হিসেবেই একটি গোষ্ঠি এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

রবিবার দুপুর তিনটার দিকে খ্রিস্টান মুদি ব্যবসায়ী সুনীল হত্যার হত্যা রহস্য উদঘাটনে প্রচেষ্টারত ডিবি ওসি আব্দুল হাই তালুকদার জানান, সুনীলের মাথার পেছনে ঘারে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করা হয়েছে। তার হাতে ৮৩ টাকা ধরা ছিল। টাকাগুলো উদ্ধার করেছেন তিনি। তিনি ঘটনার রহস্য উদঘাটনের জন্য ইতোমধ্যেই স্থানীয় বিভিন্ন ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলেছেন। কিন্তু কেউই হত্যাকাণ্ডের ব্যাপারে কিছু জানে না বলে জানিয়েছেন। এরপরও তিনি ঘটনার রহস্য উদঘাটনের প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

বড়াইগ্রাম থানার এসআই আশরাফ জানান, সুনীল হত্যাকাণ্ডের ব্যাপারে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য বাড়ির ভাড়াটিয়া সবুজকে আটক করা হয়েছে। সুনীলের লাশ ময়না তদন্তের জন্য নাটোর সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত এব্যাপারে কোনও মামলা দায়ের হয়নি।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মুনশি শাহাবুদ্দিন জানান,হত্যার কোনও কারণ জানা যায়নি। হত্যাকাণ্ডের প্রত্যক্ষদর্শী কাউকে পাওয়া যায়নি। তবে অপরাধীদের চিহ্নিন্ত করে গ্রেফতারে পুলিশ তৎপর রয়েছে। পুলিশ ।

রবিবার বেলা ১২ টার দিকে বনপাড়ার খ্রিস্টানপল্লীতে বাড়ি সংলগ্ন নিজ দোকানে জবাই করে হত্যা করা হয় সুনীল গোমেজকে। সুনীল গোমেজ একই এলাকার মৃত যোসেফ গোমেজের ছেলে।

আরও পড়ুন: বিএনপি প্রার্থীর বিজয় মিছিলে হামলায় স্কুলছাত্র নিহত, আহত ৩০

/এইচকে/

সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
মৌমাছির রানি হয়ে ওঠার রহস্য কী
মৌমাছির রানি হয়ে ওঠার রহস্য কী
তিন বছর নয়, এলডিসি উত্তরণ নিয়ে কীভাবে ভুল করলো দেশের প্রায় সব মিডিয়া
তিন বছর নয়, এলডিসি উত্তরণ নিয়ে কীভাবে ভুল করলো দেশের প্রায় সব মিডিয়া
অধিনায়ক হিসেবে ফিরেই জয় দেখলেন কুশল মেন্ডিস
অধিনায়ক হিসেবে ফিরেই জয় দেখলেন কুশল মেন্ডিস
মার্কিন সেনা হত্যা করলে যুদ্ধবিরতি শেষ, উপদেষ্টাদের জানালেন ট্রাম্প
মার্কিন সেনা হত্যা করলে যুদ্ধবিরতি শেষ, উপদেষ্টাদের জানালেন ট্রাম্প
সর্বাধিক পঠিত
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম