
জালিয়াতি, দুর্নীতি, প্রতারণা ও অনিয়মের অভিযোগে জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের অধ্যক্ষ সায়ফুল ইসলামকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। একইসঙ্গে অধ্যক্ষ পদের এমপিও-সহ সব কার্যক্রমও স্থগিত করা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অধ্যক্ষ। কলেজের সহকারী অধ্যাপক মোফাজ্জল হোসেনকে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
হাইকোর্টের নির্দেশে এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও জেলা পরিষদ প্রশাসক এসএম সোলায়মান আলী।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, অধ্যক্ষ সায়ফুল ইসলাম একাডেমিক সার্টিফিকেটসহ এমপিও শিট জালিয়াতির মাধ্যমে কলেজের অধ্যক্ষ হয়েছেন। তার বিরুদ্ধে নারী কেলেঙ্কারি এবং বিভিন্ন সময় দুর্নীতি করে কলেজের মোটা অংকের অর্থ আত্মসাৎ করার অভিযোগ রয়েছে। এসব অভিযোগে কলেজের সাবেক সভাপতি নবীউল ইসলাম চৌধুরী মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের মহাপরিচালক ও অধ্যক্ষসহ ৬ জনকে বিবাদী করে হাইকোর্টে একটি রিট পিটিশন করেন। ১২ জুন শুনানি শেষ হাইকোর্ট অধ্যক্ষ সায়ফুল ইসলামকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করার নির্দেশসহ ৬ মাসের বেতন ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দেন। পাশাপাশি তার সব একাডেমিক সার্টিফিকেট জাল ও অধ্যক্ষ পদ বেআইনি ঘোষণার জন্য দ্রুত তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহণ করে চার সপ্তাহের মধ্যে তদন্ত রিপোর্ট দাখিল করতে শিক্ষা বোর্ডের মহাপরিচালককে নির্দেশ দিয়েছে আদালত।
নবীউল ইসলাম চৌধুরী বলেন, ‘সায়ফুল ইসলাম জালিয়াতি, অনিয়ম করে কলেজের অধ্যক্ষ পদ বাগিয়েছেন। অধ্যক্ষ হওয়ার পর থেকে তিনি দুর্নীতি করে কলেজের সরকারি অনেক টাকা আত্মসাৎও করেছেন। তার বিরুদ্ধে এসব সুনির্দিষ্ট অভিযোগ এনে হাইকোর্টে রিট পিটিশন দায়ের করার পর আদালত তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।’
কলেজ এর পরিচালনা কমিটির সভাপতি এসএম সোলায়মান আলী বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ মোতাবেক অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
অধ্যক্ষ সায়ফুল ইসলাম বলেন, তার বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ করা হয়েছে অনেক আগে তা আদালতে মিথ্যা বলে প্রমাণিত হয়েছে। সেই থেকে মামলাটি স্থগিত (কোয়াশ) হয়ে আছে। সাবেক সভাপতি গোপনে সেই মামলা অন্য বেঞ্চে নিয়ে ওই নির্দেশনা নিয়ে এসেছেন। ওই বেঞ্চে তিনি মুভ করলেই এই আদেশও স্থগিত হয়ে যাবে।
বরখাস্তের বিষয়ে তিনি বলেন, সভাপতিকে ভুল বোঝানোর ফলে তিনি এই ব্যবস্থা নিয়েছেন। কমিটি ছাড়া বরখাস্ত করা যায় না।
আরও পড়ুন: বিস্কুট খেতে স্কুলে যাচ্ছে ৩০ লাখ শিক্ষার্থী,ঝরে পড়ার হার ৬ শতাংশ
/এসটি/








