ঈদের বাজারে বাড়ছে আতপ চালের বাজার দর। চালের বড় মোকাম নওগাঁয় এক সপ্তাহের ব্যবধানে প্রতি কেজি আতপ চালে বেড়েছে ১০ টাকা থেকে ১৫ টাকা পর্যন্ত। গতকাল শনিবার নওগাঁয় চালের খুচরা বাজারে গিয়ে দেখা গেছে এই চিত্র।
স্থানীয় খুচরা ব্যবসায়ীরা জানান,কেজি প্রতি সুগন্ধি-কালজিড়া আতপ চাল ১০০ টাকা ও চিনিগুড়া ৯৫ থেকে ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া গন্ধহীন- কাটারি আতপ ৫০ টাকা, চম্পা কাটারি ৪৮ টাকা, মোয়াজ্জিম আতপ প্রকারভেদে ৪৫ টাকা থেকে ৪৮ টাকা ও পাইজাম ও অন্যান্য জাতের আতপ চাল বিক্রি হচ্ছে ৪৫ টাকা থেকে ৪৮ টাকা কেজি দরে।
খুচরা ব্যবসায়ী আহসান হাবীব জানান,আতপের বাজার দরের ঊর্ধ্বগতি শুরু হয়েছে রমজানের শুরু থেকেই। সপ্তাহ খানেক আগে সুগন্ধি জাতের চালের কেজি ছিল ৮৫ টাকা থেকে ৯০ টাকা। রমজানের শুরুতে ছিল আরও কম। কিন্তু যতোই ঈদ ঘনিয়ে আসছে ততোই বাজার দর বাড়ছে। তিনি জানান, এক সপ্তাহের ব্যবধানে সুগন্ধি চালে ১০ টাকা থেকে ১৫ টাকা ও প্রকারভেদে গন্ধহীন আতপ চালে বেড়েছে ৫ থেকে ৮ টাকা পর্যন্ত। বাজার দরের ঊর্ধ্বমুখী অবস্থা কোরবানির ঈদ পর্যন্ত থাকবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। উজ্জ্বল কুমার নামে আরেক ব্যবসায়ী জানান, প্রতি বছরই রোজার ঈদ থেকে কোরবানির ঈদ পর্যন্ত আতপ চাউলের বাজার দর অস্থির থাকে।
দর বৃদ্ধির কারণ হিসেবে তিনি বলেন, আতপ চালের ব্যবসা নির্দিষ্ট কিছু মিল ব্যবসায়ী ও আড়তদারদের হাতে। তারা সিন্ডিকেট করে ধান সংগ্রহের পর ঈদ মওসুমে নানা অজুহাতে বাজার দর বৃদ্ধি করে। সিন্ডিকেটের ব্যবসায়ীরা ইচ্ছা করলে চালের দাম কমাতে বা বাড়াতে পারে। কারণ তাদের নিজস্ব গুদামে শত-শত বস্তা ধান মজুদ থাকে।
খুচরা ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করে বলেন, মিল ব্যবসায়ী ও আড়তদাররা সিন্ডিকেট করে দর বৃদ্ধির মাধ্যমে চলতি মওসুমে ৮ থেকে ১০ কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে।
এ বিষয়ে নওগাঁ জেলা চাল কল মালিক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক ফরহাদ চকদার বলেন, বছরের মাত্র একটি মওসুমে সুগন্ধি ধানের উৎপাদন হয়। তাই পরবর্তী মওসুমের আগে বেশি দরেও পাওয়া যায় না ধান। তাই চালের দরও বাড়ে। এ ছাড়া ঈদ মওসুমে চাহিদা দুই থেকে তিন গুণ বেড়ে যাওয়ায় খুচরা বাজারে কিছুটা দর বাড়ে।
সিন্ডিকেট করে দর বাড়ার বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযোগটি মিথ্যা দাবি করেন তিনি বলেন, দেশের বেশ কয়েকটি জেলায় একাধিক চাল ব্যাবসায়ী আতপ চাল উৎপাদন করে। সুতরাং সিন্ডিকেট করে দর বাড়ানোর সুযোগ নেই।
প্রসঙ্গত, ধান চালের সর্ববৃহৎ মোকাম নওগাঁর ১১টি উপজেলায় ৮ থেকে ১০টি মিলে প্রতিদিন প্রায় ১০০ মেট্রিক টন আতপ চাউল উৎপাদন হয়। এসব চালের সিংহভাগই সরবরাহ করা হয় রাজধানী ঢাকা ও চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন খুচরা ও পাইকারি মোকামে।
/জেবি/টিএন/
আপ: এইচকে
আরও পড়ুন: কুষ্টিয়ায় পদ্মার ভাঙন রোধে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণে ধীরগতি








