সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ার মোহনপুরের বঙ্কিরহাটে এক আদম ব্যবসায়ীর ভাইকে ক্রসফায়ারের ভয় দেখিয়ে ২ লাখ টাকা ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে উল্লাপাড়ার মডেল থানার দুই উপ-পরিদর্শক (এসআই) এর বিরুদ্ধে। বিষয়টি ফাঁস হলে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার ভয়ে ওসি ও স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানের সমঝোতায় ঘুষের টাকা ফেরত দেন ওই দুই এসআই। ঘটনাটি শুক্রবার (১৫ জুলাই) ঘটলেও বিষয়টি কৌশলে গোপন রাখা হয়।
স্থানীয় সূত্র জানায়, উল্লাপাড়ার লাহিড়ী মোহনপুর ইউনিয়নের বঙ্কির হাট গ্রামের হাজী রমজান আলীর বড় ছেলে আদম ব্যাপারী হাসান আলী গত ২০ বছর ধরে মালয়েশিয়ায় রয়েছেন। মালয়েশিয়ায় লোক পাঠানোর কথা বলে উল্লাপাড়া ও পাবনা জেলার বেশ কিছু লোকজনের নিকট আগাম টাকা নিলেও শেষ পর্যন্ত বেশ ক’জনকে পাঠাতে পারেনি।
পাওনাদারদের এমন অভিযোগের ভিত্তিতে তাদের ক’জনকে নিয়ে উল্লাপাড়ার মডেল থানার এসআই আসলাম হোসেন ও এসআই শাহ আলম শুক্রবার রাতে রমজান আলীর বাড়িতে অভিযান চালান। আদম ব্যাবসায়ী হাসানকে না পেয়ে ছোট ভাই সোহেলকে ধরে স্বজনদের সামনে হাতকড়া পরিয়ে বেধড়ক মারধর করেন তারা।
এক পর্যায়ে ক্রসফায়ারের ভয়ভীতি দেখিয়ে দুই এসআই দু’লাখ টাকা দাবি করেন। স্থানীয় ইউপি সদস্য মিঠু ও ইউপি সদস্য মনির সহায়তায় নগদ ৬০ হাজার টাকা এবং স্ট্যাপে লিখিত করে পরদিন সকালে আরো ১ লাখ ৪০ হাজার দেওয়া হবে বলে অঙ্গীকারের পর পুলিশ সোহেলকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
ঘটনাটি ফাঁস হলে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের ভয়ে ওসি ও মোহনপুর ইউপি চেয়ারম্যানের সমঝোতায় উৎকোচের টাকা ফেরত দেন ওই দুই দারোগা।
জেলা কৃষকলীগ সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান মনি ও জেলা আইনজীবি সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. নাসিম আব্দুল হাকিম বলেন, বিষয়টি জেনে মোবাইলে দারোগা শাহ আলমকে পুলিশ সুপারের ভয় দেখালে দারোগারা টাকা ফেরত দেন বলে শুনেছি।
এ বিষয়ে সোহেল বলেন, আমার বড় ভাই ২০ বছর ধরে মালয়েশিয়া থাকেন। তার সঙ্গে যাই-ই হোক আমি কোনও অপরাধ করিনি। স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মিমাংসা করে দিয়েছেন। মোহনপুর ইউপি চেয়ারম্যান শক্তি মির্জা বলেন, উল্লাপাড়া থানার ওসিকে নিয়ে বিষয়টির মিমাংসা হয়েছে।
উল্লাপাড়া মডেল থানার ওসি দেওয়ান কৌশিক আহম্মেদ বলেন, আদম ব্যাপারীর নিকট পাওনাদারদের পাওনা টাকা উত্তোলনের ঘটনা। বিষয়টি স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানের উপস্থিতিতে মিমাংসা করা হয়েছে। ক্রসফায়ারের ভয় দেখিয়ে টাকা নেওয়া ও স্টাম্পে লিখিয়ে নেওয়ার বিষয়টিও আমিও প্রথমে শুনেছিলাম।
কিন্ত ওই দুই দারোগার বিরুদ্ধে অভিযোগ শেষ পর্যন্ত প্রমাণিত হয়নি। উৎকোচ নেওয়ার ঘটনা না ঘটলেও তা পুলিশের কথা বলে অন্য কেউ নিতে পারে। এরপরও আমি ওই দারোগাকে সতর্ক করে দিয়েছি।
এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযানের নেতৃত্বদানকারী এসআই আসলাম উদ্দিন বলেন, এক মানব পাচারের আসামি ধরার জন্য এসআই শাহ আলমসহ আমরা বেশ কয়জন সেখানে যাই। সোহেলকে ধরা হলেও বাবার নাম গড়মিল থাকায় ইউপি সদস্যদের জিম্মায় তাকে ছাড়া হয়। ক্রস ফায়ারের ভয়ভীতি বা উৎকোচ নেওয়ার ঘটনায় আমরা সম্পৃক্ত নই। হয়তো স্থানীয় দালালরা এ ধরনের ভয় দেখাতে পারে।
/এইচকে/
আরও পড়ুন: হবিগঞ্জে এক হাফেজ পাঁচ মাস ধরে নিখোঁজ








