নতুন নকশায় ঈদ বাজারে এসেছে রাজশাহী সিল্ক

রাজশাহী প্রতিনিধি
২২ জুন ২০১৬, ১৫:১৫আপডেট : ২২ জুন ২০১৬, ১৫:১৫

নতুন নকশায় ঈদ বাজারে এসেছে রাজশাহী সিল্ক ঈদে সিল্কের তৈরি কাপড়ের আলাদা কদর থাকে। তাই ব্যবসায়ীরাও ক্রেতাদের আকৃষ্ট করতে প্রতি বছর নতুন নতুন নকশায় ও বাহারি রঙে তৈরি করেন সিল্কের কাপড়। বসান পুঁথি ও চুমকি। কাপড়ের বুনন, রঙ লাগানো আর হাতের কাজকে ঘিরে কর্মব্যস্ত হয়ে ওঠে রাজশাহী মহানগরীর সপুরাস্থ সিল্ক পল্লী। ইতিমধ্যে সিল্কের শোরুমগুলো সেজেছে বাহারি পোশাকে। ঈদ ঘনিয়ে আসায় বাড়ছে ক্রেতাদের ভিড়। তবে আমদানি করা সুতা ও রঙের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় পোশাকের দাম কিছুটা বেড়েছে বলে জানান ব্যবসায়ীরা।

ব্যবসায়ীরা জানান, ঈদকে ঘিরে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ কোটি টাকার ব্যবসা হয়। তাদের ধারণা রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার কারণে এবার ব্যবসা আরো ভালো হবে। তবে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্ত দিয়ে প্রচুর পরিমাণে ভারতীয় শাড়ি আসায় ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।


নতুন নকশায় ঈদ বাজারে এসেছে রাজশাহী সিল্ক রাজশাহীর বিসিক সপুরা এলাকায় অবস্থিত সিল্ক পল্লীতে গিয়ে দেখা যায়, কারিগররা সবাই কাজে ব্যস্ত। নারী কর্মীদের মধ্যে কেউ সুঁই সুতোর ফোঁড়নে কাপড়ে আঁকছেন বাহারি নকশা। কেউ করছেন রঙের কাজ। আবার কেউ কাপড়ে চুমকি ও পুঁথি বসানোর কাজও করছেন। কেউ চালাচ্ছেন তাঁত।

খোঁজ নিয়ে জানা গেল, প্রায় ১২/১৪ হাজার নারী রাজশাহী অঞ্চলে এই কাজের সঙ্গে যুক্ত। এই বিপুল সংখ্যার বেশিরভাগ নারী বাড়িতে বসে কাজের অর্ডার নিয়ে সুঁই সুতোর ফোঁড়নে আঁকছেন নতুন ডিজাইন।

সিল্ক পল্লীতে কাজ করা নারী শ্রমিক আখতারুন নেসা মালা জানান, ভোর ৬টায় এসে একবারে রাত ১২টায় কাজ শেষ করে বাসায় যাই। এর মধ্যে শুধু ইফতারের সময় কিছুটা বিরতি পাওয়া যায়। ক্রেতাদের চাহিদাকে প্রাধান্য দিয়ে এবারও ঈদের বাজারে এসেছে বাহারি ডিজাইনের পোশাক।

এর মধ্যেই দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ক্রেতারা আসতে শুরু করেছেন রাজশাহীর সিল্ক হাউসগুলোয়। বিসিক শিল্প নগরী এলাকায় রেশম কারখানাগুলোতেই গড়ে উঠেছে ১৩টি শো-রুম। আমেনা বেগম নামের এক সেনা কর্মকর্তার স্ত্রী ঢাকা থেকে রাজশাহীতে এসেছেন রেশমের পোশাক কিনতে। সপুরা সিল্কের শো-রুম থেকে তিনি ২৫ হাজার টাকার কেনাকাটা করেছেন।

নতুন নকশায় ঈদ বাজারে এসেছে রাজশাহী সিল্ক এবার সপুরা সিল্ক সিল্কের সঙ্গে মিলিয়ে প্রিন্ট, স্ট্রাইপ ও নানান ডিজাইনের পাঞ্জাবি তৈরি করেছে। এছাড়া মসলিনের ওপর ব্লক করা থ্রি পিসও এনেছে। সপুরা সিল্কে বিভিন্ন ডিজাইনের মসলিন সিল্কের তৈরি পোশাক বিক্রি হচ্ছে চার হাজার থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত। এছাড়া সফট সিল্ক, বলাকা সিল্ক, ধুপিয়ান, কাতান সিল্কের শাড়ি দেড় হাজার থেকে সাত হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ব্লকের উপর হাতের কাজের রেশম কাপড়ের থ্রি পিস বিক্রি হচ্ছে তিন থেকে ১০ হাজার, পাঞ্জাবি আড়াই থেকে ৫ হাজার, শার্ট ও ফতুয়া এক হাজার থেকে আড়াই হাজার টাকা পর্যন্ত দামে বিক্রি হচ্ছে।

সপুরা সিল্ক মিলস লিমিটেডের চেয়ারম্যান সদর আলী জানান, রেশমের কারখানা এক সময় শুধু শাড়ি ভিত্তিক ছিল। কিন্তু নারীদের মধ্যে শাড়ি পড়ার প্রচলন কমে যাওয়ায় এখন থ্রিপিচ তৈরি করতে হচ্ছে। এ শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে প্রতি বছর আধুনিক ও নতুন নতুন ডিজাইনের থ্রি পিস, ওড়না, হিজাব, পাঞ্জাবি, শার্ট ও ফতুয়া তৈরি করা হয়।

সদর আলী আরও জানান, ঈদের প্রস্তুতি এক বছর আগে থেকে নেওয়া হয়। ডিজাইনের বিষয়ে চলতি ট্রেন্ড, সিনেমায় জনপ্রিয় পোশাক ও আবহাওয়াকে গুরুত্ব দেওয়া হয়। এ জন্য নিজস্ব কারখানার ২০০ শ্রমিক ছাড়াও দেশের বিভিন্ন জেলার প্রায় ১০ হাজার নারী এই শিল্পের সঙ্গে কাজ করেন। তারা অর্ডার নিয়ে বাড়িতে গিয়ে কাজ করেন।

নতুন নকশায় ঈদ বাজারে এসেছে রাজশাহী সিল্ক উষা সিল্কের শোরুমে পাওয়া যাচ্ছে, সিল্কের শাড়ি দেড় হাজার টাকা থেকে ১৫ হাজার টাকা পর্যন্ত। এতে অ্যামব্রোয়ডারি ও অ্যাপ্লিক করা হয়েছে। সিল্কের পাঞ্জাবি বিক্রি হচ্ছে অ্যামব্রোয়ডারি ও কারচুপির নকশায় ১৭০০ টাকা থেকে তিন হাজার টাকা পর্যন্ত। সিল্কের ফতুয়া ৪০০ থেকে ১২০০ টাকা পর্যন্ত, শার্ট ৫০০ থেকে ১৮০০ টাকা ও সিল্কের ব্যাগ ১৪০ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত দামে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া সিল্কের তৈরি নকশি কাঁথা বিক্রি হচ্ছে ২২০০ টাকা থেকে সাড়ে ৪ হাজার টাকা পর্যন্ত।

এছাড়া উষা সিল্ক ক্রেতাদের জন্য রেখেছেন বিভিন্ন ধরনের অফার। এতে ১০ হাজার টাকার পণ্য কিনলে ক্রেতারা পাবেন দুই বছরের জন্য উষার সিল্কের প্ল্যাটিনাম মেম্বারশিপ। প্ল্যাটিনাম মেম্বাররা সব পণ্যে ১০ শতাংশ ডিসকাউন্ট পাবেন। এছাড়াও রয়েছে বিভিন্ন ডিসকাউন্ট।

উষা সিল্ক ইন্ডাস্ট্রিজের জেনারেল ম্যানেজার জহুরুল ইসলাম বলেন, ‘রাজশাহী ও ঢাকা দুই জায়গাতেই আমাদের বিক্রি ভালো হচ্ছে। ঢাকায় শোরুম থাকার পরও দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে ক্রেতারা এসে পোশাক কিনে নিয়ে যাচ্ছেন। অনেকে পাইকারিভাবে অনেক পণ্য কিনে বিদেশে উপহার পাঠাচ্ছেন।’

মহুয়া সিল্কের প্রোপাইটার ও বাংলাদেশ রেশম শিল্প মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আরিফ আহসান টিটো বলেন, তার দোকানে সিল্কের শাড়ি ও পাঞ্জাবি বেশি বিক্রি হচ্ছে। তিনি সব পণ্যের ওপর ১৫ শতাংশ ছাড় দিয়েছেন।

সপুরা সিল্কের শো-রুমের ম্যানেজার সাইদুর রহমান জানান, ঈদকে সামনে রেখে এবং সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে রেশম কাপড়ের শাড়ি ছাড়াও নতুন নতুন কালার ও ডিজাইনের পোশাক তৈরি করা হয়েছে। বিশেষ করে সব ঋতুতে পড়ার উপযোগী করে এবার বিভিন্ন ডিজাইনের মসলিন সিল্কের পোশাক তৈরি করা হয়েছে।

আরও পড়ুন:

জমে উঠেছে ঈদ বাজার, জনপ্রিয়তার শীর্ষে ভারতীয় পোশাক 

/বিটি/এসটি/

সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
যেখানে সকালে বারান্দায় এলেই দেখা মেলে জোড়া রংধনুর
যেখানে সকালে বারান্দায় এলেই দেখা মেলে জোড়া রংধনুর
সরকারি কর্মকর্তাদের বিদেশ সফরের আড়ালে কী
সরকারি কর্মকর্তাদের বিদেশ সফরের আড়ালে কী
গরমে শিশুর সুরক্ষা: সামান্য ভুলও ডেকে আনতে পারে বড় বিপদ
গরমে শিশুর সুরক্ষা: সামান্য ভুলও ডেকে আনতে পারে বড় বিপদ
থানার ভেতরে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতাকে পিটিয়ে আহত, ৩ পুলিশ প্রত্যাহার
থানার ভেতরে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতাকে পিটিয়ে আহত, ৩ পুলিশ প্রত্যাহার
সর্বাধিক পঠিত
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম