বগুড়ার ১৩৩ বছরের প্রাচীন জেলা কারাগারে অধিকাংশ দিন ধারণ ক্ষমতার তিনগুণ হাজতি ও কয়েদি থাকেন। সম্প্রতি পুলিশের বিশেষ অভিযান শুরুর পর আরও ৩৭২ জন এলেও এখানে তাদের খাওয়া-দাওয়া, চিকিৎসা এবং অন্যান্য বিষয়ে কোনও সমস্যা নেই বলে দাবি করা হচ্ছে। জেল কর্মকর্তাদের পাশাপাশি মানবাধিকার সংস্থা ব্লাস্টের প্যারা-লিগ্যালরাও একই কথা বলছেন। তবে জেল থেকে ছাড়া পাওয়া বা বন্দি হওয়া হাজতি-কয়েদি ও তাদের স্বজনরা এ ব্যাপারে কোনও মন্তব্য করতে রাজি হননি।
বগুড়া কারাগার সূত্র জানায়, শহরের জলেশ্বরীতলা এলাকায় করতোয়া নদীর তীরে ১৮৮৩ সালে জেলা কারাগার নির্মাণ করা হয়। ধারণ ক্ষমতা ৭২০ জন। এর মধ্যে নারী ২০ জন। কারা হাসপাতালে ৪০ সিট। সেল ২০টি। পুরুষ ওয়ার্ড ১৯টি। প্রতি বেলায় হাজতির জন্য ৮৭ গ্রাম আটা ও ২৪৭ গ্রাম চাল এবং কয়েদির জন্য ১১৬ গ্রাম আটা এবং ২৯১ গ্রাম চাল বরাদ্দ। এ ছাড়া পরিমাণমত অন্যান্য খাবার থাকে। ধারণ ক্ষমতা কম হলেও এখানে দুই হাজারের বেশি হাজতি ও কয়েদি থাকেন। এদিকে পুলিশের বিশেষ অভিযান শুরুর পর গত চারদিনে মোট ৩৭২ জন হাজতে এসেছে। এদের মধ্যে জঙ্গি ২১ জন, জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মী ২০ জন এবং অন্যরা ভাঙচুর, নাশকতা, অগ্নিসংযোগসহ বিভিন্ন মামলার আসামি।
বগুড়া জেল সুপার মো. মোকাম্মেল হোসেন জানান, বিট্রিশ আমলে তৈরি এ জেলখানার ধারণ ক্ষমতা ৭২০ জন হাজতি-কয়েদি। কিন্তু দুই হাজার হলেও কোনও সমস্যা নেই। এক হাজার ৩২০ বর্গফুটের প্রতিটি ওয়ার্ডে ১০০ জন রাখা যায়। কারা হাসপাতালে ৪০ বেড থাকলেও মেঝেতে রাখা যায়। আসামি বেশি হলেও বাসস্থানের কোনও অসুবিধা নেই। এছাড়া প্রতিদিন অনেকে জামিনে ছাড়া পেয়ে চলে যান। সরকার মাথাপিছু খাবার ও চিকিৎসা সামগ্রী বরাদ্দ দেয়। তাই কোনও হাজতি বা কয়েদির থাকা-খাওয়ার ও চিকিৎসায় কোনও কষ্ট হয় না। কেউ অসুস্থ হলে কারা হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়ে থাকে। গুরুতর হলে তাকে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নির্ধারিত স্থানে ভর্তি করা হয়। প্রতিটি ওয়ার্ডে প্রয়োজনীয় সংখ্যক ফ্যান আছে।বিনোদনের জন্য টেলিভিশন রয়েছে। দৈনিক পেপারও পড়ার ব্যবস্থা আছে। এছাড়া হাজতিদের আয়ের জন্য তারা ভেতরে বিভিন্ন সামগ্রী তৈরি করেন।
জেলা কারাগারে ও আদালতে আসা হাজতি-কয়েদিদের সঙ্গে জেলখানায় থাকা-খাওয়ার সমস্যা প্রসঙ্গে কথা বলতে চাইলে সকলে বলেন, কোনও সমস্যা নেই। বগুড়া জেলখানা আগের চেয়ে অনেক ভালো। ভেতরে সরকারি বরাদ্দের পাশাপাশি ক্যান্টিনে খাবার পাওয়া যায়।
মানবাধিকার সংস্থা ব্লাস্টের ইমপ্রুভমেন্ট অব দ্যা রিয়্যাল সিচ্যুয়েশন অব ওভার ক্রাউডিং ইন প্রিজন (আইআরএসওপি) প্রকল্পের জেলা প্রকল্প কর্মকর্তা অ্যাডভোকেট হুসনে নুর রশিদ রূপালী জানান, তাদের প্যারা-লিগ্যালরা প্রতিদিনই জেলখানা পরিদর্শন করে থাকেন। বর্তমানে বগুড়া জেলের অবস্থা ভালো। হাজতি-কয়েদিরা মানসম্মত খাবার ও বাসস্থানের সুযোগ পাচ্ছেন। এখানে বিনা বিচারে কেউ আটক নেই। প্রতিটি কারাবন্দির জন্য আইনজীবী আছে। কিশোর অপরাধী ও সেফ কাস্টডি নেই।
তিনি আরও বলেন, দেশের অন্যান্য স্থানের চেয়ে বর্তমানে বগুড়া কারাগারের অবস্থা অনেক ভালো।
আরও পড়ুন-
উচ্ছেদ করছেন আইভী, বসাচ্ছেন শামীম ওসমান!
শিক্ষক রিপন চক্রবর্তী আশঙ্কামুক্ত: হামলাকারীরা হিজবুত তাহরীরের ‘বহিরাগত সদস্য’
/এআর/এফএস/







