
পাবনার আর আতাইকুলা ইউনিয়নের নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতি কোরবান আলী বিশ্বাসের বিরুদ্ধে মাধপুর বাজারের সরকারি জায়গা দখল নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। শপথ গ্রহণের আগেই ২০টি দোকানসহ বাজার উচ্ছেদ করে আর আতাইকুলা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠনের কার্যালয়ের সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে দিয়েছেন। এদিকে উপার্জনের একমাত্র সম্বল দোকান হারিয়ে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা অসহায় হয়ে পড়েছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, আওয়ামী লীগের স্থানীর নেতারা সড়ক ও জনপথ বিভাগের এই জায়গা নিজেদের মধ্যে ভাগ-বাটোয়ারা করে নিয়েছেন। আর আতাইকুলা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান কোরবান আলী, তার শ্যালক আজাদ হোসেন, আর আতাইকুলা ইউনিয়নের আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আরশেদ আলী ভাণ্ডারী, স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা মশিউর রহমান রঞ্জু ও আব্দুল কুদ্দুসের নেতৃত্বে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জোরপূর্বক উচ্ছেদ করা হয়।
জানা যায়, পাবনা-ঢাকা মহাসড়কের আতাইকুলা থানার মাধপুর বাজারে সড়ক ও জনপথ বিভাগের জায়গায় ছোট অস্থায়ী দোকানঘর তৈরি করে দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসা করতেন স্থানীয় দরিদ্র মানুষেরা। এখানে চা, মুদি ও খাবারের দোকানসহ প্রায় ২০টি দোকান ঘর ছিল। কিন্তু প্রশাসনের কোন ধরনের নির্দেশনা ছাড়াই গত ৪ জুন স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতারা এসব দোকান উচ্ছেদ করে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ কার্যালয়ের সাইনবোর্ড লাগিয়ে দেন।

সরেজমিনে মাধপুর বাজার এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, সরকারি ওই জায়গা জুড়ে টানানো হয়েছে বিশাল ব্যানার। তাতে লেখা ‘বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠন, আর আতাইকুলা ইউনিয়ন শাখা’। এছাড়া গাছে গাছে ঝুলানো হয়েছে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও স্থানীয় এমপি শামসুল হক টুকুর ছবি। ব্যবসায়ীদের দোকান ঘর উচ্ছেদ করে পুরো জায়গাটি সীমানা প্রাচীর দিয়ে ঘিরে ফেলা হয়েছে।
এ ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত দোকানিরা থানা পুলিশের কাছে সাহায্য চাইলেও পুলিশ তাদেরকে কোনও সাহায্য করেনি। দোকান হারানো মোহাম্মদ আলী বলেন, ‘দীর্ঘ ৩০ বছর ধরে এখানে আমি চায়ের দোকান করতাম। এখন শুনতিছি আওয়ামী লীগের পার্টি অফিস হবি। এখন আমরা কোনে যাবো, কি করে খাবো।’
বাজারের ওষুধ দোকানি সাইফুল ইসলাম বলেন, আমি ৩০ বছর ধরে এখানে দোকান দিয়ে ব্যবসা করছি। তবে আমরা জানতাম জায়গাটি সরকারের খাস জায়গা। কিন্তু হঠাৎ করে আওয়ামী লীগের রঞ্জু, আরশেদ ও কুদ্দুস লোকজন নিয়ে এসে আমার দোকান তুলে নিয়ে যেতে বলে। তারা আমাদের বলেছে এখানে আওয়ামী লীগের অফিস হবে। আমরাও তো আওয়ামী লীগে ভোট দিছি, এখন তারাই আমাদের উচ্ছেদ করলো।
বাজারের ফার্নিচার ব্যবসায়ী সুলায়মান মিয়া, চা দোকানদার আব্দুল গফুর, মুদি দোকানদার ছলিম হোসেন, সাইদুল, আয়নালসহ বাজারের দোকানিরা অভিযোগ করে জানান, স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা আরশেদ ভাণ্ডারী, মশিউর রহমান রঞ্জু ও কুদ্দুস মিলে এই জায়গাটি দখলের পায়তারা করে। তারাই আমাদের উচ্ছেদ করেছে। পরে কোরবান চেয়ারম্যানের শ্যালক আজাদ হোসেন জায়গাটি ভাগ বাটোয়ারা করে দেন। ভাগে রঞ্জুর ৪টি, কুদ্দুসের ২টি, আরশেদ ভাণ্ডারী ও তার ভাইয়ের নামে ২টি, আর আতাইকুলা ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের পাঁচু মেম্বার ১টি করে দোকান বরাদ্দ পেয়েছেন।

এ ব্যাপারে আর আতাইকুলা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আরশেদ আলী ভাণ্ডারী বলেন, এখানে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের একটি অফিসের জায়গা দেওয়া হবে তাই আমি এসেছি। জায়গাটি নিয়ে রঞ্জু ও কুদ্দুস কাজ করছে, বিস্তারিত তারাই দুজন বলতে পারবেন। তবে সরকারি জায়গাতে অফিস করার বিষয়টি নিয়ে তিনি কোনও মন্তব্য করেননি।পাশাপাশি নিজের নামে দোকানের জায়গা নেওয়ার বিষয়টিও তিনি অস্বীকার করেছেন।
তবে মশিউর রহমান রঞ্জু সরকারি জায়গাটিকে নিজের জায়গা দাবি করে বলেন, যারা এখানে দোকান করে ব্যবসা করছিল তারাই অবৈধ ছিল। আমার জায়গা থেকে আমি অবৈধদের তুলে দিচ্ছি।এবিষয়ে কোরবান চেয়ারম্যানেরও অনুমতি রয়েছে। তবে আর আতাইকুলা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান কোরবান আলীর শ্যালক আজাদ হোসেন জায়গা দখল করার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন।
জায়গা দখলের বিষয়ে আর আতাইকুলা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি কোরবান আলীর সঙ্গে যোগাযোগ সম্ভব হয়নি। বারবার ফোন করার পরেও তিনি ফোন ধরেননি, তবে দীর্ঘসময় চেষ্টার পর চেয়ারম্যানের ছেলে মিরাজুল ইসলামের সঙ্গে কথা হলে তিনি জানান, বাবার নাম জড়িয়ে কারা কি করছে তা আমাদের জানা নেই। বাবা নির্বাচনের পর থেকেই অসুস্থ রয়েছেন।

পাবনা সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মোফাজ্জল হায়দার বলেন, অবৈধ দখলদার ছিল সেটা জানি। তবে কারা তাদের উচ্ছেদের মাধ্যমে নতুন করে দখল করছেন সেটি জানা নেই। তবে খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেন তিনি।
/এমও/








