নাটোরের নলডাঙ্গায় আত্রাই নদীর ওপর নির্মাণাধীন একটি ব্রিজের ধসে এলজিইডির প্রকৌশলীসহ অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে দুই জনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় নাটোর সদর হাসাপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। রবিবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে উপজেলার খাজুরা ইউনিয়ন পরিষদের পেছনে আত্রাই নদীর ওপর ব্রিজে ঢালাই করার সময় এ ঘটনা ঘটে।
শ্রমিকের সর্দার বিশ্বনাথ দাস ও স্থানীয়রা জানান, আত্রাই নদীর ওপর নির্মাণাধীন ব্রিজটির ঢালাইয়ের কাজ করছিল ৫৫ জন শ্রমিক। কাজ চলাকালীন সময়ে সন্ধ্যা ৬টার দিকে হঠাৎ করে ব্রিজের ৩টি গার্ডার ধসে পড়ে। এতে এলজিইডির উপ-সহকারী প্রকৌশলী রুহুল আমীন, শ্রমিক সেন্টু ,বাসু ,গোপেন, সুবোল ,মহাদেব ,মনাসহ অন্তত ১০ জন শ্রমিক আহত হয়। আহতদের মধ্যে আশঙ্কাজনক অবস্থায় মহাদেব ও মনাকে নাটোর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অন্যদের স্থানীয় বিভিন্ন ক্লিনিকে ও স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
নাটোর এলজিডিইডি অফিস সূত্র জানায়, সাড়ে ৭ কোটি টাকা ব্যায়ে ব্রিজটি নির্মাণ কাজের ঠিকাদার ছিলেন নাটোর সদর আসনের সংসদ সদ্যস্য শফিকুল ইসলাম শিমুলের ভগ্নিপতি আমিরুল ইসলাম জাহান ।
নলডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুবীর দত্ত জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। আহতদের উদ্ধার করে নাটোর সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
এ ব্যাপারে এলজিইডি’র নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুর রহিমের মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ব্যস্ত আছি বলে বলে ফোন সংযোগ বিছিন্ন করে দেন।
নলডাঙ্গা উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা শারমিন আক্তার জাহান বলেন, ব্রিজটির নির্মাণ কাজের দায়িত্বে ছিলেন সদর আসনের এমপি শফিকুল ইসলাম শিমুলের ভগ্নিপতি জাহান। তবে নির্মাণ ত্রুটির কারণে ব্রিজটি ভেঙ্গে পড়েছে কিনা সে ব্যাপারে তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। গঠিত কমিটি তদন্ত করার পর নির্মাণ ত্রুটির কারণে ভেঙে পড়লে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অভিযোগ রয়েছে, জেলার বেশির ভাগ ব্রিজ এবং রাস্তার কাজের ঠিকাদার সংসদ সদস্য শফিকুল ইসলাম শিমুলের এই ভগ্নিপতি। এর আগেও শহরের চেয়ারম্যান রোড এলাকায় একই ঠিকাদারের নির্মাণাধীন একটি ব্রিজের গার্ডার ভেঙে অন্তত ৬ জন শ্রমিক আহত হয়।
আরও পড়ুন: এক মাসেও উদঘাটিত হয়নি সুনীল হত্যা রহস্য
/এআর/








