কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে পদ্মার ভাঙনরোধে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ কাজ চলছে ধীর গতিতে। ফলে চলতি বন্যার আগে কাজ শেষ হওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।
বাঁধ নির্মাণ প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ফিলিপ নগর ইউনিয়নের ইসলামপুর থেকে গুলাবাড়ি পর্যন্ত প্রায় ১০৫ কোটি টাকা ব্যয়ে তিন কিস্তিতে প্রায় আড়াই কিলোমিটার পদ্মার ভাঙনরোধে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ করা হচ্ছে। এরমধ্যে জলবায়ু ট্রাস্ট এর মাধ্যমে ২০১৩ সালে ফিলিপনগর আবেদের ঘাট থেকে পূর্ব দিকে ৫৭৫ মিটার স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের জন্য প্রায় ২৩ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। ছয়জন ঠিকাদার ৭টি গ্রুপে ভাগ হয়ে বাঁধ নির্মাণ কাজ শুরু করেন। পরে কাজে অনিয়ম ও এলাকাবাসীর সঙ্গে বাঁধ নির্মাণ নিয়ে জটিলতা সৃষ্টি হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কাজ বন্ধ করে দেন। এরপর ২০১৫ সালে ওই এলাকায় ২১শ’ মিটার এলাকার ভাঙনরোধে স্থায়ী বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ নির্মাণের জন্য একনেক ৮৩ কোটি ৫২ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়। এরমধ্যে ইসলামপুর থেকে আবেদের ঘাট পর্যন্ত ১২৫০ মিটার এলাকায় বাঁধ নির্মাণের জন্য দরপত্রের মাধ্যমে ঠিকাদার নিয়োগ দিয়ে একই বছরের শেষের দিকে কাজ শুরু হয়। যে কাজ এখনও চলছে। সাতজন ঠিকাদার ১১টি গ্রুপে ভাগ হয়ে বাঁধ নির্মাণ কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে নিচ্ছেন। এরইমধ্যে পদ্মা নদীর পাড় থেকে নদীর তলদেশ পর্যন্ত দরপত্রে উল্লেখিত নির্ধারিত পরিমাপের বালি জিও ব্যাগে ভরে পানিতে ফেলা হয়েছে।
তবে স্থানীয় ওরুশ কবিরাজসহ এলাকার বেশ কয়েকজন বাসিন্দা অভিযোগ করেন, নির্ধারিত পরিমাণ বালির পরিবর্তে মাটি, কাদা ও গোবর বস্তায় ভরে নদীর তলদেশে ফেলা হয়েছে। দায়সারা এই কাজের ফলে বাঁধ নির্মাণে দেখা দিয়েছে ত্রুটি।
তবে এই অভিযোগ অস্বীকার করে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার শরিফুল কবীর স্বপন বলেছেন, একটি স্বার্থান্বেষী মহল ও গোষ্ঠী ব্যক্তিস্বার্থ চরিতার্থ করতে ব্যর্থ হয়ে অপপ্রচার চালাচ্ছে যা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।
এদিকে, এই প্রকল্পের অংশ হিসেবে তৃতীয় কিস্তির অর্থাৎ ফিলিপনগর হাইস্কুল এলাকা থেকে গুলাবাড়ি পর্যন্ত ৮৫০ মিটার বাঁধ নির্মাণ কাজেও দরপত্র আহ্বানের মাধ্যমে ঠিকাদার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
এই অংশে চারজন ঠিকাদার ৬টি গ্রুপে ভাগ হয়ে বাঁধ নির্মাণ কাজ করবেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। তবে চলতি মৌসুমে বন্যা শেষ হলে তারা কাজ শুরু করবেন বলে জানিয়েছেন এই চার ঠিকাদার।
/জেবি/টিএন/
আপ: এইচকে








